প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

নামায খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত

নামায খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত

মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস

 

নামাযের গুরুত্ব

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামায। এটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। নামায ফরয হয়েছে মেরাজের রাতে আল্লাহ পাকের আরশে। সে রাতে আল্লাহ পাক ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছিলেন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার পথে হযরত মূসা আ. এর সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ৫০ ওয়াক্তের চেয়ে কমিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে ফিরে যান। আল্লাহ তাআলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায কমিয়ে দেন। আবারও দেখা হয় হযরত মূসা আ. এর সঙ্গে। তিনি আরও কমিয়ে আনতে বলেন। এভাবে নয় বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গিয়েছেন আর প্রতিবারই পাঁচ ওয়াক্ত করে কমানো হয়। অবশেষে ৪৫ ওয়াক্ত কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করা হয়। এরপর আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন,

إِنَّهٗ لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَإِنَّ لَكَ بِهٰذِهٖ الْخَمْسِ خَمْسِيْنَ.

আমার কাছে যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যায় তখন তা আর পরিবর্তন হয় না। অতএব এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিনিময়ে পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই সওয়াব প্রদান করা হবে।—জামে তিরমিযী : ২২১

কোরআনে কারীমে রাসূলকে লক্ষ্য করে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ طَرَفَیِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ الَّیْلِ ؕ     اِنَّ الْحَسَنٰتِ یُذْهِبْنَ السَّیِّاٰتِ

আপনি নামায আদায় করুন। দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু সময়ে। নিশ্চয়ই নেক আমল গোনাহকে মিটিয়ে দেয়।—সূরা হুদ, ১১ : ১১৪

এ আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের কথা বলা হয়েছে। দিনের দুই প্রান্ত বলতে সূর্য হেলে পড়ার আগে ও পরে। সূর্যের হেলে পড়ার আগে আমরা ফজরের নামায আদায় করি। সূর্য হেলে যাওয়ার পর আদায় করি জোহর ও আসর। আর রাতের কিছু অংশে পড়া হয় মাগরিব ও এশা। তো দিনে তিন ওয়াক্ত, রাতে দুই ওয়াক্ত। মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নামাযের দ্বারা গোনাহ মাফ হয়

সহীহ বুখারীতে এসেছে, এক সাহাবী পরনারীকে চুম্বন করে ফেললেন। চুম্বনের পর সাহাবী অত্যন্ত অনুতপ্ত হন। তিনি পেরেশান হলেন, এত বড় গোনাহ করে ফেললাম, আমার কী উপায় হবে?

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ঘটনার বিবরণ শোনালে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন এ আয়াত নাযিল করেন,

اِنَّ الْحَسَنٰتِ یُذْهِبْنَ السَّیِّاٰتِ

নিশ্চয়ই নেক আমল গোনাহকে মিটিয়ে দেয়।—সূরা হুদ, ৫২ : ১১৪

সাহাবী প্রশ্ন করলেন, ‘নামায পড়লে এবং নেক কাজ করলে গোনাহ মাফ হয়ে যাবে’ এটা কি শুধু আমার জন্যই?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, এ বিধান উম্মতের সব সদস্যের জন্য।—সহীহ বুখারী : ৪৬৮৭

কেউ যদি তওবার নিয়ত ছাড়াই নামায আদায় করে, তাহলে এর দ্বারা সগীরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়। প্রতি ফরয নামাযের পর তিন বার ইস্তিগফার পড়া সুন্নত। তো যে ব্যক্তি ফরয নামাযের পর তওবার নিয়তে তিন বার اَسْتَغْفِرُ اللهَ পড়বে তার কবীরা গোনাহও আল্লাহ মাফ করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।

সহীহ বুখারীর অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি তোমাদের কারও বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, সে ওই নদীতে দৈনিক পাঁচ বার গোসল করে, তাহলে কি তার দেহে কোনো ময়লা থাকতে পারে?

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না, তার দেহে কোনো ময়লা থাকতে পারে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দৃষ্টান্ত এমনই। আল্লাহ পাক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সুবাদে সকল গোনাহ মাফ করে দেন।—সহীহ বুখারী : ৫২৮

 

শয়তান নামাযের মনোযোগ নষ্ট করে

নামায এমন এক ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার মালিক ও রব আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের সামনে নিজের দীনতা ও হীনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। নামাযের পদ্ধতিটাই এমন, এর দ্বারা মহান মালিকের সামনে তাঁর গোলামের গোলামি প্রকাশ পায়। নামাযে তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত ওঠানোর অর্থ হলো আত্মসমর্পণ করা। কেউ যখন কারও সামনে আত্মসমর্পণ করে তখন তার দৃশ্য এমনই হয়ে থাকে।

যুদ্ধের ময়দানে দুই পক্ষ লড়াই করছে। কোনো এক পক্ষ দুর্বল হয়ে পরাজয়বরণ করা ও নিঃশেষ হওয়ার উপক্রম হলে অপর পক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের সময় সকলেই তাদের অস্ত্র ফেলে দিয়ে খালি হাত উঁচু করে নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে নেয়। হাতে বন্দুক রেখে আত্মসমর্পণ হয় না।

তো নামাযে তাকবীরে তাহরীমার অবস্থাটা লক্ষ করুন। বান্দা যখন কান পর্যন্ত হাত তোলে তখন সে থাকে রিক্তহস্ত। যেন বান্দা বোঝাতে চাইছে, হে আল্লাহ আমি বহু অন্যায় করেছি, গোনাহ করেছি, সীমালঙ্ঘন করেছি কিন্তু আপনার দরবার ছেড়ে পালিয়ে যাব কোথায়। মাওলা, আমি আপনার দরবারে হাজির হলাম। আমার সকল দীনতা, হীনতা স্বীকার করে দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণ করলাম।

বান্দা যেহেতু নামাযে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয় তাই সম্পূর্ণ ধ্যান—খেয়াল আল্লাহর প্রতি মুতাওয়াজ্জুহ রাখা চাই। অনেকেই অভিযোগ করেন, নামাযে মন বসে না, এদিক—সেদিক খেয়াল চলে যায়। আসলে মনোযোগসহ নামায পড়া কঠিন বিষয়ই বটে। কারণ, বান্দা যখন নামাযে দাঁড়ায় শয়তান তখন তার মনোযোগ অন্য দিকে ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِذَا اُذِّنَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهٗ ضُرَاطٌ حَتّٰى لَا يُسْمَعَ التَّأذِيْنُ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ أَقْبَلَ فَإِذَا ثُوِّبَ أَدْبَرَ فَإِذَا سَكَتَ أَقْبَلَ فَلَا يَزَالُ بِالْمَرْءِ يَقُوْلُ لَهٗ اُذْكُرْ مَا لَم يَكُنْ يَذْكُرْ حَتّٰى لاَ يَدْرِيْ كَمْ صَلّٰى.

যখন নামাযের আযান হয় তখন শয়তান বায়ু ত্যাগ করতে করতে এমন স্থানে পালিয়ে যায় যেখানে আযানের আওয়াজ শোনা যায় না। মুয়াজ্জিন আযান শেষ করলে সে ফিরে আসে। ইকামত শুরু হলে আবার পালিয়ে যায় এবং ইকামত শেষে ফিরে আসে। এরপর শয়তান মুসল্লীকে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে―এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো, অথচ এগুলো তার মনে আসার কথা ছিল না। ফলে এমন অবস্থা হয়, সে বলতে পারে না কত রাকাত পড়েছে।—সহীহ বুখারী : ১২২২

নামাযের যখন আযান হয় তখন শয়তান পলায়ন করে। এজন্য খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, আযান চলাকালীন মনের অবস্থা খুব ভালো থাকে। মনে শয়তানের কোনো ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা থাকে না। কিন্তু আযান শেষ হলেই শয়তান ফিরে আসে। মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে—জামাতের আরও অনেক সময় বাকি আছে। তোমার এই কাজ ওই কাজ সেরে নিতে পারবে। যারা নিয়মিত জামাতে নামায পড়েন তাদেরও বিভিন্ন কাজে লিপ্ত করে জামাত থেকে গাফেল করে দেয় কিংবা জামাতে আসতে বিলম্ব করিয়ে দেয়। এরপর জামাতে এলে ইকামত শুরু হলে শয়তান পালিয়ে যায়। তখন মনে কোনো কুমন্ত্রণা থাকে না। কিন্তু ইকামত শেষ হতেই শয়তান ফিরে আসে এবং মুসল্লীকে বিভিন্ন কথা স্মরণ করিয়ে নামায থেকে অন্য দিকে মন ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে দেখা যায় নামাযে এমন এমন বিষয় স্মরণ হয় যা সে অনেক ভেবেচিন্তেও স্মরণ করতে পারত না। আবার দেখা যায় নামাযের পর সব কথা খেয়াল থাকে না। নামাযের পর অনেক ভেবেচিন্তেও বের করা সম্ভব হবে না, কোন রাকাতে কী কথা মনে এসেছিল। এজন্য খুব সহজেই কোনোরূপ চেষ্টা ছাড়াই নামাযে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

 

হযরত হাতেম আসাম রহ.এর ঘটনা

একবার হযরত হাতেম আসাম রহ.—কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কীভাবে নামায আদায় করেন।

তিনি জবাবে বললেন, আমি প্রথম খুব ভালোভাবে ওযু করে নিই। ওযুর দ্বারা আল্লাহ তাআলা বাহ্যিক অঙ্গ—প্রত্যঙ্গের সগীরা গোনাহগুলো মাফ করে দেন। এরপর আমি যখন নামাযে দাঁড়াই তখন মনে করি, যেন আমি পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে আছি। একটু নড়াচড়া করলেই নিচে জাহান্নামের আগুনে পড়ে যাব। মনে করি, কাবা ঘর আমার সামনে। আমার ডানে জান্নাত আর বামে জাহান্নাম। পেছনে মালাকুল মউত দাঁড়িয়ে আছে। আর মনে করি, এটাই আমার জীবনের শেষ নামায।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এভাবে আপনি কতদিন যাবৎ নামায আদায় করছেন?

বললেন, ৩০ বছর যাবৎ আমি এভাবেই নামায আদায় করে আসছি।

এ কথা শুনে প্রশ্নকারী কেঁদে ফেললেন। বললেন, আমি তো জীবনে এক ওয়াক্ত নামাযও এভাবে আদায় করতে পারিনি।

এখন কথা হলো শয়তান ও নফসের এত প্ররোচনার পরও একাগ্রচিত্তে নামায আদায়ের উপায় কী?

 

নামাযে ধ্যানখেয়াল ও খুশুখুজু সৃষ্টির পাঁচটি উপায়

আমাদের দাদা শায়খ হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. নামাযে ধ্যান—খেয়াল ও খুশু—খুজু সৃষ্টির পাঁচটি উপায় বর্ণনা করেছেন। এগুলো অবলম্বন করলে একাগ্রচিত্তে পূর্ণ মনোযোগসহ নামায আদায় করা সম্ভব। উপায়গুলো হলো—

এক. যারা অর্থ বোঝে তারা অর্থের প্রতি পূর্ণ খেয়াল রেখে কেরাত পড়বে। প্রতিটি তাকবীর, তাহমীদ, তাসবীহ ও অন্যান্য দুআ পাঠের সময় অর্থের প্রতি লক্ষ রাখবে। এর দ্বারাও মন অন্য কিছুর প্রতি ধাবিত হওয়া থেকে বিরত থাকবে।

দুই. কখনো কোরআনে কারীমের এমন অংশ তেলাওয়াত করা হয় যার অর্থ আমার জানা নেই কিংবা মুসল্লী যদি সাধারণ মানুষ হয় তাহলে এ ক্ষেত্রে নামাযের কেরাত, তাকবীর, তাহমীদ, দুআ ও তাসবীহ পাঠের সময় শব্দের প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখবে। উদাহরণত, আল্লাহু আকবার উচ্চারণের সময় প্রতিটি অক্ষর পূর্ণ খেয়াল করে উচ্চারণ করবে। প্রথম হামযা তারপর দুইটি লাম এরপর হা এভাবে প্রতিটি অক্ষর খেয়াল করে উচ্চারণ করবে। অর্থ জানা না থাকলে এভাবে প্রতিটি অক্ষরের প্রতি খেয়াল করে নামায আদায় করবে।

তিন. এই ধ্যান—খেয়ালের সাথে নামায আদায় করবে যেন আমি আল্লাহ পাককে দেখছি। আমার রব আমার খালেক আল্লাহ তাআলা আমার সামনে রয়েছেন। হাদীসে জিবরাইলে উল্লেখ রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ.

এমনভাবে তুমি ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহ তাআলাকে দেখছ।

এটাকে তাসাওউফের পরিভাষায় বলা হয়, ‘মরতবায়ে মুশাহাদা’। এ ধ্যান—খেয়াল জাগ্রত রেখে কেউ নামায আদায় করলে তার মন অন্য দিকে যাওয়া সম্ভব নয়।

হাদীসে ‘তুমি আল্লাহকে দেখছ’ না বলে ‘যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ’ বলা হয়েছে। কারণ, আল্লাহ পাককে সরাসরি দেখা সম্ভব নয়; বরং আল্লাহ পাককে দেখার ধ্যান করতে হবে। এই অবস্থা অন্তরে সৃষ্টি করে নামায আদায় করতে পারলে ইনশাআল্লাহ নামাযে মন বসবে। কোনো গোলাম মনিবকে দেখতে পেলে সে কি কোনো অন্যায় করতে পারবে? মনিবের নাফরমানি করতে পারবে? কখনোই না।

চার. যদি এ ধ্যান অন্তরে সৃষ্টি করা সম্ভব না হয়, তাহলে এ কথা খেয়াল করবে, আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَإنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهٗ يَرَاكَ.

এমনভাবে তুমি ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহ তাআলাকে দেখছ। তাঁকে দেখার এ ধ্যান সৃষ্টি করা সম্ভব না হলে তিনি তো অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।

এটাকে তাসাওউফের পরিভাষায় ‘মরতবায়ে মুরাকাবাহ’ বলা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন এ ধ্যানে নামায আদায় করলে অবশ্যই নামাযে মন বসবে। কোনো গোলাম মনিবকে দেখতে না পেলেও যদি তার জানা থাকে মনিব তাকে দেখছেন, তাহলে এ অবস্থায় কি তার পক্ষে কোনো অন্যায়—অপরাধে লিপ্ত হওয়া সম্ভব? এমনইভাবে মুসল্লী যখন ‘আল্লাহ আমাকে দেখছেন’ এ ধ্যানের সঙ্গে নামায আদায় করবে তখন তার অন্তরে অন্য কোনো ধ্যান—খেয়াল আসবে না।

আল্লাহ তাআলা তো আমাদের সর্বদাই দেখছেন। আমাদের সবকিছু তার কাছে একেবারে সুস্পষ্ট। আমার বাহ্যিক সকল কর্মকাণ্ড তো দেখছেনই এমনকি আমার অন্তর কী কল্পনা করে তাও তিনি জানেন। কোরআনে কারীমে বলা হয়েছে,

فَاِنَّهٗ یَعْلَمُ السِّرَّ وَاَخْفٰی

سِرّ হলো যা আমরা কল্পনা করছি আর اَخفٰی হলো যা আমি এখনো কল্পনা করিনি, ভবিষ্যতে করব। আমি বর্তমানে কী কল্পনা করছি আল্লাহ তাআলা তাও জানেন, আবার ভবিষ্যতে কী কল্পনা করব তাও জানেন।

পাঁচ. নামাযে দাঁড়ানোর সময় মনে মনে এই খেয়াল করা, হতে পারে এটাই আমার জীবনের শেষ নামায। এ নামাযের পর আমি হয়তো আর নামাযের সুযোগ পাব না। পরবর্তী নামাযের ওয়াক্ত আসার পূর্বেই আমার মৃত্যু হতে পারে। কেউ নামায আদায়ের সময় এই ধ্যান—খেয়াল সৃষ্টি করতে পারলে তার নামাযে ভিন্ন কোনো খেয়াল আসা সম্ভব নয়।

উল্লিখিত পাঁচটির যেকোনো একটি পরিপূর্ণরূপে অবলম্বন করতে পারলে পূর্ণ ধ্যান—খেয়াল ও খুশু—খুজুর সঙ্গে নামায আদায় করা সম্ভব হবে।

 

আকাবিরের নামাযের প্রতি যত্ন

আফসোসের বিষয় হলো আমরা আজ নামাযের প্রতি বড়ই উদাসীন। ফরয নামায ও জামাতের প্রতি আমাদের সীমাহীন উদাসীনতা। আর অন্যান্য সুন্নত ও নফলের অবস্থা তো আরও করুণ। হাদীস শরীফে নফল নামাযের যে সকল ফযীলত ও সওয়াবের কথা এসেছে তা আমাদের জানা আছে। তারপরও কেন নফলের প্রতি যত্নবান হই না। আমরা যদি এ নফল আদায় না করি, তাহলে কারা আদায় করবে? আমরা আমাদের আকাবির, আসলাফ ও পূর্বসূরি বুযুর্গদের জীবনী দেখি। তারা নামাযের প্রতি কতটা যত্নবান ছিলেন।

 

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.

হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.। প্রসিদ্ধ ফকীহ ও মুহাদ্দিস। চার মাযহাবের অন্যতম ইমাম। দৈনিক ৩০০ রাকাত নফল নামায আদায় করতেন। প্রায় শেষ বয়সে জালেম বাদশাহর জুলুমের শিকার হয়ে জেলখানায় বন্দি হন। জেলখানায় তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত করা হতো। জেলখানার সে করুণ মুহূর্তেও দৈনিক ১৫০ রাকাত নফল নামায আদায় করতেন।

ইমাম আবু ইউসুফ রহ.

ইমাম আবু ইউসুফ রহ.। ইমাম আযম আবু হানীফা রহ.—এর প্রিয় শাগরিদ। হানাফী মাযহাবের অন্যতম ইমাম। প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দৈনিক ২০০ রাকাত নফল নামায আদায় করতেন। কোনো কোনো বর্ণনায় ১৫০ রাকাতের কথা বলা হয়েছে।

 

হযরত সাবেত আলবুনানী রহ.

হযরত সাবেত আল—বুনানী রহ.। বিখ্যাত তাবেয়ী। হযরত আনাস রাযি. এর শাগরিদ। ইমাম বুখারী রহ. এ মহান তাবেয়ী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে নামায অত্যন্ত প্রিয় ছিল। ইন্তেকালের পর লাশ কবরে রাখা হলো। কবরে লাশ রেখে কাঁচা ইট দিয়ে কবর বন্ধ করা হচ্ছিল। আমাদের দেশে বাঁশ দেওয়া হয়। যিনি ইট রাখছিলেন তিনি সাবেত আল—বুনানী রহ. এর শাগরিদ আবু সিনান রহ.। হঠাৎ কবরের একদিকের ইট পড়ে গেল। ফাঁকা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যে সাবেত আল—বুনানী নামাযে দণ্ডায়মান। আবু সিনান রহ. অন্যদেরও এ দৃশ্য দেখালেন। তারা খুবই আশ্চর্য হলেন। দাফনকার্য পুরোপুরি শেষ না হতেই তিনি কবরে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন!

তারা বাড়ি গিয়ে সাবেত আল—বুনানী রহ. এর এ ঘটনা শোনালেন। জানতে চাইলেন, তাঁর এমন কী আমল ছিল যার দরুন আল্লাহ তাআলা তাকে এ মর্যাদা দান করেছেন।

স্ত্রী জানালেন, তিনি ৪০ বছর যাবৎ নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করেছেন এবং তাহাজ্জুদের পর এ দুআ করেছেন, হে আল্লাহ, কবরে যদি কাউকে নামায পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে আমাকে নামাযের অনুমতি দিয়ো। মনে হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করেছেন এবং তোমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।

 

সুন্নতে মুআক্কাদার ফযীলত

আমরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের আগে পরে যে সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করি এগুলোর ফযীলতও অনেক। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নিয়মিত আদায় করবে তার জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা হলো জোহরের আগে চার রাকাত, পরে দু—রাকাত, মাগরিবের পরে দু—রাকাত, এশার পরে দু—রাকাত এবং ফজরের আগে দু—রাকাত।Ñজামে তিরমিযী : ৪১৪

এ ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা তো আমরা অবশ্যই আদায় করব, পাশাপাশি কিছু নফলেরও অভ্যাস করি। অন্য কোনো নফল পড়তে না পারলেও অন্তত ইশরাকের দু—রাকাত, জোহরের দু—রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদার পর দু—রাকাত, মাগরিবের পর আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদের নামায আদায় করার চেষ্টা করি।

 

ইশরাক নামায

ইশরাক নামায সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর নামায জামাতে আদায় করল, এরপর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহর যিকিরে মগ্ন থাকল, সূর্য উদয়ের পর দুই রাকাত নামায পড়ল, সে এক হজ ও ওমরার সওয়াব লাভ করল।—জামে তিরমিযী : ৫৯৩

সূর্যোদয়ের ১০—১২ মিনিটি পর ইশরাকের ওয়াক্ত হয়। তখন দুই—চার রাকাত নফল নামায পড়ে নেব। অন্তত দুই রাকাত হলেও পড়ে নেব।

 

জোহরে দুই রাকাত

আমরা জোহরের ফরযের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করি। হাদীস শরীফে দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদার পর আরও দুই রাকাত নামাযের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত জোহরের নামাযের পূর্বে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।—জামে তিরমিযী : ৪২৯

জোহরের পূর্বের চার রাকাত বলতে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা যা এক সালামে পড়া হয়। আর পরের চার রাকাত দুই সালামে পড়তে হয়। প্রথম দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আর পরের দুই রাকাত সুন্নতে যায়েদা। এ দুই রাকাত সুন্নতে যায়েদা হলেও এর ফযীলত অনেক বেশি।

 

আওয়াবিন নামায

মাগরিবের পর আওয়াবিন নামায সম্পর্কে দুটি ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। একটি হলো, মাগরিবের ফরযের পর সুন্নতসহ ছয় রাকাত নামায পড়লেই তা আওয়াবিন বলে গণ্য হবে। অপর বর্ণনায় সুন্নতের পর ছয় রাকাতের কথা বলা হয়েছে। আমরা দ্বিতীয় বর্ণনা অনুযায়ী আমল করতে না পারলেও প্রথম বর্ণনা অনুযায়ী তো সহজেই আমল করতে পারি। আওয়াবিন নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর ছয় রাকাত পড়বে তাকে ১২ বছর নফল ইবাদতের সওয়াব দান করা হবে।Ñজামে তিরমিযী : ৪৩৭

 

তাহাজ্জুদ নামায

তাহাজ্জুদ নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বুযুর্গ বুযুর্গ হননি, কোনো আল্লাহওয়ালা আল্লাহওয়ালা হননি তাহাজ্জুদ ছাড়া। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই বরকতময় আমল। এ সময়টি খুবই বরকতময়। হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহ তাআলা এ সময়ে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন। তিনি বান্দাদের ডেকে বলতে থাকেন, ‘কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী, আমি গোনাহ ক্ষমা করে দেব। কে আছ রিযিকের প্রত্যাশী, আমি রিযিক দান করব। কে আছ বিপদগ্রস্ত, আমি বিপদ থেকে মুক্তি দেব।’

এমন বরকতময় সময়ে ঘুমিয়ে না থেকে উঠে কিছু নফল নামায পড়ে দুআ করি। এটা যদি সম্ভব না হয় অন্তত ঘুমের আগে তাহাজ্জুদ পড়ে নিই। ফতওয়া শামীতে আছে, কেউ যদি এশার সুন্নতের পর বিতরের আগে তাহাজ্জুদের নিয়তে চার রাকাত নামায পড়ে আল্লাহ পাক তাকেও তাহাজ্জুদের সওয়াব দান করবেন।

ইশরাক দুই রাকাত, জোহরের সুন্নতের পর দুই রাকাত, মাগরিবের সুন্নতের পর চার রাকাত ও তাহাজ্জুদের চার রাকাত মোট ১২ রাকাত নফল নামায। এ ১২ রাকাত নফল নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করি।

 

দুই সাহাবীর ঘটনা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের ঘটনা। সুনানে ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদে উল্লেখ রয়েছে, হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, দুই ব্যক্তি একসঙ্গে মুসলমান হলেন। একজন জিহাদের ময়দানে শাহাদতবরণ করলেন। অপরজন এক বছর জীবিত থেকে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেন।

হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি. বলেন, একদিন স্বপ্নে দেখি, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। সেখানে ওই দুই সাহাবীকে দেখতে পেলাম। এ সময় ভেতর থেকে একজন বেরিয়ে এল এবং পরে স্বাভাবিকভাবে যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তাকে জান্নাতে প্রবেশের আহ্বান জানাল। এরপর আবার এসে এক বছর আগে শহীদ হওয়া সাহাবীকে নিয়ে গেলেন। এরপর সে ব্যক্তি আবারও এল। আমাকে বলল, তুমি যাও, তোমার এখনো সময় হয়নি।

হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি. সকালে লোকদের স্বপ্নের বিবরণ শোনালেন। সবাই বেশ অবাক হলো।

বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানলেন। সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জানতে চাইলেন—বিষয়টি এমন হলো কেন, এক বছর পরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী কীভাবে এক বছর আগে শহীদ হওয়া সাহাবীর আগে জান্নাতে গেলেন?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি তার পরে এক বছর জীবিত ছিল না?

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি রমযানের রোযা রাখেনি? নামায পড়েনি? সিজদা করেনি?

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তো উভয়ের মধ্যে আসমান ও জমিনের তফাত!—সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯২৫

এক বছরের নামায, রোযা ও সিজদার উসিলায় এ সাহাবী কতটা উচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছেন।

 

সিজদার ফযীলত

এক বছরে আমরা কী পরিমাণ নামায পড়ি? শুধু ফরয নামাযের হিসাব করলে দেখা যাবে আমরা দৈনিক ১৭ রাকাত ফরয নামায আদায় করি। ফজরে দুই রাকাত, জোহরে চার রাকাত, আসরে চার রাকাত, মাগরিবে তিন রাকাত ও এশায় চার রাকাত—মোট ১৭ রাকাত। এর সঙ্গে তিন রাকাত বিতর যোগ করলে হবে বিশ রাকাত। তো ফরয ও বিতর মিলিয়ে আমরা দৈনিক ২০ রাকাত নামায আদায় করি। সুন্নত ও নফল এর বাইরে। আরবী হিসাবে বছর পূর্ণ হয় ৩৫৪ দিনে। এ হিসেবে এক বছরে হয় ৭,০৮০ রাকাত।

এরপর আসি সিজদার হিসাবে। প্রতি রাকাতে আমরা দুটি সিজদা করি। এ হিসেবে দৈনিক আমরা ২০ রাকাত নামাযে ৪০টি সিজদা করে থাকি। এক বছরে হয় ১৪, ১৬০টি সিজদা। তো শুধু ফরয ও বিতর নামাযে এক বছরে আমরা ১৪, ১৬০ বার সিজদায় অবনত হই আল্লাহর দরবারে।

এক একটি সিজদার মূল্য কত?

ইমাম সাহেব সিজদারত অবস্থায় জামাতে কেউ উপস্থিত হলো, এ অবস্থায় করণীয় হলো তাকবীরে তাহরীমা বলে সিজদায় চলে যাওয়া। এ সিজদা তার রাকাতে গণ্য হয় না। এ রাকাত তাকে আবার আদায় করতে হয়। নিয়ম এটাই, ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায়ই জামাতে শরীক হয়ে যাবে। সিজদায় হলে সিজদায়।

আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক রহ. এ সিজদা সম্পর্কে বলেন, এ ব্যক্তি সিজদা থেকে মাথা উঠানোর আগেই তার সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।—জামে তিরমিযী : ৫৯১

এখন চিন্তা করে দেখি—যে ব্যক্তি এক বছর বেশি হায়াত পেল আর পুরো বছরজুড়ে আল্লাহর দরবারে হাজার হাজার সিজদা করল। এক সিজদার কারণে যদি পেছনের সব গোনাহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন, তাহলে এত হাজার সিজদাকারীর মর্যাদা কত ঊর্ধ্বে হবে!

এই হলো নামায। নামাযের একটিমাত্র রোকনের ফযীলত ও মর্যাদা এত বেশি! অতএব নামাযের প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া চাই। অত্যন্ত গুরুত্বসহ নামায আদায় করা উচিত। নামায এমন ইবাদত যা যত্ন ও গুরুত্বসহ আদায় করতে পারলে অন্যান্য নেক আমল করা সহজ হয় এবং সহজে গোনাহ থেকে বিরত থাকা যায়।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে খুশু—খুযুর সাথে নামায আদায়ের তাওফীক দান করুন। আমীন।

 

Avatar

editor

একটি কমেন্ট করুন