প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

ফত্ওয়া জিজ্ঞাসা

ফত্ওয়া জিজ্ঞাসা

নামায

মুহা. হাবীবুর রহমান

কচুয়া, চাঁদপুর

১৫৭৮. প্রশ্ন : নামাযের মধ্যে সূরা ফাতেহা বা তার কোনো অংশ ভুলবশত ছুটে গেলে অথবা দুইবার পড়লে সে নামাযের বিধান কী?

উত্তর : নামাযের মধ্যে সূরা ফাতেহা বা তার কোনো অংশ ভুলবশত ছুটে গেলে অথবা সূরা ফাতেহা দুইবার পড়লে বা অধিকাংশ পড়ে পুনরাবৃত্তি করলে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।—আদ্দুররুল মুখতার : ২/১৮৪; হাশিয়াতুত তাহ্তাবী আলাল মারাক্বী : ২৪৮, ৪৬০; ফাতহুল ক্বদীর : ১/৫১৯—৫২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৮৫; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৩২

 

আহমাদ তানঈম

মোহাম্মদপুর, ঢাকা

১৫৭৯. প্রশ্ন : একই ব্যক্তি আযান দেওয়া এবং ইমামতি করা জায়েয আছে কি না?

উত্তর : একই ব্যক্তি আযান দিয়ে জামাআতের ইমামতি করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো নিষেধ নেই। এমনকি ইমাম সাহেব ইকামত দিলেও কোনো অসুবিধা নেই। হযরত ওমর ফারুক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, খিলাফতের দায়িত্ব আমার কাঁধে না থাকলে আমি নিজেই আযান দিয়ে নামাযের ইমামতি করতাম।—সুনানে কুবরা লিল বাইহাকী : ১৯১৮, ২০৪১; রদ্দুল মুহতার : ১/৪০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১১০; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ : ১/১৭৪; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ১০/৭০

 

জামাল উদ্দিন

ফরিদাবাদ, ঢাকা

১৫৮০.প্রশ্ন : মসজিদে দ্বিতীয় জামাত জায়েয আছে কি না? বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হব?

উত্তর : সাধারণত দ্বিতীয় জামাতের তিনটি সূরত হতে পারে। যথা:

০১. এমন মসজিদে দ্বিতীয় জামাত হওয়া যেখানে ইমাম ও মুসল্লী নির্দিষ্ট আছে। এধরনের মসজিদে দ্বিতীয় জামাত জায়েয নেই। তবে যদি মেহরাব থেকে পিছনে সরে মেহরাব বরাবর জায়গা ছেড়ে ইমাম দাঁড়ায় এবং আযান—ইকামত ছাড়া দ্বিতীয় জামাত করে তাহলে জায়েয আছে। তবে মাকরুহে তানযিহী ও অনুত্তম হবে।

০২. এমন মসজিদে দ্বিতীয় জামাত হওয়া যেখানে ইমাম—মুসল্লী নির্দিষ্ট নেই, বরং একেকবার একেক দল এসে জামাত করে চলে যায়। এ ধরনের মসজিদে আযান—ইকামতসহ দ্বিতীয় জামাত করা জায়েয আছে।

০৩. কোনো মহল্লার মসজিদে জামাতের নির্দিষ্ট সময় হওয়ার আগে অন্য মহল্লার লোক এসে চুপিসারে আযান—ইকামতসহ মেহরাবে প্রথম জামাত করার পর মহল্লার লোক তাদের নির্দিষ্ট জামাত করা। এ অবস্থায় মহল্লার লোকদের জন্য আযান—ইকামতসহ দ্বিতীয় জামাত করা জায়েয আছে।—বাদায়েউস সানায়ে : (৩৭৮—৩৭৯) ১/৩৮০; আলমুহীতুল বুরহানী : ২/১০৩; আলবাহরুর রায়েক : ১/৬০৫; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া : ১/৩৯; রদ্দুল মুহতার : ১/৫৫২; কিফায়াতুল মুফতী : ৪/৩২৩; কিতাবুন নাওয়াযিল : ৪/৫০০

 

হজ ও ওমরা

আবু হুরাইরা

ফরিদাবাদ, ঢাকা

১৫৮১. প্রশ্ন : আমরা জানি, বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করলে দম ওয়াজিব হয়। এখন কোনো ব্যক্তি যদি ‘তামাত্তু’ হজের নিয়তে ওমরার ইহরামে মক্কায় পেঁৗছে ওমরা সম্পন্ন করে, অতঃপর মক্কায় অবস্থানকালে মক্কা শরীফ থেকে কোনো এক মীকাতের বাইরে যায় এবং সেখান থেকে মীকাতের পয়েন্ট জানা না থাকার কারণে বিনা ইহরামে মক্কায় ফিরে এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে কিংবা যদি মসজিদে আয়েশায় গিয়ে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা আদায় শেষে; যদি সে জানতে পারে যে, সে বিনা ইহরামে মীকাতে প্রবেশ করেছিল; এমতাবস্থায় আবার যেকোনো মীকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসলে তার দম মাফ হয়ে যাবে নাকি তাকে দম—ই দিতে হবে?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উভয়ক্ষেত্রেই তাওয়াফ ও ওমরা পূর্ণ করে ফেলার কারণে পুনরায় মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধলেও তার থেকে দম রহিত হবে না; বরং তার জন্য দম দেয়াই আবশ্যক হবে। অবশ্য লোকটি যদি তাওয়াফ না করতো এবং মসজিদে আয়েশা থেকে যে ইহরাম করেছে এরপর ওমরা আদায় না করে বরং মীকাতে ফিরে গিয়ে সেখানে শুধু তালবিয়া পড়ে আসতো তাহলে তার থেকে দম রহিত হয়ে যেত।—মানাসেকে মোল্লা আলী ক্বারী : ৮৪—৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৩১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৫৫২; ফাতাওয়া কাযীখান : ১/১৭৫; মুআল্লিুমুল হুজ্জাজ, মাসআলা : ৬

 

১৮৮২. প্রশ্ন : মুহতারাম! এক ব্যক্তি ওমরার সফরে গিয়ে ওমরাহ করে হালাল হয়ে তায়েফে বেড়াতে যায়। পরে ইহরামবিহীন মক্কায় প্রবেশ করে। এখন সে দেশে অবস্থান করছে। তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে কি না?

উত্তর : তায়েফ শহর মীকাতের বাহিরে অবস্থিত। আর মীকাতের বাহিরে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির জন্যে ইহরামবিহীন মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নেই। তাই তায়েফ থেকে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। সুতরাং প্রশ্নোল্লেখিত ক্ষেত্রে ইহরামবিহীন মক্কায় প্রবেশের কারণে উক্ত ব্যক্তির উপর আবশ্যক ছিল মীকাতে ফিরে ইহরাম বেঁধে নেয়া। যেহেতু সে মীকাতে ফিরে ইহরাম বাঁধেনি তাই তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইহরামবিহীন অবস্থায় হরমে প্রবেশ করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। দম দেয়ার সাথে সাথে তা থেকে তাওবা করাও জরুরি।—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ৮/৭০২; মানাসেকে মোল্লা ক্বারী : ৮৭; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী : ৩/৪১৩; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫২৬—৫২৭

 

জানাযা—কাফন—দাফন

মোহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম

মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী

১৫৮৩. প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়। এসব বিষয়ে শরীয়তের সঠিক বিধি—বিধান না জানার কারণে বিভিন্ন সময় সন্দেহ সৃষ্টি হয়। বিষয়গুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলা :

ক. জানাযার নামাযের পরে সারিবদ্ধভাবে মাইয়্যেতের চেহারা দেখার প্রথা।

খ. অনেক সময় দেখা যায়, যারা লাশ নামানোর জন্য কবরে নামে তাদের কেউ কেউ মাইয়্যেতের মাথার দিকে কাফনের বাঁধন খোলার পরে তার চেহারা খুলে দেখে।

গ. আমাদের এলাকায় অনেকে ধারণা করে যে, জানাযার পর বা কবরে লাশ নামানোর পর মাইয়্যেতের চেহারা দেখা উচিত নয়। কারণ জানাযার পর মাইয়্যেতের আকৃতি পরিবর্তন হতে থাকে। নেককার হলে ভালো আকৃতি আসে আর বদকার হলে খারাপ আকৃতি আসে।

ঘ. দাফনের পর কবরের চার কোণায় চারটি লাঠি পুঁতে চারজন চার কুল পড়ে তা উঠিয়ে ফেলে। আবার অনেক সময় লাঠি আপন স্থানে রেখে দেয়।

ঙ. দাফনের পর লাগাতার তিন দিন কবরে পানি দেয়।

চ. চল্লিশ কদম হাঁটার সময়ে বা খাটিয়া কাঁধে উঠানোর সময়ে জোরে জোরে বা আস্তে আস্তে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে।

উল্লিখিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানালে উপকৃত হব।

উত্তর : ক. জানাযার নামাযের পর ব্যাপকভাবে মাইয়্যেতের চেহারা দেখতে গেলে অহেতুক দাফন কার্যে বিলম্ব হয়, তাই এ প্রথা সঠিক নয়। তবে যদি জানাযার পর মাইয়্যেতের এমন আপন কেউ মাইয়্যেতকে দেখতে চায়, যে মাইয়্যেতকে না দেখলে তার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে যাবে, যেমন সন্তান, পিতা—মাতা, ভাই—বোন তাহলে তার জন্য জানাযার পর মাইয়্যেতের চেহারা দেখার অবকাশ আছে।

খ. গ. জানাযা বা কবরে রাখার পর মৃত ব্যক্তির চেহারা পরিবর্তন হওয়া নিশ্চিত নয়। কারও ক্ষেত্রে হতেও পারে। খোদা না করুক, কারও চেহারা বিকৃত হয়ে গেলে এবং সাধারণভাবে মানুষ তা দেখলে এর কারণে মৃত ব্যক্তির অসম্মান হবে এবং গীবতের পথ খুলবে । তাই অতীব প্রয়োজন না হলে এ সময় মৃত ব্যক্তির চেহারা না দেখা উচিত।

ঘ. কবরে লাশ দাফনের পর চার কোণায় চারটি লাঠি বা খেজুরের ডাল পুঁতে চারজন চার কুল বলে তা উঠানোর প্রমাণ শরীয়তে নেই। তাই এটা বর্জনীয়। তবে হাদীসে আছে, একবার হুযুরর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের ওপর খেজুরের ডাল দু টুকরা করে গেড়েছিলেন। এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর সাধারণ আমল ছিল না। সাহাবায়ে কেরামেরও সাধারণ আমল ছিল না। তাই একে জরুরি মনে করা বা সাধারণ নিয়ম বানিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। তবে কেউ যদি হাদীসে যতটুকু আছে অর্থাৎ কবরের ওপর খেজুর গাছের ডাল গেঁথে দেয় তাহলে এতটুকু করার অবকাশ আছে।

ঙ. মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর মাটি জমানো ও চাপানোর উদ্দেশ্যে কবরের ওপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব। তবে তা জরুরি মনে করা, ২—৩ দিন ইত্যাদি কোনো সংখ্যার পাবন্দি করা, মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রশান্তির কারণ মনে করা বিদআত ও গোনাহ।

চ. চল্লিশ কদম হাঁটার সময়ে বা খাটিয়া কাঁধে উঠানোর সময়ে জোরে জোরে কালেমায়ে শাহাদাত পড়া নাজায়েয। সমাজের রীতি হিসাবে বা জরুরি মনে করে জোরে জোরে বা আস্তে আস্তে কালেমায়ে শাহাদাত পড়াও নাজায়েয। তবে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়ে বা স্বাভাবিকভাবে আস্তে আস্তে কালিমায়ে শাহাদাত, কোরআন তেলাওয়াত, যিকির—আযকার ইত্যাদি পড়া জায়েয আছে।—সুনানে আবূ দাউদ : ৩১৮১; সহীহ মুসলিম : ৬৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৫১; ফাতহুল বারী : ৩/৫৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৪০৬; রদ্দুল মুহতার : ২/১৯৩; হাশিয়াতুত তাহ্তাবী আলাল মারাক্বী : ৫৭০; রদ্দুল মুহতার : ২/২৪৫; আদ্দুররুল মুখতার (রদ্দুল মুহতারসহ) : ২/২৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২২৩; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২২৯; কিতাবুন নাওয়াযিল : ৬/৬৩; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ১৩/২৭১; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২৩ ৪; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ : ৫/৩৯৯; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ১৩/২৩৫

বিবাহ—তালাক—ইদ্দত

মাহমুদ রিয়াজ

আজিমপুর, ঢাকা

১৫৮৪. প্রশ্ন : জনাব মুফতী সাহেব, আমার বিয়েতে মোহরে ফাতেমী হিসেবে ২ লক্ষ টাকা মোহরানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকলের সম্মতিতে স্বর্ণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা উসূলের ফায়সালা করা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার পরিচিত কাছের এক দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের ৩ ভরি স্বর্ণ ৬০ হাজার টাকা করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কিনি। কিন্তু মূলত ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মার্কেট প্রাইজ ছিল ৭০ হাজার ৫০০ টাকা করে। এখন যদি আদায়ের সময় আমি এর ক্রয় মূল্য হিসেব করি তাহলে আমার সম্পূর্ণ টাকা আদায় হয় না। কিন্তু বাজার মূল্য বা মার্কেট ভ্যালু ধরলে সম্পূর্ণ মোহর আদায় হয়ে যায়। (যদিও বিক্রি করার সময় আবার ৭০ হাজার ৫০০ থেকে কমই বিক্রি করতে হয় কেননা ক্রয়কৃত জিনিসের মূল্য স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।)

এক্ষেত্রে মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হলো,

ক. আমি কোন মূল্য হিসেব করে মোহরানা আদায় করব? আমার জন্যে মার্কেট প্রাইজ বা বর্তমান মূল্য ধরা জায়েয হবে কি না?

খ. আমি বিয়ের অনুষ্ঠানের পূর্বে স্ত্রীর জন্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার শপিং করি। আমি চাইলে কি এ টাকা মোহরানা হিসেবে ধরতে পারব?

উত্তর : ক. আপনার জন্যে মোহরানা পরিশোধের দিনের বাজারমূল্য ধরা জায়েয আছে। তবে স্ত্রীকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে স্বল্প মূল্যে খারাপ জিনিস ক্রয় করে বেশি মূল্য হিসেব করা কিংবা ধোকা বা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া জায়েয হবে না।

খ. উল্লেখিত শপিংয়ের মূল্য মোহর হিসেবে ধরার অবকাশ রয়েছে। তবে অবশ্যই এগুলো মোহর হিসেবে প্রদানের সময় স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়া আবশ্যক। যাতে পরবর্তীতে তা বিরোধ বা ফাসাদের কারণ না হয়।—বাদায়েউস সানায়ে : ২/৫৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৩৮৮; আদ্দুররুল মুখতার (রদ্দুল মুহতারসহ) : ৩/১৫২; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ১৭/২৭৩; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ : ৮/৩৫৪; কিফায়াতুল মুফতি : ৭/৪৩৭

 

মাহমুদুল হাসান

ফরিদাবাদ, ঢাকা

১৫৮৫. প্রশ্ন : আমার এক পরিচিত মহিলা সন্তান প্রসবের পর ইন্তেকাল করেন। তৎক্ষণাৎ নবজাতককে দুধ পান করানোর মতো কেউ ছিল না। ফলে নবজাতকের আপন নানি তাকে দুধ পান করান। এখন জানার বিষয় হলো, উক্ত নবজাতকের তার নানার ছেলে—মেয়েদের সন্তানদের কারও সাথে বিবাহ জায়েয হবে কি না?

উত্তর : দুগ্ধপায়ী শিশুর সাথে স্তন্যদানকারিনীর সন্তান, তার সন্তানদের সন্তান এবং তার অধস্তনের কোনো সন্তানের বিবাহ জায়েয নেই। প্রশ্নে বর্ণিত নবজাতককে যেহেতু তার নানি স্তন্যদান করেছেন সুতরাং নবজাতকের জন্য তার নানী দুধ মা হিসেবে গণ্য হবে। নানীর সন্তানগণ তার দুধ ভাই—বোন এবং তাদের সন্তানগণ তার দুধ ভাতিজা—ভাতিজী, দুধ ভাগিনা—ভাগিনী হিসেবে গণ্য হবে। অতএব তাদের কারও সঙ্গেই তার বিবাহ জায়েয হবে না।—সূরা নিসা, ৪ : ২৩; সহীহ বুখারী : ৭১৫/২৬৪৫; রদ্দুল মুহতার (আদ্দুররুল মুখতারসহ) : ৩/২১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৪০৯; ফাতাওয়া মুফতি মাহমূদ : ৫/৩৬৬

 

মুআমালা—লেনদেন

নূরুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জ

১৫৮৬ প্রশ্ন : মাননীয় মুফতী সাহেব, আমাদের এলাকায় এমন নিয়ম চালু আছে যে, কেউ যদি কাউকে ঋণ দেয় তাহলে কখনো কখনো ঋণদাতা ওই ঋণের বিনিময়ে ঋণগ্রহীতা থেকে জমি অথবা ফলদার গাছ নিজের কাছে বন্ধক রাখে। যতদিন পর্যন্ত ঋণগ্রহীতা পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না করবে ততদিন সে ওই জমির ফসল এবং ফলের গাছ থেকে ফল ভক্ষণ করবে। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হলো এভাবে ঋণদাতার জন্যে বন্ধককৃত জমি ও গাছ থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ হবে কি না? বৈধ না হলে এ বিষয়টি যেহেতু আমাদের এলাকায় বহুল প্রচলিত তাই এটাকে বৈধ করার কোনো পদ্ধতি আছে কি না?

বি.দ্র. ঋণদাতা কোনো বিনিময় দেওয়া ছাড়াই বন্ধককৃত জমি থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।

উত্তর : ঋণদাতার জন্যে ঋণের বিনিময়ে গৃহীত বন্ধকি জমি বা গাছ থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নেই। মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. কে বললেন, এক লোক আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে আর আমি তাতে আরোহণ করেছি। ইবনে মাসউদ রাযি. বললেন,

ما أصبت من ظهرها فهو ربا.

তার পিঠে আরোহণ করা তোমার জন্যে সুদ হয়েছে।

ফুকাহায়ে কেরাম প্রচলিত নাজায়েয় পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে কয়েকটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। তা নিম্নরূপ :

এক. দুটি চুক্তি সম্পাদন করবে। প্রথমে ক্রয়—বিক্রয় চুক্তি করবে। তারপর আলাদা আরেকটি চুক্তিনামায় যেদিন টাকা পরিশোধ করতে পারবে সেদিন জমিটি বর্তমান মালিক বিক্রয় করে দিতে বাধ্য থাকবে মর্মে চুক্তি সম্পাদন করবে। ফিক্হের পরিভাষায় এমন চুক্তিকে (بيع الوفاء/ بيع الأمانة) বাইয়ুল ওয়াফা/বাইয়ুল আমানাহ বলে। যেমন : যায়েদের জমি আছে কিন্তু টাকা নেই। তার টাকার প্রয়োজন। অন্য দিকে মাজেদের কাছে টাকা আছে তবে সে বিনিময় ছাড়া তাকে টাকা দিতে সম্মত নয়। যায়েদ তার জমিটি বন্ধক রেখে মাজেদের থেকে টাকা নিতে চাচ্ছে। আর মাজেদও টাকা দিয়ে জমির ফসল ভোগ করতে চাচ্ছে। এমতাবস্থায় যায়েদ তার জমিটি মাজেদের কাছে প্রয়োজন পরিমাণ টাকায় বিক্রি করে দিয়ে টাকা গ্রহণ করে নিবে। এভাবে যায়েদ টাকার মালিক আর মাজেদ জমিটির ভোগ—দখলের মালিক হয়ে যাবে। তারপর ভিন্ন আরেকটি চুক্তি সম্পাদন করবে। যাতে লিখবে যে, যেদিন যায়েদ উক্ত টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে সেদিন মাজেদ জমিটি যায়েদের কাছে ওই পরিমাণ টাকায় বিক্রি করে দিবে। এভাবে ভিন্ন দুটি চুক্তি সম্পাদন করলে ‘ঋণ গ্রহীতা’ তার প্রয়োজনীয় টাকা গ্রহণ করতে পারবে এবং ‘ঋণদাতা’ও বন্ধকি জমি বা গাছ থেকে উপকৃত হতে পারবে।

দুই. যিনি জমি নিবেন তিনি এ হিসেবে চুক্তি করবেন যে তিনি জমিটি ভাড়ায় নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য থেকে কম মূল্যও ভাড়া হিসেবে নির্ধারণ করা জায়েয হবে। আর অগ্রিম ভাড়া হিসেবে জমির মালিককে তার প্রয়োজনীয় টাকা প্রদান করবেন। তারপর যেদিন জমির মালিক জমি ফেরত নিতে চাইবে সেদিন আগের নির্ধারণকৃত ভাড়া রেখে দিয়ে অবশিষ্ট টাকা জমির ভোগ—দখলকারী তথা ভাড়াটিয়াকে ফেরত দিয়ে দিবে। ফিক্হের পরিভাষায় এমন চুক্তিকে اجارة طويلة مع الأجرة المعجلة তথা অগ্রিম ভাড়া পরিশোধকৃত দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা চুক্তি বলে।

যেমন : যায়েদের জমি আছে কিন্তু টাকা নেই। তার টাকার প্রয়োজন। অন্যদিকে মাজেদের কাছে টাকা আছে তবে সে বিনিময় ছাড়া তাকে টাকা দিতে সম্মত নয়। যায়েদ তার জমিটি বন্ধক রেখে মাজেদের কাছ থেকে টাকা নিতে চাচ্ছে। আর মাজেদও টাকা দিয়ে জমির ফসল ভোগ করতে চাচ্ছে। এমতাবস্থায় যায়েদ তার জমিটি ১০০ বছরের জন্য অগ্রিম ১ লাখ টাকায় মাজেদের কাছে ভাড়া দিবে। প্রতি বছর ১ হাজার টাকা করে। মাজেদ অগ্রিম মাসিক ভাড়া বাবদ যায়েদকে ১ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করবে। ফলে জমির ভাড়াটিয়া হিসেবে মাজেদ জমি থেকে উপকৃত হতে পারবে আর যায়েদও টাকা খরচ করতে পারবে। তারপর যেদিন যায়েদ তার জমি ফেরত নিতে চাইবে সেদিন বিগত সময়ের ভাড়া বাদ দিয়ে বাকি টাকা প্রদান করে জমিটি ফেরত নিয়ে নিবে। কথার কথা যদি এক বছর পর ফেরত নিতে চায় তাহলে এক বছরের ১ হাজার টাকা রেখে বাকি নিরানব্বই হাজার টাকা প্রদান করে নিজের জমি ফেরত নিয়ে নিবে।—সুনানে কুবরা লিল বাইহাকী : ৮/২৭৬, নং—১১০৯২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৮/২৪৫, নং—১৫০৭১; বাদায়েউস সানায়ে : ৫/২১০; মাজমাউল আনহুর : ৪/২৭২; রদ্দুল মুহতার : ৪৭২; ফাতাওয়া কাযীখান : ২/৯৯; রদ্দুল মুহতার : ৭/৫৪৭, ২৭১; ফাতহুল ক্বদীর : ২/১৭৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৬/৪৭

 

মান্নত

হাবিবুর রহমান

মুলাদী, বরিশাল

১৫৮৭. প্রশ্ন : মুহতারাম, আমি যখন মাদরাসায় ভর্তি হই তখন আমার মা মান্নত করেন যে, আমি সর্বপ্রথম যে মাদরাসায় পড়ব ওই মাদরাসায় পাঁচ হাজার টাকা দেবেন। এবং যে মাদরাসায় দাওরা/তাকমীল শেষ করব ওই মাদরাসায় পাঁচ হাজার টাকা দেবেন। এখন আমি দাওরা শেষ করেছি। জানার বিষয় হলো, উক্ত মান্নতের টাকা নির্ধারিত মাদরাসায় দিতে হবে কি না? এই টাকা আমি নিজে খরচ করতে পারব কি না? অর্থাৎ আমি উক্ত টাকা থেকে কিছু অংশ আমি যে মাদরাসায় পড়ি উক্ত মাদরাসায় আমার খানা বাবদ দিতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি এখনো ওই মাদরাসায় পড়ি যেখানে দাওরা শেষ করেছিলাম।

উত্তর : উক্ত মান্নতের টাকা নির্ধারিত মাদরাসায় দেয়া জরুরি নয়। অন্য কোনো মাদরাসায় বা মান্নত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে দিলেও মান্নত পূর্ণ হয়ে যাবে। আপনার জন্য উক্ত টাকা ব্যবহার করা জায়েয হবে না। তাই উক্ত টাকা মাদরাসায় আপনার খানা বাবদ দিতে পারবেন না।—সুনানে আবু দাউদ : ২/৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক : ২/৪৩৫; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৩৬; বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৪৫; আহসানুল ফাতাওয়া : ৫/৪৮০

 

জায়েয—নাজায়েয

মুহা. ফয়জুল্লাহ

উত্তরা, ঢাকা

১৫৮৮. প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি ছোট বেলা থেকে তার মামীর কাছে লালিত—পালিত হয়। তার মামী তাকে খুব স্নেহ করে, সেও তাকে সম্মান করে। একবার সে তার মামীর কাছ থেকে বিদায় নিতে গেলে তিনি তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার কপালে চুমু দেন। এ সময় উক্ত লোকের শাহ্ওয়াত (যৌন উত্তেজনা) চলে আসে।

এখন মামী উক্ত লোকের সাথে তার নিজের মেয়েকে বিবাহ দিতে চাচ্ছেন। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হলো,

ক. উক্ত ব্যক্তির জন্য কি ওই মেয়েকে বিবাহ করা বৈধ হবে?

খ. যদি জায়েয না হয় তাহলে কেন?

গ. কেবল সতর্কতাস্বরূপ এই বিধান দিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? তাহলে তো মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখিত প্রশ্নোগুলোর উত্তর দলীলসহ উল্লেখ করলে উপকৃত হব।

উত্তর : ক. প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় যদি উক্ত ব্যক্তিকে তার মামী জড়িয়ে ধরা ও চুমু দেওয়ার সময়ই তার পরিপূর্ণ শাহ্ওয়াত হয়ে থাকে এবং তৎক্ষণাৎ বীর্যপাত না হয়ে থাকে, তাহলে তার মামীর সঙ্গে তার হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তাই তার জন্য তার মামীর মেয়েকে বিবাহ করা বৈধ হবে না।—আল—মুহীতুল বুরহানী : ৪/৮৬; আলবাহরুর রায়েক : ৩/১৭৩; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ : ৭/৩৪০; ফাতাওয়া রহীমিয়া : ৫/২৪৮

খ. গ. শাহ্ওয়াতের সাথে স্পর্শ করা বা লজ্জাস্থান দেখার দ্বারা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হওয়ার বিধান হাদীস এবং সাহাবা ও তাবেয়ীদের ফত্ওয়া দ্বারা প্রমাণিত। নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো,

হাদীসের দলীল :

১. হযরত আবু হানী রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মহিলার লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে তার জন্য উক্ত মহিলার মা এবং মেয়ে বৈধ হবে না।—মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ৯/৯৯

২. হযরত ইবনে যুরাইজ রহ. হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সজোরে আলিঙ্গন করে, আর কোনো কিছু না করে, তাহলেও ওই ব্যক্তি উক্ত মহিলার মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না।—এলাউস সুনান : ৮/৩৬৭৫, আল—মুদাওয়ানাতুল কুবরার সূত্রে

সাহাবায়ে কেরামের ফত্ওয়া :

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মহিলার সাথে সহবাস করে বা তাকে চুম্বন করে অথবা শাহ্ওয়াতের সাথে স্পর্শ করে বা শাহ্ওয়াতের সাথে তার লজ্জাস্থান দেখে তাহলে ওই ব্যক্তির পিতা ও ছেলের জন্য উক্ত মহিলা হারাম হয়ে যাবে এবং ওই ব্যক্তির জন্য উক্ত মহিলার মা ও মেয়ে হারাম হয়ে যাবে।—আল বিনায়া শরহুল হেদায়া : ৫/৩৭ জুরজানীর সূত্রে

৪. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. ফত্ওয়া প্রদান করেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিবাহ করে শুধু তাকে চুম্বন করে তাহলেও স্থায়ীভাবে উক্ত মহিলার মেয়ে তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।—এলাউস সুনান : ৮/৩৬৭৫, আল মুদাওয়ানাতুল কুবরার সূত্রে

তাবেয়ীদের ফত্ওয়া,

৫. হযরত কাতাদা ও আবু হাশেম রহ. (যারা হযরত আনাস রাযি. এর বিশিষ্ট শাগরেদ) এই ফত্ওয়া প্রদান করেন, যে বক্তি তার শাশুড়িকে বা তার স্ত্রীর মেয়েকে চুম্বন করে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।—মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ৯/৩৭১

৬. হযরত মুজাহিদ রহ. (যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর বিশিষ্ট শাগরেদ) এর ফত্ওয়া হলো, যখন কেউ কোনো মহিলাকে চুম্বন করবে বা স্পর্শ করবে অথবা তার লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে তার জন্য তার মেয়ে হারাম হয়ে যাবে।—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ৯/৩৭০

৭. হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন, কোনো মাকে চুম্বন করলে তার মেয়ে তার (চুম্বনকারীর) জন্য হালাল হবে না আর মেয়েকে চুম্বন করলে তার মা তার জন্য হালাল হবে না।—মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ৯/৩৭০

 

১৫৮৯. প্রশ্ন : মোবাইলের স্ক্রিনের ওপর আল্লাহ তাআলা অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম কিংবা কোরআন মাজিদের কোনো আয়াত সেভ করে রাখা শরয়ী দৃষ্টিতে কেমন? এবং সেটাকে সঙ্গে নিয়ে ইস্তিঞ্জাখানায় যাওয়া জায়েয আছে কি?

উত্তর : মোবাইলের স্ক্রিনের ওপর আল্লাহ তায়ালা অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম কিংবা কোরআন মাজিদের কোনো আয়াত সেভ করে রাখা জায়েয আছে, তবে আদবের খেলাফ। আর এই পবিত্র কালিমা কিংবা কোরআন মাজিদের আয়াত দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় মোবাইল সাথে নিয়ে ইস্তিঞ্জাখানায় যাওয়া জায়েয নেই। তাই ইস্তিঞ্জাখানায় যাওয়ার সময় যদি এমন মোবাইল সাথে থাকে তাহলে মোবাইল বন্ধ করে নেবে, যাতে করে এই সম্মানিত কালিমা কিংবা আয়াত দৃশ্যমান না থাকে।—রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৬১; ফাতহুল ক্বদীর : ১/১৭৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী : ১/১০১; ফাতাওয়া দারুল উলূম যাকারিয়া : ৭/৭২৮; কিতাবুন নাওয়াযিল : ১৭/৯০

 

আশরাফুল আলম

ইসলামপুর, ঢাকা

১৫৯০. প্রশ্ন : শপিংমলে বা মার্কেটে ডিসপ্লে করার জন্য ডল (পুতুল) ব্যবহার করা হয়, এগুলোর বিধান কী? এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, পুতুল বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ১. পূর্ণ পুতুল (মাথা ও চেহারাসহ), ২. পূর্ণ পুতুল (মাথাসহ চেহারা ছাড়া), ৩. মাথাবিহীন, ৪. মাথা এবং পা ব্যতীত শুধু কোমড় থেকে গলা পর্যন্ত। (পুরুষ+নারী) উল্লেখিত প্রকারগুলোর হুকুম দলিলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : কোনো প্রাণীর পুতুল তৈরি করা এবং তা পণ্যের মডেল হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয নয়। তবে যদি পুতুলে মাথা বা চেহারা না থাকে এবং তা অশালীন না হয় তাহলে উল্লিখিত প্রয়োজনে তা ব্যবহার জায়েয হবে।—সুনানে নাসায়ী : ৫৩৬৫; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪১৮; বাদায়েউস সানায়ে : ১/৪০৩; কিফায়াতুল মুফতি : ১৩/৫০; কিতাবুল ফাতাওয়া : ৫/২৬৫; ফাতাওয়া কাসেমিয়া : ২৪/৫৪৮

 

মুহা. মুতাসিম বিল্লাহ

শহীদ বাড়িয়া

১৫৯১. প্রশ্ন : আমার ছোট ভাইয়ের বয়স ২৮ বছর। আমরা তাকে বিবাহ করাতে চাই। কিন্তু তার দাড়ি লাল হওয়ার কারণে মেয়ের পক্ষের লোকেরা আপত্তি জানায়। এখন মুফতী সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় আমার ছোট ভাই লাল দাঁড়িতে কালো মেহেদি লাগাতে পারবে কি না?

উত্তর : উল্লেখিত বর্ণনানুযায়ী আপনার ভাইয়ের জন্য কালো খেযাব লাগানো জায়েয আছে। কারণ, হাদীসে কালো খেযাব ব্যবহারের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তা হলো চুল বা দাড়িতে রং দিয়ে বয়স ঢাকার ক্ষেত্রে। সুতরাং যে বয়সে চুল লাল বা সাদা না হওয়ার কথা, এমন বয়সে চুল লাল বা পেকে গেলে কালো মেহেদি লাগাতে অসুবিধা নেই। তবে কালো খেযাবের সাথে অন্য রং মিশ্রিত করে নেওয়া ভালো।—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১২/৫৫৪; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ৪/১৪৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৪/২২০; জাওয়াহিরুল ফিকহ : ৭/১৬৯

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন