প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

নারী ও দাম্পত্যজীবন

নারী ও দাম্পত্যজীবন

মুফতী শোয়াইবুল্লাহ খান মিফতাহী


আল্লাহ তাআলা তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতা ও গভীর প্রজ্ঞার আলোকে মানুষকে নারী ও পুরুষ দুই প্রকারে সৃষ্টি করেছেন। এরপর একজনকে অপরজনের জন্য সুখ-শান্তি ও পরিতৃপ্তি লাভের উপায় এবং প্রশান্তি ও স্বস্তি অর্জনের মাধ্যম বানিয়েছেন। ফলে পৃথিবী এক বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। আর এ কারণে মানুষের বংশপরম্পরা অব্যাহত রয়েছে। কোরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا کَثِیْرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِیْ تَسَآءَلُوْنَ بِهٖ وَالْاَرْحَامَ ؕ اِنَّ اللهَ کَانَ عَلَیْكُمْ رَقِیْبًا ﴿۱﴾

হে লোক সকল, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে। তার থেকেই তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী (পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহকে ভয় করো যার ওসিলা দিয়ে তোমরা একে অন্যের কাছে নিজেদের হক চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়দের (অধিকার খর্ব করাকে) ভয় করো। নিশ্চিত যেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি লক্ষ রাখছেন।-সূরা নিসা, (৩) : ১

আবার নর-নারীর একজনকে অপরজনের জোড়া বানিয়ে পরস্পরে মহব্বত, ভালোবাসা ও দয়া-মায়ার মধুর বন্ধন সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যা নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার কুদরতের মহান কারিশমা। যেমন স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ইরশাদ করেন,

وَ مِنْ اٰیٰتِهٖۤ  اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْۤا اِلَیْهَا وَ جَعَلَ بَیْنَكُمْ مَّوَدَّۃً  وَّ رَحْمَۃً ؕ اِنَّ  فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَکَّرُوْنَ  ﴿۲۱﴾

তাঁর (কুদরতের) এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।-সূরা রূম : ২১

মোটকথা হলো আল্লাহ তাআলা নর-নারীর মাঝে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করে তাদেরকে এক নতুন জীবন দান করেছেন। এ জীবন একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবনের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। তাই জীবনের এই অধ্যায়ে নারী-পুরুষের ওপর কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কিছু হক ও অধিকার আছে। কিছু আদব আছে। যার প্রতি যত্নবান হওয়া ব্যতীত দাম্পত্যজীবনের প্রকৃত সুখ ও প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব নয়। এখানে যেহেতু নারীদের দায়-দায়িত্ব প্রসঙ্গেই আলোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য, তাই শুধু নারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত ওই দিকগুলো নিয়ে আলোকপাত করতে চাই, যা তার দাম্পত্যজীবন বিনির্মাণে, সুন্দর করে সাজাতে ও ইসলাম অনুযায়ী চলতে উপকারী ও ফলপ্রসূ সাব্যস্ত হবে।

 

স্বামীকে সম্মান করা

বিয়ের পর সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিটির সঙ্গে মেয়ের পরিচয় ও সম্পর্ক হয় তিনি হলেন স্বামী। এ সম্পর্ক ও বন্ধন যতটা গভীর ও মজবুত ঠিক ততটাই নাজুক ও স্পর্শকাতর। তাই এ বন্ধন অটুট রাখতে কিছু নিয়ম-নীতি ও আদবের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন।

এর একটি হলো, স্ত্রী স্বামীকে সম্মান করবে, নিজের চেয়ে বড় মনে করবে এবং তার সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখবে। কোরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوْنَ عَلَی النِّسَآءِ

পুরুষরা নারীদের অভিভাবক।-সূরা নিসা : ৩৪

এ আয়াতে স্বামীর সম্মান ও মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। স্বামী হলো স্ত্রীর অভিভাবক ও তার সর্ববিষয়ে জিম্মাদার। হাদীস শরীফে আছে, এ আয়াতটি সাদ ইবনে রবী রাযি.-এর স্ত্রী হাবীবা বিনতে যায়েদ রাযি.-এর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। স্বামীর অবাধ্য হওয়ার কারণে একবার হযরত সাদ রাযি. স্ত্রীকে একটি থাপ্পড় দিলেন। হাবীবা রাযি.-এর বাবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নালিশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তোমার স্বামীকে একটি থাপ্পড় দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নাও। সে মতে বাবা ও মেয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য রওনা হতেই জিবরাঈল আ. এ আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন, এদিকে ফিরে আসো। এইমাত্র জিবরাঈল আ. আমার কাছে এসেছেন। তিনি তাদেরকে আয়াত পড়ে শুনিয়ে দিলেন। বললেন, আমরা ইচ্ছা করেছিলাম এক রকম আর আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা অন্য রকম। (এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বললেন,) আমি একটি বিষয়ের ইচ্ছা করেছিলাম, আর আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা করেছেন সেটাই কল্যাণকর।-কুরতবী : ৫/১৬৮; রূহুল মাআনী : ৫/২৩

এ আয়াত ও তার শানে নুযুল থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে পুরুষের (স্বামীর) অবস্থান ও মর্যাদা জানা গেল। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, যদি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য সেজদা করার হুকুম দিতাম, তাহলে নারীকে তার স্বামীর প্রতি সেজদা করার হুকুম দিতাম, ওই অধিকারের কারণে, যা আল্লাহ তাআলা নারীদের ওপর পুরুষদের জন্য রেখেছেন।-সুনানে আবূ দাউদ : ১/২৯১; সুনানে তিরমিযী : ১/২১৯; সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩৩

খেয়াল করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর মর্যাদা কতটা উচ্চতায় তুলে ধরেছেন যে, যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করার অনুমতি থাকত তবে স্ত্রীকে আদেশ দেওয়া হতো স্বামীকে সেজদা করার। এ জন্য স্ত্রীর উচিত, স্বামীর সম্মানের প্রতি লক্ষ রেখে জীবনযাপন করা।

বর্তমান নারীরা ইউরোপ, আমেরিকার অনুসরণে স্বামীর ইজ্জত-সম্মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করাই ছেড়ে দিয়েছে। আর সমান অধিকারের অন্তঃসারশূন্য শ্লোগান দিয়ে ইসলামের এই শিক্ষার বিপরীত চলতে শুরু করেছে। কিন্তু মনে রাখবেন, ইসলাম যে পরিমাণ সমান অধিকারের কথা বলে, অন্য আর কেউ তা দিতে পারবে না। (ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।) কিন্তু সমান অধিকারের এমন মতলব গ্রহণ করা যাতে কারও সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখা হবে না—এটা একেবারেই বিবেক-বুদ্ধি ও স্বভাববিরুদ্ধ। আচ্ছা, ‘মানুষ হিসেবে সবাই সমান’ এ কথার অর্থ কি এটা হতে পারে যে, কেউ কারও থেকে বড় বা ছোট নয়? পিতা-পুত্রের মর্যাদা সব দিক থেকে সমান? শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই? অথবা রাজা ও প্রজা সবাই এক স্তরের? এটা তো স্পষ্টই যে সমতার এই অর্থ কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনইভাবে নারী-পুরুষ সমান হওয়ার অর্থ এটা নয়, এবং হতেও পারে না যে, দুজনের মধ্যে কোনো দিক থেকেই পার্থক্য নেই এবং কোনো দিক থেকেই স্বামীর অগ্রাধিকার নেই।

মোটকথা, ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আর স্ত্রীর কর্তব্য হলো স্বামীর সে মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখা। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, হে নারীসমাজ, যদি তোমরা জানতে তোমাদের ওপর তোমাদের স্বামীদের কী হক, তাহলে তোমরা তোমাদের গালের সাহায্যে আপন স্বামীর পায়ের ধুলা-বালি পরিষ্কার করতে।-আল কাবায়ের : ১৭৪

অপর এক হাদীসে আছে, হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, নারীর ওপর কার হক সবচেয়ে বেশি?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার স্বামীর।

ইমাম হাকেম এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন। ইমাম আহমদ ও নাসায়ী হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন।-ফাতহুল বারী :  ১০/৪০২

 

স্বামীর আনুগত্য ও খেদমত

ইসলাম স্বামীর আনুগত্য ও খেদমতকেও নারীর গুণ ও সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করেছে এবং এটাকে নারীর ওপর আবশ্যকও করে দিয়েছে। আর যে স্বামীর আনুগত্য করে না, তার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এক হাদীসে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নারীরা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, রমযানের রোযা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।-মেশকাত : ২১৮

এ হাদীসে স্বামীর আনুগত্যকারী নারীকে সুসংবাদ শুনানো হয়েছে যে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। আর সে ইচ্ছামতো যে-কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। হাদীসের এ অংশে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তার জান্নাত প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই প্রতিবন্ধক হবে না এবং সে নির্বিঘ্নে জান্নাতে পৌঁছে যাবে।-মেরকাত : ৬/২৭৮

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সবচেয়ে উত্তম মহিলা কে?

তিনি বললেন, যে মহিলার দিকে তার স্বামী তাকালে সে তাকে সন্তুষ্ট করে দেয় এবং তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে। চাই সে নির্দেশ তার নিজের ব্যাপারে হোক বা সম্পদের ক্ষেত্রে। সে তার বিরুদ্ধাচরণ করে না, যা তার স্বামী অপছন্দ করে।-নাসায়ী : ২/৭১; মেশকাত : ২৮৩

এই হাদীসে উত্তম নারীর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে :

এক. স্বামী তার দিকে তাকালে, সে তাকে সন্তুষ্ট করে দেয়।

মোল্লা আলী ক্বারী রহ. লেখেন, স্ত্রীর হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চেহারা এবং উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণ দেখলে স্বামী খুশি হয়। আর এর সঙ্গে যদি সুন্দর চেহারাও মিলে যায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। আনন্দ আর আনন্দ।-মেরকাত : ৬/২৭৮

দুই. আদেশ করলে পালন করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য এমন হুকুম যা শরীয়তবিরোধী নয়। যদি কোনো ব্যক্তি শরীয়তবিরোধী আদেশ দেয়, ‘যেমন এ কথা বলে যে, বেপর্দা হয়ে বের হও’, তাহলে তার কথা মান্য করা জায়েয নেই। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا طاعة لمخلوق فى معصية الخالق

আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানীতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য জায়েয নেই। সুতরাং স্বামী যদি শরীয়তবিরোধী হুকুম না দেয়; বরং মুবাহ ও জায়েয কাজের হুকুম দেয়, তাহলে স্ত্রীর জন্য তা পালন করাই তার সৌন্দর্য।

তিন. নিজের ও সম্পদের ক্ষেত্রে স্বামীর মর্জির খেলাফ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।

নিজের ব্যাপারে স্বামীর পছন্দের খেলাফ পদক্ষেপ গ্রহণ করা বলতে বোঝানো হয়েছে, স্বামীর সন্তুষ্টি ও অনুমতি ছাড়া কোথাও আসা-যাওয়া করা, কারও সঙ্গে উঠা-বসা করা ইত্যাদি। আর সম্পদ দ্বারা উদ্দেশ্য ওই সম্পদ, যা স্বামী তাকে প্রয়োজনীয় জীবন উপকরণ হিসেবে দিয়েছে। এর মধ্যে তার সন্তুষ্টি ও অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করা যাবে না। কোনো কোনো আলেমের মতে, সম্পদ দ্বারা স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পদ উদ্দেশ্য। স্ত্রীর জন্য তার নিজের সম্পদ ব্যবহারেও স্বামীর মর্জির বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়। অনুগত নারীর বৈশিষ্ট্য এমনই হয়।-মেরকাত : ৬/২৭৮

হযরত হুসাইন ইবনে মুহসিন রহ. তার এক ফুফী থেকে বর্ণনা করেছেন (যিনি সাহাবীয়া ছিলেন) যে, তিনি বলেছেন, আমি এক প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলাম।

তখন তিনি বললেন, হে নারী, তোমার কি স্বামী আছে?

আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, তাহলে তুমি তাকে ছাড়া একা কেন এসেছ?

বললাম, আমি কোনো ত্রুটি করি না; কিন্তু একেবারে অপারগ হয়ে গেলে।

তিনি আবার বললেন, দেখো, তুমি তাকে ছাড়া কেন এসেছ? সে-ই (স্বামী) তোমার জান্নাত বা জাহান্নাম।-মুসনাদে হুমায়দী : ১/১৭২

এ হাদীসে স্বামীর সন্তুষ্টি ও অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনীহা প্রকাশ করেছেন। শেষে এ কথা বলেছেন, স্বামী হয়তো তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। অর্থাৎ যদি তার আনুগত্য ও খেদমত করো তাহলে জান্নাত পাবে, অন্যথায় জাহান্নাম।

একটি সুদীর্ঘ হাদীসে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি স্বামী তার স্ত্রীকে আদেশ করে যে, হলুদ পাহাড় থেকে পাথর উঠিয়ে কালো পাহাড়ের এবং কালো পাহাড় থেকে সাদা পাহাড়ে স্থানান্তর করো, তাহলে তার জন্য এমনই করা উচিত। ইবনে মাজাহ শরীফে লাল পাহাড় এবং কালো পাহাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।-মেশকাত : ২৮৩; ইবনে মাজাহ : ১৩৩

এর অর্থ হচ্ছে, স্বামীর আনুগত্যের জন্য স্ত্রীকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। চাই তা কঠিন থেকে কঠিনতর কাজ-ই হোক না কেন। এর দ্বারা আনুগত্যের গুরুত্ব বুঝানো উদ্দেশ্য।

হযরত হাসান বসরী রহ. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নারীকে সর্বপ্রথম তার নামায ও তার স্বামীর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে।-আল কাবায়ের : ১৭৩

অর্থাৎ এই প্রশ্ন করা হবে যে, স্বামীর আনুগত্য ও খেদমত করেছে কি না? এখন ভেবে দেখুন স্বামীর সেবা ও আনুগত্য কত জরুরি?

-উর্দু থেকে অনুবাদ করেছেন

মাওলানা মাহবুবুর রহমান

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন