প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

তাফসীরুল কুরআনিল কারীম

তাফসীরুল কুরআনিল কারীম

মাওলানা মুতীউর রহমান


اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَکَهٗ  یَنَابِیْعَ فِی الْاَرْضِ ثُمَّ یُخْرِجُ بِهٖ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا  اَلْوَانُهٗ  ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَجْعَلُهٗ  حُطَامًا    ؕ اِنَّ فِیْ  ذٰلِکَ لَذِكْرٰی لِاُولِی الْاَلْبَابِ ﴿۲۱﴾

দেখো না যে, আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা জমিনের পরতসমূহে পৌঁছিয়েছেন, তারপর তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার শস্য উৎপন্ন করেন। অনন্তর তা শুকিয়ে যায়, অতএব তুমি তাকে হরিদ্রা বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য বড় উপদেশ রয়েছে।-সূরায়ে যুমার, ৩৯ : ২১

 

তাফসীর : বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার একটি বড় নেয়ামত। কারণ, পানির অপর নাম জীবন। জীবজন্তু, গাছপালা কিছুই বাঁচবে না পানি ছাড়া। আর যত প্রকার পানি আমরা দেখতে পাই সবগুলোই আসলে বৃষ্টির পানি থেকেই অর্জিত। বৃষ্টি বর্ষণের পর যদি আল্লাহ সেই পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে দিতেন তাহলে মানুষ বৃষ্টির পানি দ্বারা পুরোপুরি উপকৃত হতে পারত না। বরং সাময়িক কিছু সময়ের জন্য উপকৃত হতো। অথচ পানি এমন এক বস্তু যার প্রয়োজন সার্বক্ষণিক। তাই আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বর্ষণের সাথে সাথে তা সংরক্ষণের বিভিন্ন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একে তো কিছু পানি পুকুর হাউজ ইত্যাদিতে সংরক্ষিত থাকে। আর পানির বৃহৎ এক অংশ ভূগর্ভে সংরক্ষণ করে রাখেন। জমিনের পরতে পরতে পানি সংরক্ষিত থাকে আর সেই পানি কখনো ঝরনার মাধ্যমে আবার কখনো কূপ খননের মাধ্যমে মানুষের উপকারে আসে। আবার এ পানিই সুউচ্চ পাহাড়-পর্বতের চূড়ায় বরফ আকারে সংরক্ষণ করেন। যেমনইভাবে ভূগর্ভে সংরক্ষিত পানি পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে, তদ্রুপ পাহাড়-পর্বতের বরফ আকারে যে পানি সংরক্ষিত থাকে সেটাও পবিত্র, নির্মল এবং বিশুদ্ধ থাকে। সেই পানি কখনো গলে সরাসরি নদী-নালা দিয়ে লোকালয়ে এসে যায় আর মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়, আবার কখনো পর্বতের শিরা-উপশিরা দিয়ে ভূগর্ভে পৌঁছে যায় আর সেই পানি ঝরনা আকারে প্রকাশ পায় অথবা কূপ খনন করে বের করে নিয়ে আসা হয়। আল্লাহু আকবার। আল্লাহ তাআলা কতই-না সুন্দর পদ্ধতিতে পানি সংরক্ষণ করে মানুষের উপকার সাধন করছেন।

সূরায়ে মু’মিনূনের এক আয়াতে আছে—

وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسْکَنّٰهُ  فِی الْاَرْضِ

আর আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছি এক সুনির্দিষ্ট পরিমাণে। অতঃপর তা জমিনে জমা করে রেখে দিয়েছি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এটি আরেকটি নেয়ামত ও অনুগ্রহ যে, তিনি একসাথে সাধারণত এত বেশি পানি বর্ষণ করেন না যে প্লাবনের আকার ধারণ করবে। (হ্যাঁ, যদি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াবাসীকে গোনাহের কারণে বিপদ ও শাস্তি দিতে চান তখন কখনো কখনো এরূপ করে থাকেন। সেটা ভিন্ন বিষয়।) বরং একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে বর্ষণ করেন, যার ফলে মানুষ উপকৃত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আল্লাহ তাআলার কুদরতের এসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলে এবং চিন্তা করলে যারা প্রকৃত জ্ঞানী তারা অবশ্যই তাঁর মহত্ত্বের কথা উপলব্ধি করবে। ফলে তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর আনুগত্যের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও সেসব জ্ঞানী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন