প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

তালেবান : ঈমান ও আধ্যাত্মিকতার উপাখ্যান

তালেবান : ঈমান ও আধ্যাত্মিকতার উপাখ্যান

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

 

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে পরপর দুটি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিশ্বের বিবেকবান নাগরিকদের যতো না পীড়া দিচ্ছিল, তার চেয়ে মিথ্যা অপপ্রচার ও বিদ্বেষী মিডিয়ার আগ্রাসি কর্মকাণ্ড কোনো অংশেই কম কষ্টদায়ক ছিল না। ১৯৭৯ সালে তখনকার বৃহৎ পরাশক্তি কমিউনিস্ট সোভিয়েত রাশিয়া আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। তখন দেশপ্রেমিক আলেমসমাজ ও পীর—মাশায়েখের নেতৃত্বে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ দেশরক্ষার জিহাদে অংশ নেয়। সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা দু—ভাগে বিভক্ত ছিলেন। কিছু বিদেশি দখলদারত্বের পক্ষে। একটি অংশ মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে। দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধে সোভিয়েত রাশিয়ার পরাজয়ের মাধ্যমে আফগানিস্তান স্বাধীন হয়। এরপর মার্কিন হস্তক্ষেপ, সউদি—ইরান বলয়ের দ্বন্দ্ব, আফগান কমিউনিস্ট পার্টি, স্থানীয় গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, নর্দার্ন এলায়েন্স, দোস্তাম (কমরেড) মিলিশিয়া ইত্যাদি সঙ্ঘাতে স্বাধীন আফগান জনগণের মুক্তি—সংগ্রামের ফসল ঘরে ওঠেনি।

এ সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের নতুন যোদ্ধা প্রজন্ম দেশের দায়িত্বভার নেওয়ার জন্য একটি সংগঠনের রূপ নিয়ে মাঠে আসে। মাদরাসা ছাত্রদের এ নতুন জাগরণের নাম আফগানিস্তান ছাত্র আন্দোলন। এর প্রধান ছিলেন মোল্লা উমর। বিবদমান সব সশস্ত্র গ্রুপকে পরাজিত করে তারা ১৯৯৬ সালে দেশটির শাসনক্ষমতা হাতে নিয়ে নেয়। সাথে সাথে পশ্চিমা অপপ্রচার শুরু হয়ে যায়।

এ সময় একজন বড় মুসলিম জেনারেল বলেছিলেন, আফগানিস্তানে মানুষ অনেক বড় একটি কারামত দেখতে পাবে। এখানে আমেরিকার সহায়তায় মুসলমানরা সোভিয়েত রাশিয়াকে পরাজিত করবে আর আমেরিকার সহযোগিতায়ই তারা আবার আমেরিকাকেও পরাজিত করবে ইনশা—আল্লাহ।

এ সময় মার্কিন টুইনটাওয়ার ধ্বংসের ঘটনা নিয়ে আমেরিকা তাদের সাবেক মিত্র বিন লাদেনকে দায়ী করে। আফগানিস্তানের সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধের বড় নেতা এবং বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমেরিকার মিত্র শায়খ উসামা বিন লাদেনের সাথে তখন আমেরিকার বৈরী ভাব শুরু হয়ে গেছে। তালেবান তখন পাঁচ বছর ধরে আফগানিস্তানের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। বিন লাদেনকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করা হলেও মোল্লা উমর এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ক্ষমতা চলে গেলেও একজন মেহমান মুক্তিযোদ্ধাকে আমি অমুসলিমদের হাতে তুলে দেবো না। তখন মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সমন্বিত বিমান হামলায় তিনি তালেবান আন্দোলনের সদস্যদের নিয়ে রাজধানী কাবুল ছেড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে—ছিটিয়ে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। ২০০১ থেকে ২০২১ এই কুড়ি বছর সময় তালেবান বিশ্বের ৫২টি দেশের সমর্থন আদায় করা পরাশক্তি আমেরিকা ও তার মিত্র ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়।

পাকিস্তানের কিছু আলেম মোল্লা উমরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, একটি মানুষের জন্য একটি সরকারের পতন এবং একটি জাতির ওপর বিদেশি দখলদারত্বের সূচনা না ঘটিয়ে কি অন্য কিছু করা যায় না। মোল্লা উমর তখন বলেছিলেন, আপনারা আমাকে এর স্বপক্ষে শরীয়তের একটি হুকুম দেখান। একজন সাধারণ মেহমানকে আশ্রয় দিলে তার জন্য গোটা সম্প্রদায়ের জীবন দেওয়া আফগানিস্তানের ঐতিহ্য। আর যে মানুষটি আমার দেশের জন্য এত বছর যুদ্ধ করলেন, তাকে কী করে আমি শত্রুর হাতে তুলে দিই?

এরপর আলেমরা আর কোনো কথা বলার চেষ্টা করেননি। একদল তালেবান মুজাহিদ মুক্তিযোদ্ধা আলেমকে তিনি এ কথাও বলেছিলেন, অনেক আলেম ও সামরিক কর্তারা আমাকে যখন শায়খ উসামা বিন লাদেনকে মার্কিনিদের হাতে তুলে দিয়ে আফগানিস্তান ও তালেবান শাসনকে রক্ষা করতে বলতেন, পরপর একাধারে তিন দিন স্বপ্নযোগে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিয়েছেন, ‘উমর, তোমার সিদ্ধান্ত ও শরীয়তের নীতি থেকে এক চুল পরিমাণও নড়ো না। এ যুদ্ধে তোমরাই বিজয়ী হবে’। এরপর আমি আর কার কথা বা পরামর্শ শুনব।

মোল্লা উমর বিজয় দেখে যেতে পারেননি। তবে তার বেঁচে থাকা সহযোদ্ধারা বিজয় দেখেছেন। একান্তজন মোল্লা আবদুল গনী বারাদর তালেবান সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী আর মোল্লা উমরের ছেলে তালেবান আন্দোলনের সামরিক শাখার কমান্ডার মোল্লা ইয়াকুব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এক.

প্রথম তালেবান আন্দোলনের উত্থানের সময় ক্ষমতাসীন সরকারের বাহিনী রকেট হামলা করে কান্দাহার বেতার কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়। এটি ১৯৯৬ এর কথা। তালেবান বাহিনীর জরুরি সংবাদ প্রচারের জন্য বেতার কেন্দ্র ব্যবহার করার আর উপায় ছিল না। অথচ এ ছাড়া অন্যান্য প্রদেশের তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের আর কোনো উপায় ছিল না। কথাবার্তা শুনে মোল্লা উমর নিজ তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে কমান্ডারকে তার গায়ের পিত রঙের পশমি চাদরটি খুলে দিয়ে বললেন, এটি নিয়ে বিধ্বস্ত ভবনের যন্ত্রপাতির ওপর ছড়িয়ে দাও এবং বিসমিল্লাহ বলে যোগাযোগ শুরু করো। কমান্ডার গিয়ে ঠিক তা—ই করলেন এবং যথারীতি রেডিও ট্রান্সমিশন শুরু হলো। সব প্রদেশে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলো।

একসময় সউদি শাসকদের নিকটজন হিসেবে ওসামা বিন লাদেন ছিলেন আমেরিকার কাছের মানুষ। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা নেওয়া এই আরব যুবক যখন গোটা বিশ্বে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের ছক তৈরি করছিলেন, তখন এই নিগূঢ় তত্ত্ব ও বিস্তারিত তথ্য জানা হারানো বন্ধুটিকে হত্যার জন্য আমেরিকা আফগানিস্তানের পার্বত্য এলাকায় এমন সব বোমা নিক্ষেপ করে, যা দুনিয়ার আর কোনো যুদ্ধে তারা ব্যবহার করেনি। কার্পেট বোমা, ডেইজি কাটার বোমা, কম্পিউটার গাইডেড টার্গেট বোমা দিয়ে বিন লাদেনের অবস্থান করার মতো আফগানিস্তানের সম্ভাব্য সব ঘাঁটি এবং কৌশলগত জায়গা তারা তছনছ করে দেয়। তোরাবোরা পাহাড়কে ধূলি—কংকরময় প্রান্তরে পরিণত করে। একসময় মোল্লা উমরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উসামাকে পাকিস্তানের এবোটাবাদের এক বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। নিরাপত্তার জন্য তখন তারা কেউই ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করতেন না। মোল্লা উমরকে মার্কিনিরা শত চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি। তবে তার মাথার মূল্য নির্ধারণ করে কোটি ডলার। আফগান জনগণ ও তালেবান দলের কেউ—ই তাদের নেতার হেফাজতের কোনো ত্রুটি করেনি। বিশেষ করে মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই মার্কিনিদের ভুল তথ্য দিয়ে মোল্লা উমরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। যে জন্য বর্তমান সরকার গঠনের সমন্বয় কর্মে তালেবান নেতৃত্ব হামিদ কারজাইকে যুক্ত থাকতে দিয়েছেন।

মোল্লা উমর সোভিয়েত আফগান যুদ্ধের সময় মর্টার শেলের আঘাতে একটি চোখ হারান। এই নেতার মৃত্যুর পর মোল্লা আখতার মনসুর হন তালেবান প্রধান। তিনি মার্কিন হামলায় শহীদ হলে নেতা নির্বাচন করা হয় মোল্লা উমরের পুত্র মোল্লা ইয়াকুবকে। কিন্তু তিনি তখন ২১ বছরের তরুণ। বিনয় ও ত্যাগে নিজেকে প্রত্যাহার করে তিনি পিতা মোল্লা উমরের এক সহকর্মীকে মূল নেতারূপে গ্রহণ করে নেন। মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদাহ এই নেতা। তালেবানের প্রথম শাসনামলে মোল্লা উমর যাকে কাবুল শরীয়া আদালতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি তালেবানের প্রধান আধ্যাত্মিক নেতা।

আগস্টজুড়ে তালেবান শক্তি আফগানিস্তান দখল করে কাবুলে সরকার প্রতিষ্ঠা, সারা দেশে নিরাপত্তা, বিচার, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সিআইএ পরিচালকের বৈঠক এবং বিদেশি শক্তির বিদায় ইত্যাদি চললেও তালেবানের মূল নেতাকে কোথাও দেখা যায়নি। মিডিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও স্পোঙ্ম্যানদের দেখা গেলেও মূল আধ্যাত্মিক নেতার অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছু বলছে না। দৃশ্যমান রয়েছেন তালেবানের রাজনৈতিক শাখার নেতারা। এর কারণ, মূল আধ্যাত্মিক নেতাকে তারা সামনে আনার চেয়ে তার হেফাজতের প্রতিই অধিক মনোযোগী। বিদেশি সৈন্যরা যাওয়ার পথে কিংবা তাদের কোনো মিত্র যেন শেষ পর্যায়ে কোনো আঘাত হানতে না পারে। কেননা, তালেবান সরকার ও রাজনৈতিক শাখার যে—কোনো ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিন্তু পোড় খাওয়া এবং বিশ্বের সমন্বিত সুপার পাওয়ারকে পরাজিত করে শতভাগ শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মূল আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল মুমিনিনের নিরাপত্তা সবার আগে। কারণ, ৮০ হাজার তালেবান সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হওয়ার পর বর্তমানে যে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার তালেবান বেঁচে রয়েছেন, এদের প্রত্যেকেই আমৃত্যু আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার শপথ নিয়েছেন এই আমিরুল মুমিনিন মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদাহর হাতেই।

হয়তো মোল্লা উমর, মোল্লা আখতার মনসুর বা বিন লাদেনের শাহাদাত থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। আখুন্দজাদাহ মুজাহিদ আউলিয়াদের জামাত নিয়ে একান্ত কোনো জায়গায় তালেবানের সাফল্যের জন্য আল্লাহর দরবারে দুআ—মুনাজাত ও মুরাকাবায় রয়েছেন। সব রকম ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রেখে ম্যানুয়াল যোগাযোগ ও প্রতিটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে তাকে প্রয়োজন হচ্ছে, তবে তার অবস্থান সহযোদ্ধারা সব দুশমন চলে যাওয়া এবং সরকার গঠন পূর্ণতা না পাওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করছেন না। অভিজ্ঞতা মানুষকে সম্পূর্ণ করে। বিপদ ও পরীক্ষা মানুষকে নৈপুণ্য এনে দেয়। আল্লাহর সাহায্য নেককার মানুষকে অলৌকিক শক্তিতে বলীয়ান করে।

 

দুই.

মুসলমানের সংখ্যা যে দেশে শতকরা ৯৯.৭ ভাগ। যেখানে মানুষ নিজেরাই শরীয়া আইন মেনে চলতে আগ্রহী। সেদেশে বারবার বিদেশি দখলদারত্ব আর পরাশক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আলেম—ওলামা, পীর—মাশায়েখের নেতৃত্বে ছাত্রজনতা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে, সেখানে কমিউনিস্ট পার্টি ও পশ্চিমা তাবেদাররা সরকার পরিচালনার নামে দুঃশাসন, অবিচার, জাতির সম্পদ লুটপাট আর দুর্নীতি করে। এমন একটি দেশে ইসলামী শরীয়া আইন চালুর স্বপ্ন তালেবানকে উদ্বেলিত করেছিল।

যে জাতি আফগানিস্তানে তাতারী মুঘল, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ও মার্কিন—এই চার পরাশক্তিকে বিতাড়িত এবং তিনটির কবর রচনা করে। বলা হয়, আফগানিস্তান বিশ্ব পরাশক্তিসমূহের কবরস্থান। গ্রেভইয়ার্ড অব এম্পায়ার্স। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ হয়ে ১৯৯৪ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আলেম—উলামা, পীর—মাশায়েখের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু ১৯৮৯ এ সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের পর এবং ১৯৯২ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ছয়টি মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পরও আফগানিস্তানে বিদেশের দালাল আর্মি, কমিউনিস্ট দোস্তাম বাহিনী, বিদেশি মদদপুষ্ট গোত্রীয় সা¤প্রদায়িক নর্দার্ন এলায়েন্স, সমাজতান্ত্রিক গ্রুপ পাসদারানে মিল্লি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদঘেঁষা কিছু মুসলিম দল মিলে এলায়েন্স করে গদাইলশকরি টাইপের সরকার চালাতে থাকে। স্বাধীনতার সুফল মানুষ পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গভীর দেশপ্রেম, মুক্ত মন ও ঈমানী তেজ নিয়ে তখন ময়দানে আসে তাহরিকে তালিবান আফগানিস্তান। সরল বাংলায় অর্থ হয়, আফগানিস্তান ছাত্র আন্দোলন বা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সংক্ষেপে তালেবান।

বর্তমান জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, দেওবন্দের মুরব্বি প্রধান শিক্ষক মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মদনী বলেছেন, তালেবান নিয়ে ভারতের বিরূপ আচরণের কোনো কারণ নেই। এদের কারণে দেওবন্দ সম্পর্কেও সমালোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ—বিরোধী জিহাদ আন্দোলনের নেতা শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসানের আদর্শকে সামনে নিয়ে মাঠে নামে। সরাসরি ১৮৩১ সালে বালাকোটের শহীদ সাইয়েদ আহমদ রাইবেরেলভীর পন্থা অবলম্বন করে। এসব হিসেবেই তাদের দেওবন্দী বলা হয়। সাম্রাজ্যবাদ ঔপনিবেশবাদ মোকাবিলায় মূলত তারা দেওবন্দি আলেমগণের দ্বারা অনুপ্রাণিত।

মোল্লা উমর পাকিস্তানের জামিয়া হাক্কানিয়া আখোড়া খাটকের ছাত্র। অবিভক্ত ভারতের যুগে দারুল উলূম দেওবন্দের ছাত্র মাওলানা আব্দুল হক হাক্কানী এর প্রতিষ্ঠাতা। তার পুত্র ছিলেন জমিয়ত—প্রধান পাক সিনেটর মাওলানা সামিউল হক। তালেবানরা যার নাম দিয়েছে ‘বাবায়ে তালেবান’। তালেবান আন্দোলন মূলত শহীদ সামিউল হকের ব্রেইন চাইল্ড। ইনি নিজ দেশ পাকিস্তানে ছদ্মবেশী মার্কিন মিত্রদের গুলিতে শহীদ হন।

মাওলানা জালালুদ্দিন হাক্কানী থেকে হাক্কানী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাওলানা সিরাজুদ্দীন হাক্কানী এর প্রধান। তালেবানের মেরুদণ্ড সোজা থাকে এই নেটওয়ার্কের কল্যাণে। কাবুলের সুরক্ষার কাজ হাক্কানী নেটওয়ার্ককে দেওয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের অন্যতম মুরব্বি মাওলানা খলিলুর রহমান হাক্কানী। যুদ্ধের সময় আমেরিকা যার মাথার মূল্য নির্ধারণ করে ৫০ লাখ ডলার। কেউ তাকে ধরিয়ে দেয়নি, মার্কিনিরাও কোনোভাবে খুঁজে পায়নি।

বিজয়ের পর তিনি জনসমক্ষে এসেছেন এবং সশস্ত্র রক্ষী পরিবেষ্টিত অবস্থায় তালেবান নিয়ন্ত্রিত কাবুলের মসজিদে জুমার খুতবা ও বয়ান করেছেন। পানশিরে আহমদ মাসুদ সমস্যা সমাধানের জিম্মাদারি তিনি নেওয়ায় আলাপ—আলোচনা ও কৌশলগত ঘেরাও অবরোধ চলছে। পরাশক্তির আতঙ্ক এ লোকটির নামে নাম হওয়ায় বহু লোককে মার্কিন ও ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ ভ্রমণের সময় এয়ারপোর্টে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। আজ মার্কিন সৈন্য এমনকি সিআইএ প্রধান আফগানিস্তানে থাকলেও মোল্লা খলিলের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। তাঁর মাথার মূল্য নির্ধারণকারীদের মাথা নত করে কাবুল ছেড়ে যেতে হচ্ছে। এটাই আল্লাহর গায়েবী সাহায্য ও অলৌকিক বিজয়ের নিদর্শন।

তালেবানদের অন্যতম তাত্ত্বিক উপদেষ্টা মাওলানা মুফতী তাকী উসমানী। পাকিস্তান হাইকোর্টের শরীয়া বেঞ্চের সাবেক এই বিচারপতি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘বিনা রক্তপাতে তালেবানদের কাবুল দখল আমাদের মক্কা বিজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নীতি, আদর্শ ও ঈমানী শক্তির সামনে যে পরাশক্তি কিছুই নয়—হায়, তালেবানের এই বিস্ময়কর বিজয় যদি দুনিয়ার সব মুসলিম দেশকে এ সত্যটি বোঝাতে সক্ষম হতো’।

তালেবানের আধ্যাত্মিক নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদাহ ও সামরিক শাখার প্রধান মোল্লা ইয়াকুবকে প্রেরিত এক বার্তায় তিনি পূর্ণাঙ্গ শরীয়া বাস্তবায়ন এবং আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের জ্ঞান, গবেষণা ও তাত্ত্বিক সহযোগিতা করার জন্য নিজেকে তালেবানের জন্য নিবেদিত বলে ঘোষণা করেন। যা লোকাল ও সোশ্যাল মিডিয়ায়ও প্রচারিত হয়। জাস্টিস মাওলানা তাকী উসমানীর মতে, দুনিয়ার সব স্কলার, আলেম, বিজ্ঞানী ও পেশাজীবীদের সহযোগিতা থাকলে আধুনিক সময়ে প্রকৃত শরীয়াহভিত্তিক আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, রাষ্ট্র, বিচার ও শাসনব্যবস্থার রোলমডেল হতে পারে তালেবান শাসিত আফগানিস্তান।

 

তিন.

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে বাহ্যিক বিবেচনায় এক অসম অযৌক্তিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হন মোল্লা উমর। তার শহীদী মৃত্যুর পর তালেবান নেতা আখতার মনসুরও মার্কিনীদের রকেট হামলায় শাহাদতবরণ করেন। এরপর মোল্লা উমরের পুত্র মোল্লা ইয়াকুবের ওপর ন্যাস্ত হয় তালেবানের নেতৃত্ব। আধ্যাত্মিক এ সামগ্রিক নেতৃত্ব ২১ বছর বয়সি এ বালক তুলে দেন তার মুরব্বী হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদাহর হাতে। বর্তমানে মোল্লা ইয়াকুবের বয়স ৩১/৩২ এর মাঝে। তালেবানের দ্বিতীয় প্রধান আধ্যাত্মিক নেতা, সামরিক শাখার প্রধান এবং নতুন সরকারের বড় কোনো পদে দেখা যাবে তাকে। তার সেক্রিফাইসে মনোনীত বর্তমান আধ্যাত্মিক নেতার পরিচয় সঠিকভাবে পাওয়ার আগে পাঠক এ কটি লাইন পড়ে নিতে পারেন।

যুবকটির নাম আব্দুর রহমান। আমি সেই সময়ের গল্প বলছি যখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই বয়সের একজন যুবকের স্বপ্ন কী হয়? সুন্দর আগামীর এক দীর্ঘ পরিকল্পনা। অথচ যুবকটি নাম লিখিয়ে দিল এক শহীদি কাফেলায়। সে ছিল সেই কাফেলার সদস্য, যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। ইসতিশহাদি কাফেলা। যারা কৌশলগত স্থানে নেতার নির্দেশে শহীদি মৃত্যুকে জেনেশুনে বরণ করে নেয় এবং শত্রুর সমরশক্তির বিনাশ ঘটিয়ে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে মুজাহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে।

২০ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী লশকরগাহের উত্তরের শহর গেরেশক—এ একটি বিস্ফোরক বোঝাই করা গাড়ি নিয়ে মার্কিন ন্যাটো আর্মির মিলিটারি বেইসে ইসতিশহাদি আক্রমণ পরিচালনা করে এই যুবক। পান করে শাহাদাতের অমিয় সুধা। আক্রমণের পূর্বে তার বাবাকে যখন একজন কমান্ডার বিষয়টি অবহিত করেন এবং অনুমতি চান, তখন তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কি তাকে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া থেকে নিবৃত করব?’

জানেন এই বাবাটির নাম কী? হঁ্যা, তিনিই তালেবানের বর্তমান আমিরুল মুমিনিন, আফগান সরকারের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা মুফতী হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

তিনি এমন নেতা নন যে কর্মীকে আগে ঠেলে নিজের সন্তানকে পেছনে রাখবেন। একজন বাবার জন্য তার সন্তান হারানোর চেয়ে বড় বেদনার আর কী আছে। কিন্তু ইসলাম তাদেরকে হাসিমুখে নিজের প্রাণ ও প্রিয়জনকে বিসর্জন দিতে শিখিয়েছে। স্বাধীনতা, সাহস, মুক্তির চেতনা, ত্যাগ, সাধনা, সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও ঈমান সব দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকাদের কী যোগ্যতা আছে তাদের সমালোচনার? তালেবান প্রধান মোল্লা উমরকে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নযোগে বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। কেমন বিজয় হয়েছে তা পৃথিবী দেখতে পাচ্ছে। আর যুদ্ধলব্ধ অস্ত্র ও সম্পদ তালেবানরা কী পরিমাণ পেয়েছে তার সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা এখানে রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমরাস্ত্র দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দুক, রকেট, নাইট—ভিশন গগলস, গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন। তবে উপহারের তালিকায় সবকিছুর ওপরে ছিল ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সেনাদের এটা বেশ এগিয়ে রাখত।

মার্কিন গভর্নমেন্ট একাউন্টিবিলিটি অফিসের ২০১৭ সালের তথ্য অনুসারে, আমেরিকা আফগানিস্তানকে ৭৫,৮৯৮টি গাড়ি, ৫,৯৯,৬৯০ টি অস্ত্র, ১,৬২,৬৪৩টি যোগাযোগের সরঞ্জাম, ২০৮টি বিমান ও হেলিকপ্টার এবং ১৬,১৯১টি গোয়েন্দা ও নজরদারি সরঞ্জাম দিয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দেওয়া হয়। আফগানিস্তানকে দেওয়া বিমান ও হেলিকপ্টারের ৪৬টি এখন উজবেকিস্তানে রয়েছে। তালেবানদের কাবুল দখলের পর এসব এয়ারক্রাফট ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ আফগান সেনা উজবেকিস্তানে পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানকে ৭ হাজার ৩৫টি মেশিনগান, ৪ হাজার ৭০২টি হামভি গাড়ি, ২ হাজার ৪০টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২ হাজার ৫২০টি বোমা এবং ১ হাজার ৩৯৪টি গ্রেনেড লাঞ্চার দিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তান পুনর্গঠনের বিশেষ মহাপরিদর্শকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের হিসাব অনুসারে শুধু গত দুই বছরে আমেরিকা আফগান সামরিক বাহিনীকে ১৮ মিলিয়নেরও বেশি রাউন্ড ৭.৬২ মিমি এবং .৫০—ক্যালিবারের গোলাবারুদ দিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘যা কিছু ধ্বংস হয়নি, এখন তা তালেবানদের।’ এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র—বিষয়ক কমিটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, ‘আমরা ইতোমধ্যেই তালেবান যোদ্ধাদের আফগান বাহিনীর কাছ থেকে মার্কিন তৈরি অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত হতে দেখেছি।’

এরপর আসে আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের কথা। এরও একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা এখানে দেওয়া হলো। প্রায় ছয় লাখ বায়ান্ন হাজার বর্গকিলোমিটারের আফগানিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খনিজ সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটিতে আনুমানিক ১৪০০—র অধিক বিভিন্ন খনিজ ক্ষেত্র রয়েছে। খনিজ ক্ষেত্রগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিছু তথ্য অনুযায়ী সেটা ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম, ইউরেনিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, লোহা, ক্রোমাইট, লিথিয়াম ইত্যাদি আছে খনিজ পদার্থের তালিকায়। সেই সঙ্গে রয়েছে উচ্চ মানের পান্না, রুবি, নীলকান্তমণি, ফিরোজা ইত্যাদি রত্ম—পাথরের মজুদও।

বর্তমান পৃথিবীতে বলিভিয়ায় লিথিয়ামের সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের শুধুমাত্র গজনি প্রদেশেই বলিভিয়ায় চেয়ে বেশি লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে। মূল্যবান রত্মপাথরের পাশাপাশি আফগানিস্তানে স্বর্ণেরও যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। শতাব্দীকাল ধরে আফগানিস্তানের গজনি, জাবুল, কান্দাহার এবং তাখার প্রদেশসহ দেশের দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চল থেকে স্বর্ণ উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাদাখশান ও হেলমান্দ প্রদেশেও স্বর্ণের বিশাল মজুদ রয়েছে।

পাহাড়সমৃদ্ধ আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি নদীর উপত্যকায় বিশেষ করে আঞ্জির, হাসার, নুরাবা এবং পাঞ্জ নদীর উপত্যকায় স্বর্ণের মজুদ রয়েছে। পাঞ্জ নদীর উপত্যকায় অবস্থিত সমতি খনিতে আনুমানিক প্রায় ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন স্বর্ণ রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির গজনি প্রদেশে থাকা স্বর্ণ ও তামার মজুদের আনুমানিক মূল্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আল্লাহর রহমত ও সাহায্য ছাড়া এ কথা চিন্তাও করা যায় না।

পাহাড়ি দেশটির মাটির নিচের এ সম্পদ আর স্থলভাগের কৌশলগত অবস্থানের জন্যই আফগানিস্তানের প্রতি যুগে যুগে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এত লোভ। দেশীয় রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তায়নও এ সম্পদ গ্রাসের জন্যই। দেশের মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, দরদি, যোগ্য ও আল্লাহভীরু শক্তি হচ্ছে মাদরাসা ছাত্র তালেবান। উলামা—মাশায়েখ ও সাধারণ মানুষ মিলে ২০ বছর যুদ্ধ করে আজ তারা দেশের ক্ষমতায়। এত বিশাল অস্ত্র ভান্ডার আর খনিজ সম্পদ আফগান জনগণের। যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে পরাশক্তির আতঙ্ক তালেবান।

একজন মার্কিন সৈনিক সাজাতে গড়ে ৩০ লাখ টাকার সামরিক ইনস্ট্রুমেন্ট লাগে। অপরদিকে কাবুল বিজয়ের দিন বিশ্ব মিডিয়ার কল্যাণে পৃথিবীর মানুষ দেখতে পেয়েছে কাবলি ও পায়জামা পরা খালি পা তালেবান মুজাহিদদের। যারা বিশটি বছর পাহাড়ে—পর্বতে খেয়ে না—খেয়ে অনিশ্চয়তার জীবন কাটিয়েছে। অর্ধেক সাথি তাদের শহীদ হয়ে গেছে। তারা যখন কাবুল দখলের পর রাজপথে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে কাঁদছিল, সে কান্নার কী অর্থ? এমন দীর্ঘ জিহাদের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় ও সম্মানের কত বেশি তাৎপর্য? এশিয়ার বুকে নতুন ইসলামী বিজয়ী শক্তির উত্থানে দুনিয়াকে এ নিয়ে অবশ্যই নতুন করে ভাবতে হবে।

 

চার.

প্রায় শতভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী শরীয়া শাসন কায়েমের পাঁচ বছর পর তালেবানকে মার্কিন ন্যাটো ও বিশ্ব মিত্রদের সহায়তায় দেশীয় যুদ্ধবাজ গ্রুপগুলো ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। ওসিলা ছিল ৯/১১ এ আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস এবং এর সাথে জড়িত থাকার কারণ দেখিয়ে উসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা। এ সপ্তাহে তালেবান মুখপাত্র মোল্লা জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, টুইনটাওয়ার ধ্বংসের সাথে বিন লাদেনের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি আমেরিকা।

তালেবান আন্দোলন কান্দাহারের মাদরাসা শিক্ষক মোল্লা উমর মাত্র ৬০ জন ছাত্র নিয়ে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রতিবেশী পাকিস্তানের ছয় শতাধিক ছাত্র। এরপর ধীরে ধীরে সারা আফগানিস্তানের মাদরাসা ছাত্রদের সমন্বয়ে এ সংখ্যা দেড় লাখে ওঠে। ২০ বছরের যুদ্ধে ৮০ হাজার শাহাদতবরণ করে বর্তমানে প্রায় আশি হাজার তালেবান রয়েছে।

দেশ সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি সৈন্যমুক্ত করে স্বদেশি কমিউনিস্ট, প্রো ইন্ডিয়ান, মার্কিন লবির রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিগুলোকেও পরাজিত করে তাদের কাবুল বিজয় করতে হয়েছে। গত চল্লিশ বছরে সোভিয়েত ও মার্কিনিদের আগ্রাসনে এবং দেশীয় তাবেদারদের হাতে কমবেশি চার মিলিয়নেরও বেশি আফগান মৃত্যুবরণ করেছে। কোনো কোনো প্রদেশে শতকরা ১৬% কিশোর তরুণ পঙ্গু হয়েছে। যারা চকলেট বোমা ও সাম্রাজ্যবাদের পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। এতিম, বিধবা, সর্বস্বহারা, গৃহহীন ও যুদ্ধাহতের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো হয়নি। কোটির অংকে মানুষ যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তালেবান নাম দিয়ে ফেইক মুজাহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা দল। যারা দেশে সাবোটাজ করার পাশাপাশি বিদ্বেষী মিডিয়ার খোরাক জোগাতে বড় বড় অমানবিক ঘটনা ঘটাত। মালালা নাটক এর অন্যতম। বর্তমানেও তালেবানের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইহুদি, নাসারা ও মুশরিকদের তৈরি ফেইক মুজাহিদরা আত্মঘাতী হামলায় শান্তিচুক্তির আওতাধীন মার্কিন বাহিনী, তালেবান, সাধারণ আফগান মুসলিম জনগণকে হত্যা করছে।

একদল কাফের বানানোর কাজে ব্যস্ত লোক গোটা তালেবান নেতৃত্ব ও মুজাহিদদের কাফের, মুরতাদ বলে ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। হানাফি মাযহাব অনুসারী তালেবান শক্তিকে কথিত সালাফীরা হত্যার পাঁয়তারা করছে। বিগত সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অনেক তালেবান, মুজাহিদ ও আত্মঘাতী যোদ্ধা ধরা পড়েছে, যারা মূলত হিন্দু, খ্রিষ্টান ও অমুসলিম নানা ফেরকার বলে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানেও আফগান রাষ্ট্র পরিচালনায় তালেবান গোয়েন্দাদের এসব কথিত মুজাহিদদের গতিবিধির প্রতি কড়া নজর রাখতে হচ্ছে এবং এদের সমূলে উৎখাত করার জন্য তালেবান সরকারকে সব সময় সক্রিয় থাকতে হচ্ছে।

পাকিস্তানে গত বিশ বছরে আফগান মুজাহিদ ও তালেবান সমর্থক শত শত শীর্ষ আলেমকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানের বিন্নুরি টাউন জামিয়ার মুহাম্মদ বিন্নুরী, ড. হাবিবুল্লাহ মুখতার, জিয়াউর রহমান ফারুকী, মুফতী নিজামুদ্দিন শামযাই, মোল্লা উমরের উস্তাদ বাবায়ে তালেবানখ্যাত সিনেটর মাওলানা সামিউল হক ইবনে আব্দুল হক হাক্কানী, সলীমুল্লাহ খান সাহেবের পুত্র ড. মাওলানা নাসের খানসহ আরও শত শত আলেমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মাওলানা তাকী উসমানীর ওপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা হয়। লাল মসজিদে গণহত্যা সংঘটিত হয়। আর্মি স্কুলে পৈশাচিক হামলায় শিশুদের হত্যা করা হয়। গত পঁচিশ বছর ধরে পাকিস্তানের সব মাদরাসায় সশস্ত্র গার্ড, রেঞ্জার ও গোত্রীয় বন্দুকধারীদের নিয়োগ করতে হয়। বড় সব আলেমদের সশস্ত্র রক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে চলতে হয়।

হত্যার গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হয় ফেরকাগত মনোমালিন্য যেমন : শিয়া সুন্নী, দেওবন্দী, বেরেলভী, জিহাদপন্থি, তাগুতপন্থি নামে তৈরি প্রেক্ষাপটকে। কিন্তু মারা গেছেন সব আলেম, ইমাম, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মুসল্লী। এসবের পেছনেও মুশরিক ও ইহুদিবাদী ফেইক মুজাহিদরা সক্রিয় ছিল। সঙ্গে ছিল কিছু উগ্রবাদী সরলমনা ছাত্রও। মূল খেলাটি না বুঝে তারা শয়তানী শক্তির ক্রীড়নক হয়ে এ কাজে সমর্থন জোগায়। দেশে দেশে হক্কানী আলেম—উলামা, পীর—মাশায়েখ ও সাধারণ জনগণ যে উগ্রতা ও সন্ত্রাসের বিরোধিতা করে এসেছেন। সাধারণ মুসলিম রাষ্ট্র কেবল নয়, তালেবানের মতো রাষ্ট্র ও সরকারকেও যে সন্ত্রাসী শক্তিটিকে দমনে তৎপর থাকতে হচ্ছে।

 

পাঁচ.

বিশ্বমিডিয়ায় দুটি ছবি মধ্য—আগস্ট ২০২১ এ দেখা গেছে। যার ফটোগ্রাফার একই ব্যক্তি। একটি ছবি ২০০১ সালের আরেকটি ২০২১ সালের। বহু বছর ব্যবধানে দুটি ছবি একই ফটো সাংবাদিকের তোলা এবং ছবিটি মোল্লা আবদুল গনি বারাদরের। একটিতে দেখা যাচ্ছে, তরুণ তালেবান নেতা বারাদরকে হ্যান্ডকাফ ও রশি লাগিয়ে করাচির কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিনিদের বিশ্বস্ত বন্ধু পাকিস্তানের সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের যুগে আফগানিস্তান থেকে করাচিতে আশ্রয় নেওয়া তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদরকে পাক গোয়েন্দারা গ্রেফতার করে জেলে ঢোকায়। কয়েক বছর পর তিনি মুক্তি পেয়ে কাতার রাজনৈতিক অফিসে যোগ দেন। তার সাথেই ওয়াশিংটন ও পেইচিং কর্তৃপক্ষসহ বিশ্ব শক্তিগুলো আলাপ—আলোচনা শুরু করে। ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ করার পথ ও পদ্ধতি মার্কিনিরা তার সাথে আলোচনা করেই খুঁজে পায়। কাতার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি যে তালেবান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন এবং তালেবানের সব শর্ত মেনে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে চুক্তিতে সই করেন, এ তালিবান দলের প্রধান ছিলেন এই রশিতে বাঁধা লোকটিই। তালেবান সরকারে তার নাম প্রেসিডেন্ট হিসেবে খুব জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। কষ্ট, লাঞ্ছনা ও শহীদের রক্ত থেকে অর্জিত আজকের এ বিজয় ও সম্মান।

এক নিমেষে আল্লাহ পাহাড়কে সমতল, মরুভূমিকে সাগর বানাতে পারেন। তাঁর একটি হুকুমে সকাল বেলার রাজা বিকাল বেলা ফকির হতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,

وَتِلْکَ الْاَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ

‘এ সময় আর দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে পরিবর্তিত করে দিয়ে থাকি।’—সূরা আলে ইমরান (০৪) : ১৪০

আজ যে বাদশাহ কাল সে ফকির হয়ে যায়। সাম্রাজ্যের মালিকদের দর্প চূর্ণ করে ধূলায় মিশিয়ে দিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সময় লাগে না। যুগে যুগে তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের দম্ভ অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন।

এ সরকারে এমন তালেবান নেতাও অন্তভুর্ক্ত থাকছেন, যাকে বহু বছর মার্কিন নির্যাতনের বিভীষিকাময় গুয়ানতানামো বে কারাগারেও থাকতে হয়েছে। যে কারাগার স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী যোদ্ধা এবং নিজ দেশে ইসলামী সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থব্যবস্থা কায়েমের সৈনিকদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ভয়ংকর নির্যাতনের জন্যই মার্কিনিরা তৈরি করেছিল। অমানবিক শাস্তি ও নির্যাতনের পথ পাড়ি দিয়ে সেখানকার জীবিত মুজাহিদরা আজ আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারের উচ্চপদে সমাসীন। আমেরিকা ও তার মিত্ররা মাথা নত করে দেশে ফিরছে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে।

দেশীয় রাজাকারদের অবস্থা তো দেখার মতো। মার্কিন বাহিনী তাদের কুকুরগুলোকেও সামরিক বাহিনীর মর্যাদায় বিমানে করে নিরাপদে প্রস্থান করেছে। কিন্তু দালাল সরকারের মন্ত্রী, এমপি, কর্মকর্তা, দোভাষী ও চাটুকারদের কোনো দায়িত্ব তারা নেয়নি। যারা নানাভাবে কার্গো বিমানে দেশ ছেড়েছে তাদেরকেও আমেরিকায় না নিয়ে নানা দেশে ফেলে রাখার পরিকল্পনা চলছে। উগান্ডায় রাখার সিদ্ধান্ত পাকা হলেও অনেক দেশ এখন পর্যন্ত তাদের জায়গা দিতেই সম্মত হচ্ছে না। কাতারে যে কিছু অবস্থান করছে তাদের মানবেতর জীবনের কথা চিন্তা করলেও কষ্ট হয়। এয়ারপোর্টে হ্যাংগারে হাজারো আফগান দালাল ও ভাগ্যান্বেষী মানবেতর জীবনযাপন করছে। এক হাজার জনের জন্য একটি টয়লেট। একটু পানি আর খাবার শত শত দিনার, দিরহাম ও ডলারের বিনিময়ে পেতে হচ্ছে।

আফগানিস্তানের স্টেট ব্যাংকের গভর্নর পালিয়ে গেছেন। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিও দু—তিন দেশে ঘুরে আশ্রয় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইউএইর আবুধাবিতে মানবিক কারণ দেখিয়ে আশ্রয় নিয়ে আছেন। মার্কিন তত্ত্বাবধানে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নিজের মার্কিন নাগরিকত্ব সারেন্ডার করায় এখন তার নতুন করে ভিসা পেতে হবে। আগে থেকেই তার পুত্র ও কন্যা আমেরিকায় রাজার হালে বসবাসরত ছিলেন। এখন আশরাফ গনিও সেখানে পৌঁছার জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় রয়েছেন। বলা হয়, তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর সময় দুই গাড়ি ও হেলিকপ্টার ভর্তি ক্যাশ ডলার নিয়ে যান। যার একাংশ তিনি স্টেট ব্যাংক থেকে আগেই তুলে নিয়ে বাসায় রাখেন এবং মার্কিনিদের দেওয়া ডলারও ৬ থেকে ৯ মাস সৈন্যদের বেতন না দিয়ে নিজের ঘরে জমা রেখেছিলেন। যদিও আশরাফ গনি মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এক কাপড়ে জুতা সেন্ডেল ছাড়াই পালিয়ে এসেছি। ওরা আমাকে পেলে পিটিয়ে মেরে ফেলত।’ তার এ কথা যে সত্য নয় তা অন্যসব দায়িত্বশীলের সাথে তালেবানের আচরণ ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এখানে শুধু সম্মানের কথাটি ভেবে দেখা উচিত। একজন বিলাসী ও টাকাওয়ালা প্রেসিডেন্টের পরিণাম কেমন হতে পারে। একজন জনসমর্থনহীন ও পরদেশীদের দালাল শাসকের মানসম্মান কতক্ষণ থাকে, অপরদিকে জনগণের কাছের মানুষ তালেবান ও এর নেতৃত্বদানকারী মোল্লাদের সম্মান আগে, যুদ্ধরত অবস্থায় এবং এখন কীভাবে মহান উচ্চতায় বহাল রয়েছে। রশিতে বাঁধা, জেলখাটা, নির্যাতন ভোগ করা, ২০ বছর পাহাড়ে—পর্বতে দুঃখ—কষ্টের জিন্দেগি পার করা মুক্তিযোদ্ধা তালেবান মুজাহিদদের মর্যাদা আজ কতটুকু ওপরে।

এটাই আল্লাহর গায়েবী সাহায্য ও অলৌকিক কারিশমা। পবিত্র কোরআনের আয়াতে মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্দেশ্যে বলেছেন,

قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِکَ الْمُلْکِ تُؤْتِي الْمُلْکَ مَنْ تَشَآءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْکَ مِمَّنْ تَشَآءُ   ۫   وَتُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَآءُ   ؕ بِيَدِکَ الْخَيْرُ       ؕ   اِنَّکَ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ﴿۲۶﴾

আপনি বলুন, ক্ষমতা ও সাম্রাজ্যের মালিক হে আল্লাহ। আপনি যাকে ইচ্ছা করেন, ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ও রাজত্ব কেড়ে নেন। আর যাকে ইচ্ছা সম্মান দিয়ে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন আবার যাকে ইচ্ছা অসম্মান, লাঞ্ছনা দিয়ে তাকে নিচে নামিয়ে আনেন। কল্যাণ শুধু আপনারই হাতে। নিঃসন্দেহে আপনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।—সূরা আলে ইমরান, (০৪) : ২৬

কোরআন—সুন্নাহ ও বিশ্ব ইতিহাসে বর্ণিত আল্লাহর কুদরত, অলৌকিক সাহায্য ও শক্তির যত কথা মানুষকে উদ্বেলিত করে, এসবের জীবন্ত উদাহরণ আজকের আফগানিস্তান। বিশ্বের ৫০টি দেশের সমর্থন, আফগান দালালদের সহযোগিতা এবং সুপার পাওয়ার জোটের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যয় করেও ২০ বছরের হত্যা, জুলুম, অমানবিকতা শেষে এরা পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর বস্তুগত যত ব্যাখ্যাই দেওয়া হবে, অসম্পূর্ণ হবে। সত্যি বলতে গেলে মজলুম ছাত্রজনতা, মুক্তিযোদ্ধা তালেবানের এ নজিরবিহীন বিজয় এবং রাষ্ট্র ও সরকারে ইসলামী শরীয়া পদ্ধতিকে ঘিরে পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঈমান, ত্যাগ, কোরবানী ও উচ্চ পর্যায়ের আধ্যাত্মিকতার ফসল। আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

 

 

 

Avatar

editor

একটি কমেন্ট করুন