প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

ছবি ও ভিডিও যেন আমাদের ইবাদতেরমহিমাকে ম্লান না করে

ছবি ও ভিডিও যেন আমাদের ইবাদতেরমহিমাকে ম্লান না করে

মাওলানা মুহাম্মদ মামুন


আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত—বন্দেগী করার জন্য। কোরআনে কারীমে তিনি ইরশাদ করেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَ الْاِنْسَ  اِلَّا لِیَعْبُدُوْنِ.

আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।—সূরা যারিয়াত, ৫১ : ৫৬

আমরা আল্লাহর বান্দা। বান্দা বা গোলামের কাজ হলো মালিকের নির্দেশ পালন করা। ইবাদত ও বন্দেগীই হলো বান্দার কাজ। ইবাদত যেহেতু আল্লাহ পাকের নির্দেশ তাই পালিতও হতে হবে আল্লাহ পাকের নির্দেশিত পন্থায়। মনে রাখা জরুরি, শরীয়তে ইবাদতের কিছু গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। সে বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে ইবাদত করা কর্তব্য।

ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ চারটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে :

এক. পূর্ণ তাওহীদ ও ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করা। এর জন্য সকল প্রকার শিরক থেকে মুক্ত হতে হবে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ  وَنُسُکِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ  لِلهِ  رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۶۲﴾ۙ  لَا شَرِیْکَ لَهٗ    ۚ وَ بِذٰلِکَ اُمِرْتُ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِیْنَ ﴿۱۶۳﴾

(হে নবী) আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর এই বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। সুতরাং আমি হলাম আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম।—সূরা আনআম, ৬ : ১৬২—১৬৩

অন্যত্র ইরশাদ করেন,

فَمَنْ کَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلْیَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَّ لَا یُشْرِكْ بِعِبَادَۃِ  رَبِّهٖۤ  اَحَدًا.

সুতরাং যে কেউ আপন রবের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে সে যেন নেক আমল করে এবং আপন রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।—সূরা কাহফ, ১৮ : ১১০

কোরবানীর ইবাদতের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে,

لَنْ یَّنَالَ اللهَ  لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰکِنْ یَّنَالُهُ التَّقْوٰی مِنْكُمْ.

আল্লাহর নিকট কোরবানীর পশুর গোশত, রক্ত কিছুই পেঁৗছে না, তবে তোমাদের তাকওয়া (অর্থাৎ তাওহীদ ও ইখলাস) পেঁৗছে।—সূরা হজ, ২২ : ৩৭

দুই. মহব্বতের সঙ্গে ইবাদত করা। পূর্ণ মহব্বত ও ভালোবাসা ছাড়া ইবাদতের দাবি পূরণ হয় না।

তিন. আল্লাহর সামনে চূড়ান্ত বিনয় ও হীনতা প্রকাশের মাধ্যমে ইবাদত আদায় করা।—আলউবুদিয়্যাহ, ইবনে তাইমিয়া রহ. : ০৬; শরহুশ শামায়েল, আব্দুর রউফ আলমুনাভী : ২/৬৪

চার. ইহসান তথা সদা—সর্বদা আল্লাহর যিকির ও স্মরণ হৃদয়ে জাগ্রত রেখে ইবাদত করা। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন,

أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.

আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করো যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ। কারণ, তুমি তাকে দেখতে না পেলেও তিনি ঠিকই তোমাকে দেখছেন।—সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০, সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দুটি দুম্বা জবাই করলেন। জবাইয়ের সময় সেগুলোকে কেবলামুখী করে শুইয়ে দিয়ে আল্লাহর দরবারে নিবেদন করলেন,

اِنِّـیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ عَلٰى مِلَّةِ اِبْرَاهِيْمَ حَنِیْفًا وَّمَاۤ  اَنَا مِنَ الْمُشْرِکِیْنَ، اِنَّ صَلَاتِـیْ  وَنُسُکِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِـیْ  لِلهِ  رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ، لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ بِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ،اَللّٰهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مَحَمَّدٍ وَاُمَّتِه، بِسْمِ اللهِ وَاللهُ اَكْبَرُ .

অর্থ : আমি একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের দ্বীনের ওপরে থেকে সে সত্তার অভিমুখী হলাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আর আমি শিরককারীদের অন্তভুর্ক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর এই বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। সুতরাং আমি হলাম আত্মসমর্পণকারীদের একজন। হে আল্লাহ, এ পশু আপনারই দান এবং আপনার জন্য তা নিবেদন করছি মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে। আল্লাহর নামে জবাই করছি। আল্লাহ সবচেয়ে বড় ও মহান।—সুনানে আবু দাঊদ, হাদীস নং : ২৭৯৫

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর কোরবানীর এ চিত্রে পূর্ণ তাওহীদ, ইখলাস, মহব্বত, চূড়ান্ত বিনয় ও সিফাতে ইহসান চিত্রায়িত হয়েছে সুন্দরভাবে। আমাদের প্রতিটি ইবাদতে এ গুণ ও বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা কর্তব্য।

মনে রাখতে হবে ইবাদতের স্তম্ভ বা ভিত্তিমূল দুটি বিষয় :

এক. ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই হবে, অন্য কারও জন্যে নয়।

দুই. ইবাদতের যে পন্থা ও পদ্ধতি আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করেছেন সে অনুযায়ী আদায় করতে হবে। মনগড়া কোনো পন্থা গ্রহণযোগ্য নয়। (অর্থাৎ ইবাদতটি সুন্নাহসম্মত পন্থায় হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইবাদত যে পদ্ধতিতে নিজে আদায় করেছেন এবং প্রিয় সাহাবীদের শিখিয়েছেন, সেই পদ্ধতিতেই ইবাদতটি আদায় করা।)—আলউবুদিয়্যাহ : ১৭

ইবাদতের ভিত্তিমূল ও বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে আদায় করা হলে তা প্রকৃত ইবাদত গণ্য হয়। মহান রবের সামনে নগণ্য বান্দার নিবেদন প্রকাশ পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা এখন অনেক ইবাদতকেই গ্রহণ করেছি একটি সংস্কৃতি হিসেবে। সামাজিক বা পারিবারিক রীতি হিসেবে। এর চেয়ে বেশি কিছু নেই। তাই দেখা যায়, সে ইবাদত পালনে পারিবারিক ও সামাজিক রীতি—নীতি রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও শরীয়ত ও সুন্নতে নববীর কোনো নির্দেশনারই তোয়াক্কা করা হয় না। ব্যাপারটি এমন হলে কি এটাকে আর ইবাদত বলা যায়? এর চেয়েও মারাত্মক ব্যাপার হলো অনেকে ইবাদতকে নিছক বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করে। নাউযুবিল্লাহ।

প্রকৃত বান্দার ইবাদতের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, ইবাদত আদায়ের পর ইস্তেগফার করা। ইবাদতের হক আদায় করতে না পারার কারণে ভীত—সন্ত্রস্ত থাকা, যদি তা কবুল না হয়। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করতে থাকা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুত্তাকী বান্দার গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,

کَانُوْا  قَلِیْلًا مِّنَ الَّیْلِ مَا یَهْجَعُوْنَ ﴿۱۷﴾ وَ بِالْاَسْحَارِ هُمْ  یَسْتَغْفِرُوْنَ ﴿۱۸﴾

তারা রাতে খুব কমই বিশ্রাম করত। (রাতে ইবাদত—বন্দেগী করার পর) শেষরাতে (আল্লাহর দরবারে) ক্ষমা প্রার্থনা করত।—সূরা যারিয়াত, ৫১ :  ১৭, ১৮

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,

قَالُوْۤا اِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِیْۤ  اَهْلِنَا مُشْفِقِیْنَ ﴿۲۶﴾

(জান্নাতে পরস্পরে কথাবার্তার সময়) তারা বলবে আমরা (দুনিয়াতে) পরিবার—পরিজনের সাথে ভীত ছিলাম (আমল কবুলের বিষয়ে)।—সূরা তুর, ৫২ : ২৬

বোঝা গেল, আমাদের সকল ইবাদত হতে হবে পূর্ণ তাওহীদ ও ইখলাসের সাথে, ভক্তি—ভালোবাসা ও চূড়ান্ত বিনয় প্রকাশের সাথে। আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত রাখা অবস্থায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শেখানো পদ্ধতিতে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, আমাদের ইবাদতের সে প্রাণ ও প্রেরণা দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্যামেরায় ছবি ও ভিডিও ধারণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের সংস্কৃতি আমাদের হজ, কোরবানী, যাকাত, সদাকাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মহিমা ম্লান করে দিচ্ছে।

হজে রওনা হওয়ার সময় ইহরাম বেঁধে পোজ দেওয়া, কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা, তওয়াফ, সায়ী ও পাথর নিক্ষেপের ছবি ধারণ করা ও ইন্টারনেটে প্রচার করার মতো দুঃখজনক কাণ্ড নির্দ্বিধায় করা হচ্ছে। কোরবানীর পশু জবাইয়ের সময় তো ছবি ধারণের হিড়িক পড়ে যায়। এমনকি জবাই করা পশুটি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তখনও কিছু মানুষ পরম আনন্দে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকে। যেখানে হাদীসের নির্দেশনা হলো, এমনভাবে দান করবে যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত না জানে, সেখানে দানের ছবি প্রচার করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। পরিস্থিতির শিকার ভদ্র মানুষজন পরিচিতদের কাছে দান গ্রহণের দৃশ্য প্রকাশের ভয়ে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দান গ্রহণের জন্য আসতে পারেন না। হজ কি কেবলই একটি সফর? বাইতুল্লাহ, মসজিদে হারাম, মিনা, মুযদালিফা ও মদীনাতুন্নবী কি নিছক কোনো পর্যটনকেন্দ্র? কোরবানীর পশু জবাই কি গোশত খাওয়ার উল্লাস? নাকি পশুর রক্ত প্রবাহিত করার আনন্দ? দান—সদাকা কি নিজের দল ও প্রতিষ্ঠানের নাম কুড়ানোর মাধ্যম?

হাদীস শরীফে আছে, কেয়ামতের পূর্বে আমার উম্মতের ধনীরা হজ করবে পর্যটন ও বিনোদন হিসেবে। মধ্যবিত্তরা ব্যবসার জন্য, গরিবরা ভিক্ষাবৃত্তির জন্য।—ফাজায়েলে হজ : ১৬

হজ তো মহামান্য মালিকের দরবারে নগণ্য গোলামের হাজিরি। যেখানে গোলাম প্রতি মুহূর্তে মালিকের দরবারের আদবের প্রতি লক্ষ রাখে। কোনো ভুল হয়ে যায় কি না সে জন্য সদা সতর্ক থাকে। কোরবানী তো বিনা বাক্যব্যয়ে মালিকের নির্দেশনা পালন করে নেওয়ার ইবরাহীমি চেতনা জাগ্রত করার প্রশিক্ষণ। দান—সদাকাহ তো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে  সে সম্পদ থেকে আল্লাহর বান্দাদের সহযোগিতা করা, যা দয়া ও অনুগ্রহ করে তিনিই আমাকে দিয়েছেন এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে এতে তাদের হক রয়েছে। বিষয়গুলোকে এভাবে গ্রহণ করলে কি কারও পক্ষে মোবাইল ও ক্যামেরা নিয়ে আত্মপ্রচারে ব্যস্ত হওয়া সম্ভব?

হাদীসে এসেছে, যে অন্যকে দেখানোর জন্য নামায পড়ল সে শিরক করল। যে অন্যকে দেখানোর জন্য রোযা রাখল সে শিরক করল। যে অন্যকে দেখানোর জন্য দান করল সে শিরক করল।—মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী, হাদীস নং—১২১৬

ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহ. বলেন,

لَمْ يصدقِ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ أَحَبَّ الشُّهْرَةَ.

যে নেক কাজ করে সুনামের আশা রাখে সে আল্লাহর সাথে সত্যবাদী নয়।—কিতাবুয যুহদ, আহমদ ইবনে হাম্বল, পৃ. ৪৫৯

সেলফি তোলা, ভিডিও করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা ইত্যাদির মাধ্যমে ইবাদতের বৈশিষ্ট্যকে ক্ষুণ্ণ করা হয়, প্রাণহীন করা হয়।

তাহলে ঈদুল আযহার দিন মুসলমান কী কারণে আনন্দিত হবে? ঈদুল আযহার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নগণ্য বান্দাকে স্বীয় অনুগ্রহে কোরবানীর মতো মহান ইবাদত করার তাওফীক দিয়েছেন—সে জন্য মুমিন ঈদুল আযহার দিন আনন্দিত। এবং এ কারণেও আনন্দিত যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা সীমাহীন সওয়াব দান করবেন। হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ القِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا، وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا.

কেয়ামতের দিন ওই পশুকে পশম, শিং ও খুরসহ উপস্থিত করা হবে (যেন নেকীর পাল্লা ভারী হয়)। কোরবানীকৃত পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা এ ব্যাপারে আনন্দিত হও।—তিরমিযী : ১৪৯৩

তাই তো সাহাবায়ে কেরামকে ঈদের দিন পরস্পরকে এ বলে সাদর সম্ভাষণ জানাতেন,

تَقَبَّلً اللهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ.

আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের সকলের আমল কবুল করে নিন।—ফাতহুল বারী

অতএব আল্লাহ পাকের দানে ধন্য হওয়ার আশা এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশাই হোক আমাদের ইবাদত—বন্দেগীর প্রাণ ও প্রেরণা। দুনিয়ার ঠুনকো কোনো চাহিদা যেন এ মাহাত্ম্যকে ম্লান না করে। ছবি তুলে প্রচার করার ফাঁদ যেন মহাপ্রতিদান থেকে বঞ্চনার কারণ না হয়। আমাদের হজ, কোরবানী, দান—সদাকাহ সবই যেন হয় কেবল তাঁর জন্য নিবেদিত। আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকুক :

اِنَّ صَلَاتِیْ  وَنُسُکِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ  لِلهِ  رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ.

নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য নিবেদিত।

لَا نُرِیْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً  وَّ لَا شُكُوْرًا.

আমরা তোমাদের থেকে কোনো বিনিময় চাই না। এমনকি তোমরা বিনিময়ে আমাদের প্রশংসা করো তা—ও চাই না।

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন