প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনালগ্নে তালিবুল ইলমদের সমীপে কিছু নিবেদন

নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনালগ্নে তালিবুল ইলমদের সমীপে কিছু নিবেদন

মাওলানা যুবায়ের আহমাদ


শাওয়াল মাস। কওমী মাদরাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে। শুরুটা যথাযথ প্রস্তুতির সঙ্গে হলে সফলতা লাভ করা সহজ হয়। প্রস্তুতির অনেক ধাপ আছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তুতির কথা তালিবুল ইলম ভাইদের খেদমতে নিবেদন করছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে ও সকল তালিবুল ইলম ভাইকে এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন।

 

এক. দুআ

মুসলমানের সকল কাজের প্রথম প্রস্তুতি হচ্ছে দুআ। আল্লাহ তাআলার তাওফীক ও সাহায্য ছাড়া মানুষ কিছুই করতে পারে না। আল্লাহ তাআলার হুকুম না হলে কোনো উপায়—উপকরণও কাজে আসে না। তাই প্রথমেই আল্লাহ তাআলার দরবারে তাওফীক ও সাহায্য প্রার্থনা করা জরুরি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দুআ মুমিনের হাতিয়ার। অতএব ছোট বড় সকল কাজের প্রস্তুতির শুরু হবে দুআর মাধ্যমে। হযরত মাওলানা আবদুল হাই পাহাড়পুরী রহ. ইফতিতাহি সবকে এই দুআটি সকল ছাত্রকে পড়াতেন,

اَللّهُمَّ افْتَحْ لَنَا بِالْخَيْرِ وَاخْتِمْ لَنَا بِالْخَيْرِ

হে আল্লাহ, খায়ের ও কল্যাণের সঙ্গে আমাদের সূচনা করুন এবং খায়ের ও কল্যাণের সঙ্গেই আমাদের সমাপ্তি করুন।

মুনাজাতে মাকবূলে এই দুআ আছে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে তালিবুল ইলম ভাইদের সামনে অনেকগুলো নতুন বিষয় উপস্থিত হয়। নতুন কিতাব, নতুন ফন, নতুন উস্তাদ, নতুন মাদরাসা, নতুন কামরা, নতুন সহপাঠী, নতুন পরিবেশ ইত্যাদি। সবগুলোই সুবিধামতো ও উপকারী হওয়া প্রয়োজন। কোনো একটিতেও সমস্যা থাকলে পড়ালেখা ও জীবনধারায় বিঘ্ন ঘটবে। কোনো মানুষের সাধ্য নেই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সকলের জন্য উপযোগী ও সুবিধাজনক করে দেওয়ার। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সক্ষম। তিনি চাইলে অনায়াসে ও মুহূর্তের মধ্যে সব করে দিতে পারেন। তাই কাকুতি—মিনতির সঙ্গে উক্ত দুআ করা উচিত। আরও কয়েকটি দুআ এসময়ে বিশেষ উপযোগী।

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنْ لَّدُنْکَ رَحْمَۃً  وَّهَیِّئْ لَنَا مِنْ اَمْرِنَا رَشَدًا

হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাযিল করুন এবং আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।—সূরা কাহাফ, ১৮ : ১০

رَبِّ اِنِّیْ لِمَاۤ  اَنْزَلْتَ اِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیْرٌ

হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার পরম ভিখারি।—সূরা কাসাস, ২৮ : ২৪

يا حي يا قيوم برحمتك نستغيث أصلح لنا شأننا كله، و لا تكلنا إلى أنفسنا طرفة عين

হে চিরঞ্জীব অবিনশ^র সত্তা, আমাদের সকল বিষয় সঠিকভাবে সম্পন্ন করে দিন। আমাদেরকে এক মুহূর্তের জন্যও আমাদের নিজের জিম্মায় ছেড়ে দিবেন না।

এছাড়াও নিজের ভাষায় নিজের প্রয়োজনসমূহকে কাকুতি—মিনতির সঙ্গে দীর্ঘ সময় নিয়ে এবং বারবার আল্লাহ তাআলার দরবারে চাইতে থাকা উচিত। ইনশাআল্লাহ, এর ফলে অনেক খায়ের বরকত লাভ হবে।

 

দুই. সহীহ নিয়ত

নিয়ত সহীহ করা। ইলমে দীন একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই হতে হবে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, যে ইলমকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে অর্জন করা উচিত তাকে যে ব্যক্তি দুনিয়ার সামান্য কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করবে আলেমদের সঙ্গে বিতর্ক করা বা মূর্খদের সামনে বিদ্যা জাহির করা কিংবা মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।—সুনানে তিরমিযী

অতএব, ইলম অর্জনের নিয়ত হবে আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় বিষয়সমূহকে জেনে সে অনুযায়ী আমল করে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এরপর আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষকে দীন শেখানো ও দীনের প্রচার—প্রসার করা।

নিয়ত সহীহ হলে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই নেকি লেখা শুরু হবে। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ হতে থাকবে এবং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্কর্ গভীর হতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। এর জন্য যত চেষ্টা, সময়, মেহনত ও অর্থ—কড়ি ব্যয় হবে প্রতিটির বিনিময়ে নেকি ও আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ হতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

 

তিন. মেহনত ও অধ্যবসায়

চেষ্টা সাধনা ছাড়া কিছুই অর্জিত হয় না। দুনিয়ার মতো মূল্যহীন বস্তুও চেষ্টা—সাধনা ছাড়া অর্জন করা যায় না। আর ইলম তো অনেক বড় ও মূল্যবান সম্পদ। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ও চূড়ান্ত সফলতা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হয় ইলমে দীনের। তাই এর জন্য অনেক চেষ্টা—সাধনা করতে হবে।

ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. বলেছেন, তোমার পূর্ণটা ইলমের জন্য উজাড় করে না দেওয়া পর্যন্ত ইলম তার সামান্যটুকুও তোমাকে দিবে না।

তাই ইলম পেতে হলে নিজের ইজ্জত—সম্মান, আরাম—আয়েশ, অর্থ—কড়ি সবকিছু ইলমের জন্য পুরোপুরি বিসর্জন দিতে হবে। নিজের মন মস্তিষ্ক, চিন্তা—ভাবনা, সময় ও সম্পদ ইলমের সাধনায় ব্যয় করতে হবে।

ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. বলেন, আমি ১২ বছর আমার উস্তাদ ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর সঙ্গে তাঁর মসজিদে ফজরের নামায পড়েছি। ঈদের দিনেও তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করিনি।

একদিন ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. এর সন্তান মৃত্যু বরণ করে। সেদিনও তিনি অন্যদেরকে সন্তানের জানাযা ও দাফনের দায়িত্ব দিয়ে তিনি ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর সান্নিধ্যে ইলম অর্জনের জন্য চলে গেছেন। এই ত্যাগ ও বিসর্জনের বদৌলতে তিনি ইলমের উচ্চ শিখরে পেঁৗছেছেন।

অতএব পূর্ণ বছর সব ধরনের ব্যস্ততা, অলসতা, অনর্থক ও বাজে জিনিসের আসক্তি ও নেশা বর্জন করে ইলমের জন্য চেষ্টা—সাধনা করাতে বছরের শুরুতেই পাক্কা এরাদা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে অনেক বড় ও কঠিন কাজও করা হয়ে যায়। আর যদি ইচ্ছাই না থাকে তাহলে এক ঢোক পানিও গলায় প্রবেশ করে না।

বাজে আসক্তি ও অনর্থক কাজে সময় নষ্ট হওয়ার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, পড়ালেখা ভালো না লাগা। অন্য আজেবাজে ও অনর্থক কাজ ভালো লাগা। এটি একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগ না সারালে পড়ালেখায় মন বসবে না। চেষ্টা—সাধনা হবে না। ফলে পড়ালেখায় উন্নতি হবে না। এই রোগ সারানোর উপায় হলো:

০১. কিছু দিন নিজের উপর জোর খাটিয়ে চেষ্টা—সাধনা করতে হবে। নিয়মিত কোনো কাজ চালিয়ে গেলে তা কঠিন হলেও একসময় সহজ হয়ে যায়। পড়ালেখার একটা অভ্যাস হয়ে গেলে ধীরে ধীরে পড়ালেখার সঙ্গে মুনাসাবাত তৈরি হবে। যখন মুনাসাবাত তৈরি হয়ে যাবে তখন পড়ালেখা ছাড়া ভালো লাগবে না।

০২. পড়ালেখার প্রতি যেন আসক্তি তৈরি হয় এবং এর দ্বারা মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা আসে সেজন্য দুআও করতে হবে। মুনাজাতে মাকবুলে একটি দুআ আছে,

اللهم اقطع عني حاجات الدنيا بالشوق إلى لقائك وإذا أقررت أعين أهل الدنيا من دنياهم فأقرر عيني من عبادتك

হে আল্লাহ, আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের পরম আগ্রহ দ্বারা আমার দুনিয়ার প্রয়োজনসমূহ আমার থেকে সরিয়ে দিন। যখন দুনিয়াবাসীর চক্ষুসমূহকে দুনিয়া দ্বারা শীতল করেন তখন আমার চক্ষুকে আপনার ইবাদত দ্বারা শীতল করুন।

কত সুন্দর দুআ! পড়ালেখা যদি কারও চোখের শীতলতা ও মনের শান্তির উপকরণ হয়ে যায় তার জন্য পড়ালেখা কত আনন্দের হয়ে যাবে।

০৩. ইলমে দীন শিক্ষা করার কী কী ফযীলত আছে তা স্মরণ করে ইহতিসাব করতে হবে। ইহতিসাব তথা সওয়াব ও প্রতিদানের কথা স্মরণে থাকলে অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।

 

চার. মুহাসাবা বা আত্মবিশ্লেষণ

প্রত্যেক বছর পাঠ্য তালিকায় নতুন কিতাব যুক্ত হয়। কিছু কিতাবের ফনও নতুন হয়ে থাকে। শুরুতেই নতুন কিতাব ও ফনের পরিচয় ও উদ্দেশ্য জেনে নিতে হবে। পড়া ও রপ্ত করার পদ্ধতিও জেনে নিতে হবে। একটি কিতাব পড়ে কতটুকু যোগ্যতা অর্জন হতে পারে এবং ন্যূনতম কতটুকু যোগ্যতা অর্জন হওয়া আবশ্যক তা জেনে এর জন্য মেহনত করার প্রস্তুতি নিতে হবে। সারা বছর মুহাসাবা তথা আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে। কাক্সিক্ষত যোগ্যতা অর্জনের ব্যাপারে সদা সজাগ থাকতে হবে।

 

পাঁচ. কিতাব সংগ্রহ করা

পড়াশোনার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে, কিতাব সংগ্রহ করা। সামর্থ্য অনুযায়ী নিজে কিতাব ক্রয় করা। নিজে কেনার সামর্থ্য না থাকলে মাদরাসার কুতুবখানা বা অন্য কারও থেকে ধার নেওয়া। কোন কিতাব ক্রয় করবে এবং কোন কিতাবের কোন সংস্করণ ভালো তা অভিজ্ঞদের থেকে জেনে নিবে। নিজের সামর্থে্যর পরিমাণ জানিয়ে উস্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করবে, আমার কাছে এত টাকা আছে। এর দ্বারা কোন কিতাব ক্রয় করা উচিত?

বর্তমানে দরসী কিতাবের কম্পোজ করা নুসখা পাওয়া যায়। এগুলো দেখতে সুন্দর, পড়তেও সুবিধা, আবার অনেকগুলোতে অতিরিক্ত তাহকীক তাখরীজ থাকে—এসব বিবেচনায় তালিবুল ইলম ভাইগণ এগুলোর প্রতি বেশি ঝঁুকছেন। তবে দেখা যাচ্ছে, যারা কম্পোজ করা নুসখা পড়ে অভ্যস্ত হচ্ছেন তারা কাদীম নুসখা অনায়াসে পড়তে পারছেন না। এটা একটা কমতি। তাই নবীন তালিবুল ইলম ভাইগণ—যারা এখনো দাওরায়ে হাদীস শেষ করেননি তাদের জন্য কাদীম নুসখা বেশি উপযোগী মনে হচ্ছে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। কাদীম নুসখাগুলোর মাঝে তুলনামূলক ভালোটি নির্বাচন করে তা নিয়মিত পড়লে অধিক যোগ্যতা অর্জন হবে, ইনশাআল্লাহ। তাহকীক তাখরীজের অভাব থাকলে অন্য নুসখার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া আসাতিযায়ে কেরাম সব রকম নুসখা সামনে রেখে তাহকিকী ইবারত বলে দেবেন এবং ভুলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করে দেবেন।

 

ছয়. লেখালেখির অভ্যাস রাখা

কিতাব কেনার আগ্রহ অনেক তালিবুল ইলম ভাইদের মাঝেই আছে। সে তুলনায় খাতা কেনার আগ্রহ অনেক কম। অথচ তালিবুল ইলমের জন্য কিতাবের তুলনায় খাতার প্রয়োজন অনেক বেশি। নিয়মিত লেখার অভ্যাস রাখতে হবে। কোনো উপকারী কথা  পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা নোট করে নেওয়া উচিত। স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর করা মোটেও উচিত নয়। অনেক উপকারী কথা শোনার পর মনে হয় তা স্মরণে থাকবে। কিছু দিন পর, কখনো একটু পরই তা বিস্মৃত হয়ে যায়।

তাছাড়া প্রত্যেক কিতাবের কিছু পাঠকে নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করা উচিত। এর পদ্ধতি হলো, প্রথমে কিতাব, হাশিয়া ও শুরুহাতে ভালোভাবে সবকটি পড়ে নিবে। এরপর চোখ বন্ধ করে পুরো পড়াটি চিন্তা করে নিজের মস্তিষ্কে হাজির করার চেষ্টা করবে। অতঃপর মুখস্থ লিখবে। প্রথমে এই পাঠের যাবতীয় অংশের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন সাজিয়ে নিলে আরও সুন্দর হবে। লেখা শেষ হলে কিতাবের সঙ্গে মিলাবে। মেধাবী সহপাঠী বা উস্তাদকে লেখাটি দেখিয়ে তাসহীহ করে নিলে আরও ভালো হবে। এভাবে লিখলে প্রথমত এই পাঠ ভালোভাবে আয়ত্ত হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত উত্তরপত্র গুছিয়ে লেখার যোগ্যতা তৈরি হবে। উপস্থাপনাও দিন দিন সুন্দর হতে থাকবে। তৃতীয়ত লেখালেখির যোগ্যতাও তৈরি হতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

 

সাত. নিয়মমাফিক মেহনত

ইসতি‘দাদ ও যোগ্যতা তৈরির জন্য নিয়ম অনুযায়ী মেহনত করতে হবে। হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলতেন, যে তালিবুল ইলম তিনটি কাজ করবে তার যোগ্যতা তৈরির ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি।

এক. সবকের আগে মোতালাআ করা।

এর জন্য নিজে নিজে সবকিছু হল করা ও বুঝে ফেলা জরুরি নয়। বরং মুতালাআর ন্যূনতম স্তর হলো, মালূমাত ও মাজহূলাতকে তাময়ীয করা। অর্থাৎ আজকের পঠিতব্য সবকের কতটুকু আমার জানা ও বোঝা আছে আর কতটুকু জানি না, বুঝি না তা চিহ্নিত করে নেওয়া। একবার সামনের সবকের ইবারত পড়ে নিলেই এতটুকু বিষয় অর্জিত হয়ে যায়। কেউ এতটুকু কাজ করলে তার মুতালাআর ন্যূনতম হক আদায় হয়ে যায়। নিয়মিত এতটুকু কাজ করলে তার ইসতিদাদ ও যোগ্যতার ভিত্তি তৈরি হতে থাকবে।

দুই. দরসে উপস্থিত হয়ে মনোযোগের সঙ্গে উস্তাদের কথা শোনা।

মুতালাআর সময় যে অংশ বুঝে এসে গেছে তা উস্তাদের দরসের সঙ্গে মিলাবে, আমি যা বুঝেছিলাম উস্তাদ কী তাই বুঝাচ্ছেন? মিলে গেলে তো আমার বুঝ ঠিক আছে। এর জন্য শুকরিয়া আদায় করবে। এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা নেয়ামত বৃদ্ধি করে দিবেন এবং নিজের আগ্রহ উদ্দীপনাও বৃদ্ধি পাবে। আমি যা বুঝেছিলাম উস্তাদ যদি অন্য রকম বুঝান তাহলে নিজের ভুলটা কীসের কারণে হয়েছে, তা চিন্তা করবে এবং সামনে এধরনের ভুল যাতে না হয় সেজন্য সতর্ক হবে।

মুতালাআর সময় যে অংশ বুঝে আসেনি তা মনোযোগ সহকারে শুনে সবকেই বুঝে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে তাও আদবের সঙ্গে সবকেই জিজ্ঞাসা করবে। উস্তাদ উত্তর দেওয়ার পরও বুঝে না আসলে উস্তাদের মেযাজ বোঝার চেষ্টা করবে। প্রসন্ন অবস্থায় থাকলে আরও জিজ্ঞাসা করবে। অন্যথায় আপাতত চুপ হয়ে যাবে। পরবর্তী মুনাসিব সময়ে বোঝার চেষ্টা করবে। নিজে মুতালাআ করে এবং সহপাঠীদের সঙ্গে মোযাকারা করেও বুঝার চেষ্টা করবে।

তিন. সবকের পর তাকরীর করা।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, উস্তাদ যেভাবে সবকটি বুঝিয়েছেন সেভাবে নিজে বলা। যদি কোনো সাথী থাকে তাহলে তাকে লক্ষ করে তাকরীর করবে। অন্যথায় একা একাই তাকরীর করবে।

এই তিন কাজ (দরসের পূর্বে মুতালাআ, মনোযোগ সহকারে দরস শোনা ও দরসের পর তাকরীর করা) যে করবে তার মাঝে কিতাব বোঝা ও বোঝানোর ইসতিদাদ—যোগ্যতা তৈরি হবে, ইনশাআল্লাহ। এরপর সবক মুখস্থ করা অতিরিক্ত অর্জন। ইসতিদাদ তৈরি হওয়া এর ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে পরীক্ষা ও প্রয়োজনের সময় ইসতিদাদকে কাজে লাগানোর জন্য মুখস্থ করারও প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে প্রত্যেক ফনের কায়দা—কানুন, বিভিন্ন প্রকারভেদ, সংজ্ঞা ও আমলী জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি মুখস্থ করা জরুরি।

যাদের তাকরার করানোর সুযোগ আছে, তাকরারে শরিক হওয়ার মতো সাথী আছে তাদের জন্য এই সুযোগকে গনিমত হিসাবে মূল্যায়ন করা উচিত। এর দ্বারা নিজের বুঝ পরিপক্ব হয় এবং অন্যদেরকে বুঝানোর যোগ্যতাও তৈরি হয়। অধিকন্তু অন্যদেরকে কিতাব বুঝতে সহায়তা করার কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে খায়ের ও বরকত লাভ হয়। হাদীস শরীফে আছে, সর্বোত্তম মানুষ সে, যে মানুষের উপকার করে।

 

আট. উস্তাদের আদব

উস্তাদের আদব ও ইহতিরাম করবে। ইলম দান করেন আল্লাহ তাআলা। এর মাধ্যম হলেন উস্তাদ। ইলমের স্থান হলো কলব। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِیْنُ،  عَلٰی قَلْبِکَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ

রুহুল আমীন (জিবরীল আ.) এই কোরআনকে নাযিল করেছেন আপনার অন্তরে। যেন আপনি সতর্ককারীদের একজন হন।—সূরা শুআরা, ২৬ : ১৯৩, ১৯৪

بَلْ هُوَ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ فِیْ صُدُوْرِ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ

যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে তাদের অন্তরে এটা স্পষ্ট নিদর্শন।—সূরা আনকাবুত, ২৯ : ৪৯

ইমাম শাতেবী রহ. বলেছেন,

وقد قالوا: إن العلم كان في صدور الرجال، ثم انتقل إلى الكتب، وصارت مفاتحه بأيدي الرجال

উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ইলম আলেমদের অন্তরে ছিল। অতঃপর কিতাবের পাতায় এসেছে। তবে এর চাবি রয়ে গেছে আলেমদের হাতে।

অতএব ইলম পেতে হলে উস্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং উস্তাদের নেক নজর অত্যন্ত জরুরি। উস্তাদের নেক নজর না থাকলে ইলম উপকারী হবে না। ইলমে বরকত হবে না। বুযুর্গরা এর সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন। মেঘ থেকে স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি একটি পরিচ্ছন্ন ছাদে বর্ষিত হচ্ছে। তবে ছাদ থেকে যে নালার মাধ্যমে পানি নিচে পড়ছে তাতে ময়লা আছে। তাহলে বৃষ্টির পানি মূলত পরিচ্ছন্ন ও সুপেয় হলেও এই পানি ময়লাযুক্ত হয়ে আসবে। এর দ্বারা উপকার হবে না। তদ্রƒপ উস্তাদের অন্তর কারও ব্যাপারে পরিষ্কার না থাকলে তার ইলম উপকারী হবে না।

উস্তাদের পরিপূর্ণর্ অনুগত হওয়া ছাড়া ইলম হাসিল হবে না। কোনো নালা বা কলের টেপ থেকে পানি নিতে হলে নালা ও টেপের অনুগত হতে হয়। প্লাষ্টিকের কলের টেপ থেকে যদি স্বর্ণের গ্লাসে পানি ভরতে চায় তাহলেও স্বর্ণের গ্লাসকে প্লাষ্টিকের কলের টেপের অনুগত হতে হবে। একটু এদিক—সেদিক হলেও পানি পাওয়া যায় না। তদ্রƒপ ইলম পেতে হলে উস্তাদের পরিপূর্ণর্ অনুগত হতে হবে। পরিপূর্ণ আদব ইহতিরাম করতে হবে।

যথাসাধ্য উস্তাদের খেদমত করাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করবে। উস্তাদের সঙ্গে সময় বুঝে খুসুসী মোলাকাত করবে। আমি যেমন উস্তাদকে চিনি উস্তাদও যেন আমাকে চিনেন। আমার ব্যাপারে কেউ উস্তাদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি যেন আমার তাযকিয়া করতে পারেন এবং আমাকে তার ছাত্র বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। উস্তাদের সঙ্গে খুসুসী সম্পর্কের আলামত হলো, উস্তাদের খুসুসী দুআতে ছাত্রের কথা স্মরণ হওয়া। এমন সম্পর্ক অর্জনের চেষ্টা করবে। সকল উস্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকতে হবে। অন্তত একজন উস্তাদের সঙ্গে খুসুসী সম্পর্ক থাকতে হবে। তা না হলে ইলমে বরকত আসবে না।

বড় মাদরাসাগুলোতে ছাত্রসংখ্যা বেশি হয়। উস্তাদগণ সবাইকে চিনেন না। এমন ক্ষেত্রে উস্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করতে হয়। অনেক ছাত্রই এমন হয়, যাদের ইচ্ছা থাকে উস্তাদের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং একটু খেদমত করবে। কিন্তু ভয়, সংকোচ বা উস্তাদের ব্যস্ততার কথা চিন্তা করে উস্তাদের কাছে যায় না। এটা ঠিক নয়। আসাতিযায়ে কেরাম পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন বটে। তবে উস্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও যেহেতু ছাত্রদের জন্য উপকারী তাই ছাত্রদেরকে সাক্ষাৎ ও খুসুসী ইসতিফাদার একটু সুযোগ দেওয়াকেও আসাতিযায়ে কেরাম নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করেন। এতে তারা খুশীও হয়ে থাকেন। তাই তালিবুল ইলমদের কর্তব্য হলো, দ্বিধা—সংকোচ ছেড়ে সময় বুঝে উস্তাদগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। কামরায় প্রবেশের জন্য সালাম দিয়ে অনুমতির অপেক্ষা করবে। যদি ভেতর থেকে সালামের উত্তর বা প্রবেশের অনুমতি আসে তাহলে প্রবেশ করবে। হাত যদি অবসর থাকে তাহলে মুসাফাহা করবে। কথা বলার অনুমতি দিলে নিজের নাম, পরিচয়, জামাতের নাম ও সাক্ষাতের উদ্দেশ্য বলবে। খেদমতের ইচ্ছা থাকলে তাও বলবে। যেমন : নিজের নাম ও অবস্থান স্থল জানিয়ে বলবে, হুযুরের খেদমত করতে পারাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করি। হুযুরের যে কোনো খেদমতের জন্য আমাকে ডাকলে আমি অনেক খুশী হবো। বিশেষ কোনো কাজে পারদর্শিতা থাকলে তাও বলে দিবে, এ ধরনের কাজ করার অভ্যাস আছে। হুযুরের এধরনের কোনো কাজ থাকলে দয়া করে আমাকে খেদমত করার সুযোগ দিবেন।

একজন উস্তাদকে তালীমী মুরব্বী নির্ধারণ করে তাঁর হাতে নিজেকে সেঁপ দিবে।

 

নয়. ইলমের পথের প্রতিবন্ধক বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা

ইলম অর্জনের পথে যেসকল বিষয় প্রতিবন্ধক হয় তা পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। ইলমের অনেক প্রতিবন্ধক রয়েছে। বড় বড় কয়েকটি প্রতিবন্ধক হলো :

০১. গোনাহ। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ইলমের মহল ও স্থান হলো অন্তর। আর গোনাহের দ্বারা অন্তর কলুষিত ও অপবিত্র হয়ে যায়। অপবিত্র অন্তরে পবিত্র ইলম থাকে না। এক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ী রহ. এর প্রসিদ্ধ শেরটি উল্লেখযোগ্য।

شَكَوتُ إِلى وَكيعٍ سوءَ حِفظي

فَأَرشَدَني إِلى تَركِ المَعاصي

وَأَخبَرَني بِأَنَّ العِلمَ نورٌ

وَنورُ اللهِ لا يُهدى لِعاصي

আমি আমার উস্তাদ ওয়াকি এর নিকট মুখস্থশক্তির দুর্বলতার অভিযোগ করলাম। তিনি আমাকে গোনাহ বর্জনের নির্দেশ দিলেন। কেননা, ইলম আল্লাহ তাআলার নূর। আর গোনাহগারকে আল্লাহ তাআলার নূর দান করা হয় না।

হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. এর এক বয়ানে পড়েছি। তিনি বলেছেন, যদি দুইজন ছাত্র সমান মেধাবী ও সমান যোগ্যতাসম্পন্ন হয়। মেহনতও সমান সমান করে। তবে তাদের একজন গোনাহ বর্জনকারী মুত্তাকী হয় আর অন্যজনের গোনাহের অভ্যাস থাকে। তাহলে নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, গোনাহবর্জনকারী মুত্তাকী ছাত্র অপরজনের তুলনায় ইলমে অগ্রসর হবে এবং মাকবুল হবে।

০২. হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাবার। হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাবারের কারণেও অন্তর কলুষিত হয়ে যায়। দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসীন হযরত মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ. বলেছেন, ‘একবার এক দাওয়াতে সন্দেহযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ৪০ দিন পর্যন্ত অন্তরে এর গান্দেগী ও কদর্যতা অনুভব করেছি। মনে বারবার গোনাহের ওয়াসওয়াসা আসত।’ তিনি পবিত্র অন্তরের অধিকারী ছিলেন। তাই সন্দেহযুক্ত খাবারের কদর্যতাও অনুভব করেছেন। আমাদের পাপী অন্তরে সুস্পষ্ট হারামের কদর্যতাও অনেক সময় অনুভব হয় না। আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করুন এবং হিফয ও আমান দান করুন। অতএব পবিত্র ইলম অর্জন করতে হলে হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে।

০৩. পড়ালেখা ছাড়া অন্য সকল ব্যস্ততা বর্জন করতে হবে। ইলমের জন্য চেষ্টা—সাধনার আলোচনায় এব্যাপারে কিছু নিবেদন করা হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে মোবাইলের কথা বলতে হয়। মোবাইল এযুগে ইলমের পথে অনেক বড় প্রতিবন্ধক। ব্যস্ততা ও গোনাহের অনেক বড় উপকরণ। অতএব তলবে ইলমের যমানায় কিছুতেই নিজের কাছে মোবাইল রাখা উচিত নয়।

 

দশ. মাদরাসা ও সহপাঠীর হক আদায় করা

মাদরাসা ও সহপাঠীদের হক আদায় করা। তাদের সঙ্গে খায়েরখাহী করা। মাদরাসার খায়েরখাহী হলো, মাদরাসার সকল আসাতিযা ও মুলাযিমদের সম্মান করা, মাদরাসার নিয়ম—কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নবান হওয়া, মাদরাসার সকল আসবাবপত্রের হেফাজত করা, মাদরাসার উন্নতি, সুনাম, সুখ্যাতি অর্জন ও তা ধরে রাখার চেষ্টা করা। নিজের চালচলন, বেশভূষা ও আমল—আখলাক এতটুকু মানসম্পন্ন হওয়া যার দ্বারা মাদরাসার সুনাম হয়।

সহপাঠীদের খায়েরখাহী হলো, তাদের ইকরাম করা এবং কারও হক নষ্ট না করা। মাদরাসার সকল তালিবুল ইলম একে অপরের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর হক আদায় ও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে কোরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফে অনেক তাকীদ এসেছে। উপরন্তু এই প্রতিবেশীরা তালিবুল ইলম, তারা আল্লাহর রাস্তায় আছেন। তাই তারা সদ্ব্যবহারের অধিক হকদার।

অতএব বিনা অনুমতিতে অন্যের জিনিস ব্যবহার করবে না, ধরবেও না। এক্ষেত্রে তালিবুল ইলম ভাইদের গাফলতি খুবই দুঃখজনক পর্যায়ের। অন্যের জিনিস আমরা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করে থাকি। আবার ব্যবহার শেষে যথাস্থানেও রাখা হয় না। বিশেষ করে জুতা নিয়ে নিত্য দিনই অনেককে পেরেশানিতে পড়তে হয়। এ কারণে আমার প্রয়োজন পড়তে পারে এমন সব সামান নিজের সংগ্রহে থাকা উচিত। পড়ার টেবিল, জায়নামায, গামছা, দস্তরখান, জগ, গ্লাস ইত্যাদি যেন অন্যের থেকে চেয়ে নিতে না হয়। বিশেষ করে ইলমের সকল আসবাব সংগ্রহে থাকতে হবে। যেমন : খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, কারেকশন পেন ইত্যাদি। আমার কাছে না থাকলে যা আছে তাতেই সবর করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

এমনিভাবে এমন উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবে না যার দ্বারা অন্যদের পড়ালেখা বা বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে। পড়ার নির্ধারিত সময়ে রুমের বাতি নিভাবে না। ঘুমের নির্ধারিত সময়ে রুমের বাতি জ¦ালাবে না। ইজতেমায়ী কাজের দায়িত্ব নিয়মমতো পালন করবে। ইজতেমায়ী সামানাকে নির্ধারিত জায়গায় সংরক্ষণ করবে। অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না। কারও কোনো দোষ, ক্রটি বা পদস্খলন প্রকাশ পেলে তার সমালোচনা ও বিদ্রƒপ করবে না। বরং সর্বদা নিজের পড়ালেখা ও আমল—আখলাকের উন্নতির ফিকিরে মগ্ন থাকবে। এ ব্যাপারে থানভী রহ. এর একটি মূল্যবান কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখার মতো। তিনি বলেছেন, আমার মাঝে কখনো অহংকার ও গর্ব আসে না। কেননা, হযরত মুসা আলাইহিস সালামের লাঠি যেমন যাদুকরদের সকল লাঠি ও রশিকে গিলে ফেলেছিল তদ্রƒপ শেষ বিচারে আমার কী পরিণতি হবে—এই চিন্তা আমার অন্য সকল চিন্তা—ভাবনাকে গিলে ফেলেছে।

এছাড়া শরীয়ত ও সুন্নতের পাবন্দি করা এবং আসাতিযায়ে কেরামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলা তালিবুল ইলমদের সদা কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।

—লেখক, শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম, ফরিদাবাদ, ঢাকা—১২০৪

লেখক সম্পর্কে
Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন