প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

দীর্ঘ ছুটি : তালিবুল ইলমের সমীপে কিছু নিবেদন

দীর্ঘ ছুটি : তালিবুল ইলমের সমীপে কিছু নিবেদন

মাওলানা মোল্লা আব্দুল মুমিন হামদ

 

মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ একটা সময় নিয়মিত দরস—তাদরীস থাকে না। তালিবুল ইলমগণের অনেকেই অবসর থাকেন। খেলাধুলা, গল্পগুজব বা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট হতে থাকে। অথচ কত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়। সময়—মানুষের হায়াত; একটা মুহূর্ত অতিবাহিত হয় আর হায়াত থেকে সেটা কমতে থাকে। তালিবুল ইলমগণ সঠিকভাবে হিম্মত করলে এই দীর্ঘ সময়ে অনেক উপকারী কিছু করতে পারি। তা ছাড়া অবসর থাকলে মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মন—মেজাজ অপ্রসন্ন হয়ে যায়। ফলে শয়তানের ফাঁদে পড়ার ঝঁুকি থাকে বেশি। অতএব দেহ—মন ভালো রাখতে তালিবুল ইলমের জন্য ইলমী ও আখলাকী ব্যস্ততায় সময় কাটানোর কোনো বিকল্প নেই। একজন তালিবুল ইলম ছুটির সময়ে কী কী কাজ করতে পারেন—সই ভাবনা নিয়েই আজকের লেখা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুক। আমীন।

 

এক.

তালিবুল ইলমগণের অনেকের কোনো না কোনো বিষয়ে দুর্বলতা আছে। সবচেয়ে মারাত্মক দুর্বলতা হলো, কোরআন তিলাওয়াতের দুর্বলতা। যাদের এই দুর্বলতা আছে, তাদের জন্য এ দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা খুবই জরুরি। কোরআন শুদ্ধ না থাকলে তো নামাযই হয় না। একজন মুমিনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল নামাযই যদি না হয় তাহলে আর কী বাকি থাকে! তা ছাড়া একজন তালিবুল ইলম, যে কিছুদিন পর সমাজ ও জাতির কর্ণধার হবে, তার কোরআন অশুদ্ধ থাকা—বড়ই লজ্জাজনক ও আফসোসের বিষয়। সুতরাং যাদের কোরআন তিলাওয়াতে দুর্বলতা আছে, তারা সবকিছু বাদ দিয়ে হলেও কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ করবে। কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ করার অনেক উপায় আছে। কিরাতের কোর্সে ভর্তি হয়ে যাবে। বিভিন্ন মাদরাসায় কিরাতের কোর্স হয়। এবার আমাদের জামিয়া ফরিদাবাদেও হবে ইনশাআল্লাহ। অথবা কোনো ক্বারী সাহেব বা ভালো কোরআন তিলাওয়াত জানে এমন কারও কাছ থেকে সময় নিয়ে কোরআন শুদ্ধ করবে। এ বিষয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। যেভাবেই হোক কোরআন তিলাওয়াত মানোত্তীর্ণ হতে হবে।

 

দুই.

কোনো কোনো তালিবুল ইলমের নাহব—ছরফ বিষয়ে দুর্বলতা থাকে। অথচ তাঁরা কাফিয়া ও শরহে জামী জামাত পার হয়ে ওপরে চলে এসেছেন। এখন তারা সঠিকভাবে ইবারত পড়তে পারেন না বা পড়তে পারলেও মর্ম উদ্ধার করতে পারেন না। অনেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইবারত পড়তে ও মর্ম উদ্ধার করতে পারলেও, মাঝে মাধ্যেই ইবারত ভুল পড়েন বা মর্ম বুঝতে অসুবিধা হয়। এই দুই শ্রেণির তালিবুল ইলমই ইলমে নাহ্ব ও ছরফে দুর্বল। তাদের উচিত, বরং তাদের জন্য আবশ্যক—এই দীর্ঘ ছুটিতে ইলমে নাহ্ব ও ছরফ ঠিক করা। এ বিষয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা। কারণ, কোরআন ও হাদীসসহ ইসলামী জ্ঞানের মূল কিতাবাদি ও রচনাবলি আরবি ভাষায় রচিত। সেগুলো বুঝতে হলে আরবি সঠিকভাবে পড়া ও মর্ম উদ্ধার করার যোগ্যতা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, তারা কীভাবে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে?

উত্তর হলো, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটির সময়ে নাহ্ব ও ছরফের কোর্স হয়। তারা মানসম্পন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে উপকৃত হতে পারেন। যদি ছাত্র এমন হয়, মোটামুটি নাহ্ব—ছরফের কিতাবাদি নিজেই পড়তে পারে তাহলে কোনো উস্তাদ অথবা নাহ্ব ও ছরফ বুঝে এমন কারও অধীনে থেকে মুতালাআ ও বেশি বেশি তামরীন—ইজরা করে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন। নিজে নিজে মুতালাআ করার ক্ষেত্রে প্রথমে সহজ ও তামরীন—সংবলিত কিতাব নির্বাচন করতে হবে। একটা অধ্যায় পড়ার পর নিজেকে নিজেই পরীক্ষা করবে; কোনো আরবি কিতাব থেকে ইবারত পড়বে আর সে অধ্যায়ের মাসায়েলগুলো প্রয়োগ করবে। এরপর আরও দুইটা অধ্যায় পড়ার পর এভাবে নিজেকে পরীক্ষা করবে। এমনইভাবে প্রত্যেকটা অধ্যায় শেষ হওয়ার পর পেছনের সকল অধ্যায় দিয়ে নিজেকে পরীক্ষা করবে। হয়তো সময় একটু লাগবে, ফায়দাও তো হবে। অধৈর্য হলে চলবে না। আমরা জন্মের পরপরই মাছ গোশত খাওয়া শুরু করতে পারিনি। ধীরে ধীরে সম্ভব হয়েছে। ধীরে ধীরে হলেই তা মজবুত হয়। সুতরাং হতাশ হওয়া যাবে না। অবশ্যই বেশি বেশি তামরীন করতে হবে এবং অলসতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

 

তিন.

যারা এ বছর কাফিয়া বা শরহে জামী পড়েছেন এবং নাহ্ব ও ছরফ বুঝেছেন—তাঁদেরও উচিত বিগত বছরে পড়ে আসা নাহ্ব ও ছরফের কিতাবগুলো আবারও ভালোভাবে মুযাকারা করা এবং পূর্ণ আয়ত্ত্ব করা। কারণ, এ বছরের পর এ বিষয়ের কোনো কিতাব নেসাবভুক্ত না থাকলেও সারা জীবন চলার পথে নাহ্ব ও ছরফ—এর প্রয়োজন হবেই; নাহব ও ছরফ মনে না থাকলে আরবি কিতাবাদি পড়তে অসুবিধা হবেই।

 

চার.

আমার কাছে অনেক তালিবুল ইলম এমন আসেন, যারা বলেন—হুযুর, নাহ্ব ও ছরফ মোটামুটি বুঝি, কিন্তু ইবারত পড়তে গেলে সঠিকভাবে পড়তে পারি না অথবা সঠিকভাবে পড়তে পারলেও মর্ম উদ্ধার করতে পারি না। যাদের এমন সমস্যা তাদের তামরীন ও বেশি বেশি আরবি কিতাবাদি, আরবি শরাহ ও হাশিয়া পড়ার বিকল্প নেই। অনেক সময় দেখা যায়, নাহ্ব ও ছরফ ঠিক আছে, কিন্তু ভালো করে তামরীন—ইজরা হয়নি। অথবা তামরীনও হয়েছে, কিন্তু আরবি মুফরাদাত—এর অর্থ জানার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তালিবুল ইলমদের জন্য আবশ্যক হলো আরবি কিতাব পড়ার সময় অভিধানের কিতাব নিয়ে বসা। যে শব্দে আটকে যাবে, সেটা অভিধান দেখে সমাধান করার চেষ্টা করবে। এরপরও যদি সমাধান না হয় তাহলে চলতে থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন (যদিও তা কয়েক মাস বা বছর পর হোক) সে আরবি কিতাব অনায়াসে পড়তে ও বুঝতে পারবে ইনশাআল্লাহ। সময় একটু লাগবেই, তবে হাল ছাড়া যাবে না।

 

পাঁচ.

যাদের উপরোক্ত বিষয়াদির সমস্যা নেই—তাঁরা নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। যেমন : কারও ইচ্ছে ফিক্হ বিষয়ে লেখাপড়া করা—সে ছুটির দীর্ঘ সময়ে এ বিষয়ে পড়ালেখা করবে। প্রথমে এ বিষয়ের মাদখাল (প্রারম্ভিক বিষয়াদি) পড়বে। এরপর এ বিষয়ে বিজ্ঞ কোনো উস্তাদ বা আলেমের পরামর্শে সামনে এগুতে থাকবে। এমনইভাবে যে তালিবুল ইলম হাদীস, তাফসীর ও অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে করবে, সেও এভাবেই এগুতে থাকবে। একাকী ও নিজের মতো করে পড়তে গেলে অনেক সময়ই বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিজের তালীমী মুরুব্বীর তত্ত্বাবধানে মুতালাআ করা আবশ্যক। অথবা আগামী বছর যদি নতুন কোনো বিষয়ের কিতাব আসে তাহলে সে বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করবে। যারা দাওরা বা মেশকাত পড়বে, তারা হাদীস—বিষয়ক মৌলিক বিষয়াদি জানার চেষ্টা করবে। যারা শরহে বিকায়া বা জালালাইন পড়বে—তারা ফিকহ ও নিজ মাযহাব—বিষয়ক এবং উলূমে কোরআন ও তাফসীর—বিষয়ক মৌলিক বিষয়াদি জানার চেষ্টা করবে। এ বিষয়ের লিখিত কিতাবাদির পাশাপাশি দরসে নিজামির অন্তভুর্ক্ত কিতাবের মুকাদ্দিমাও বেশ উপকারী হবে। মানসম্পন্ন শরাহসমূহের ভূমিকা অংশ এ বিষয়ে কার্যকর ফায়দা দেবে।

আগামী বছর যারা দাওরা, মেশকাত বা জালালাইন পড়বেন তাদের জন্য কিছু কিতাবের তালিকা দেওয়া হলো। বিরতির সময়ে এ কিতাবগুলো মুতালাআ করে নিলে সামনের বছরের জন্য খুব ফায়দা হবে। যারা দাওরায়ে হাদীস পড়বেন তাদের জন্য :

مقدمۂ اوجزالمسالك شرح مؤطأ مالك

مقدمۂ لامع الدراري شرح البخاري

امام ابن ماجہ اور علم حديث

مقدمۂ  درس ترمذي

مقدمۂ  معارف السنن

مقدمۂ  تحفۃ  الالمعي شرح جامع  الترمذي

যারা মেশকাত পড়বেন তাদের জন্য :

مقدمۂ درس ترمذي

امام ابن ماجہ اور علم حديث

الإمام ابن ماجه وكتابه السنن

حديث اور فہم حديث

যারা জালালাইন পড়বেন তাদের জন্য :

علوم  القرآن (مفتی تقی عثمانی(

مباديات فقہ (مفتی اسماعیل کچھولوی(

 

ছয়.

ছুটিতে কার জন্য কোন বিষয় অধ্যয়ন করা বা কোন বিষয়ে মেহনত করা জরুরি, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করার জন্য তালীমি মুরুব্বীর বিকল্প নেই। তালীমী মুরুব্বীর সামনে আমার অবস্থা পেশ করব। তিনিই বলবেন, আমার কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে। একাধিক বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে কোন বিষয়কে প্রথম পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ দুর্বলতা দূর করতে আমার জন্য কোন পথ ও পদ্ধতি বেশি উপকারী হবে তা—ও উস্তাদ থেকে জেনে নিতে হবে। কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হলে কোথায় ভর্তি হব, তা—ও তালীমি মুরুব্বী ও উস্তাদই ঠিক করে দেবেন। কারণ, সবার জন্য সব প্রশিক্ষণ কোর্স উপকারী নয়। এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ না করার কারণে অনেকের সময়, মেধা ও পরিশ্রম ফলপ্রসূ হয় না। আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফীক দান করুন।

 

সাত.

হাফেয সাহেবরা অবশ্যই মাসআলা মোতাবেক তারাবীহর নামায পড়াবেন। যারা হাফেয নন—তাঁরা কমপক্ষে তিনবার কোরআন মাজীদ খতম করার চেষ্টা করবেন। রমযান কোরআনের মাস। এ মাসে কোরআনকেই বেশি সময় দেওয়া উচিত। যারা কোরআনে কারীমের তরজমা পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক পড়েছেন, তারা তিলাওয়াতের সময় অর্থ ও মর্মের প্রতি লক্ষ রাখবেন। যারা তাফসীরও পড়েছেন তারা আরও গভীরভাবে কোরআন অনুধাবনের চেষ্টা করবেন। এমন যেন না হয়, কোরআন শরীফের যে তরজমা ও তাফসীর পড়েছি তা আগামী বছর আসতে আসতে ভুলে গেছি।

অনিবার্য প্রয়োজন ব্যতীত মোবাইল ব্যবহার করব না। কারণ মোবাইলের মাধ্যমে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকের গোনাহ হয়ে যায়, অথচ মোবাইল ব্যবহার না করলে এ গোনাহ হয় না।

 

আট.

যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়—তাঁরা এই সময়ে কোনো কাজে যোগ দিতে পারে। পারলে পরিবারকে সহযোগিতা করা এবং আগামী বছরের খরচের ব্যবস্থা করা। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবে যেন কাজ খুব কষ্টের না হয় এবং ঈমান, আমল ও আখলাকের জন্য ক্ষতিকারক না হয়। কাজ করার ক্ষেত্রে লজ্জার কিছু নেই। পূর্ববর্তী উম্মতের নেককারগণও কাজ করেই নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করেছেন।

 

নয়.

প্রিয় তালিবুল ইলম ভাইয়েরা, মা—বাবার যথাসম্ভব খেদমত করবেন। নিজেরা তাদের মাখদুম হবেন না। সারা বছর মাদরাসায় থাকার কারণে তাঁদের খেদমত করার সুযোগ থাকে না। ছুটিতে যেহেতু বাড়িতে থাকা হয় তাই সুযোগকে গনিমত মনে করে কাজে লাগান। অনেক পরিবারে কৃষিকাজ বা ব্যবসা থাকে, তালিবুল ইলমের উচিত সেসব কাজেও মা—বাবাকে সহযোগিতা করা। এতে তাদের অবসর সময় কাটবে এবং ভবিষ্যৎ—জীবনে কাজ করা ও দায়িত্বভার গ্রহণ করার একটা প্রশিক্ষণও হবে। পাশাপাশি শারীরিক কসরত হওয়ার কারণে শরীর সচল ও সুস্থও থাকবে।

 

দশ.

বাড়িতে থাকা অবস্থায়ও উস্তাদগণের নির্দেশনা মোতাবেক পাড়া—মহল্লার মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায আদায় করার; বরং আযান দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। মুসলমানদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা—ফিকির করা আমাদের দায়িত্ব। আসরের পর বা মাগরিবের পর অথবা যে নামাযের পর মুসল্লী বেশি থাকে এবং বসে কথা শোনার মানসিকতা থাকে, সে নামাযের পর দ্বীনের কথাবার্তা বলুন এবং দ্বীনী জরুরি বিষয়াদির শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় দেখা যায়, এই কাজগুলো শুরু করতে কেমন কেমন লাগে বা একটু লজ্জা লাগে। লজ্জা—শরম দূরে ঠেলে শুরু করতে পারলেই আল্লাহ পাক তাতে কল্যাণ ও ভালো ফলাফল দান করেন। এগুলোর পাশাপাশি মানুষের সাথে সর্বদা সদাচরণ করবেন এবং সুযোগ থাকলে জায়েয সামাজিক কাজে শরিক হবেন।

এই সব কাজ দ্বারা ধর্মীয় অনুশাসনও মানা হবে, ফযীলত লাভ হবে এবং কওমি মাদরাসা এবং কওমী মাদরাসার ছাত্রদের ব্যাপারে এলাকার মানুষের মনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। এটাও এক ধরনের দাওয়াত। যার ফলে লোকেরা তাদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করাবেন। আশা করা যায়, এর প্রতিদান আল্লাহ পাক দিতেই থাকবেন।

 

এগারো.

আত্মীয়—স্বজনদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে তাদের বাড়িতে সময়ে সময়ে বেড়াতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পর্দার খেয়াল রাখতে হবে। যদি আপনার পরিবার বা আত্মীয়—স¦জনদের বাড়িতে পর্দার বিধান লঙ্ঘন হয় তাহলে অবশ্যই তাদেরকে এ বিধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা বলে দাওয়াত দিন এবং আপনার ব্যাপারে তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আপনি পর্দা পালন করেন। যাতে করে আপনার পর্দা লঙ্ঘন না হয়। প্রথমে নিজে বাঁচুন এরপর অন্যকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহ পাক আমাদের সহায় হোক।

বি. দ্র. : উপরোক্ত বিষয়াবলি স্বাভাবিক গতিতে করার চেষ্টা করবেন। এমনভাবে করবেন না যে ছুটিতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। একটা রুটিন তৈরি করুন, ছুটির সময়ে আপনি যা অনুসরণ করবেন। কিছু সময় রাখুন যাতে শারীরিক কসরত করবেন এবং পরিবার ও আত্মীয়—স্বজনদের সময় দেবেন। পরিমাণমতো ঘুমাবেন; বেশিও নয় আবার কমও নয়।

তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রি.

Avatar

zobayer

    মুফতি রেজাউল করিম
    21 Mar 2022
     9:06am

    মাশাল্লাহ ৷ সুন্দর পরামর্শ ৷ প্রাণের নেয়ামতের বহুল প্রচার কামনা করছি ৷

একটি কমেন্ট করুন