প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

মাদরাসা ও আলেমসমাজের বিরোধিতাকারীরা ইসলামকেই নির্মূল করতে চায়

মাদরাসা ও আলেমসমাজের বিরোধিতাকারীরা ইসলামকেই নির্মূল করতে চায়

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী


 

সম্প্রতি দেশের এক হাজার মাদরাসা নিয়ে তদন্ত করেছে একটি কমিটি। জানা নেই মাদরাসা নিয়ে তদন্ত করার আইনগত ও নৈতিক অধিকার এ কমিটির আছে কি না। এ কমিটিরও বিশাল বদনাম রয়েছে। এর আগে নানা সময়ে দেশের স্থিতি ও শান্তি বিনাশে এ কমিটির ভূমিকা ছিল বিরাট। মার্কামারা অনেক পচা লোকজন এ কমিটিতে রয়েছেন। একজন সম্পর্কে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, ‘সে কবে মুক্তিযোদ্ধা ছিল? সে তো একাত্তরে পাক বাহিনীকে মুরগি সাপ্লাই দিত। অথচ, এ লোক আজ মুক্তিযুদ্ধের গোটা চেতনার দেখভালকারী হয়ে বসেছে।’

তার সম্পর্কে দেশের এক সাবেক বিচারপতি বলেন, ‘সে বাহাত্তর থেকে বিরানব্বই পর্যন্ত ছোটোখাটো চাকরি করত। চাকরি যাওয়ার পর সে চলে কীভাবে, সেটাই আমার বুঝে আসে না। একবার মানুষের হাতে হাতে একটি তালিকা ঘুরতে ফিরতে দেখেছি, সেখানে বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এদেশের কিছু লোক কত টাকা করে মাসোহারা পায়, তার একটি হিসাব দেখেছিলাম। এ ধরনের কোনো পয়সা-কড়ি পেয়েই সম্ভবত ব্যবসা বা চাকরি না করা কিছু লোক এদেশে চলে। একবার এ লোক বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলাবিরোধী কিছু ডকুমেন্টসহ বর্ডার এলাকায় ধরা পড়েছিল। কোনো ‘মুরব্বি’র হস্তক্ষেপে তখন ছাড়া পায়।’

দেশে মাদরাসা সম্পর্কে খোঁজখবর আর তদন্ত যেন শেষ হয়ই না। আলেম-ওলামারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে জবাব দেওয়া হয়, না না, আর তদন্ত হবে না। মন্ত্রী পর্যায়ে জানালে বলা হয়, দুয়েকটি তদন্ত হতে পারে। কিন্তু বারবার তদন্ত তো হওয়ার কথা নয়। দেশে একেকটি সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে আর মাদরাসাগুলোতে শুরু হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা নামধারী নানা লোকের আনাগোনা। যদিও সন্ত্রাসী সব ঘটনায় আধুনিক শিক্ষিত লোকজন জড়িত দেখা যায়। কোনো মাদরাসা শিক্ষার্থী এখানে জড়িত থাকে না। কিন্তু তদন্তগুলো হয় মাদরাসায় মাদরাসায়। পুলিশ পরিচয় দিলে আলেমগণ নিশ্চিন্ত হন। বলেন, কোনো আসামি থাকলে আমরাই ধরিয়ে দেব। তবে, সাদা পোশাকে লোকজন গেলে তারা পড়েন বিপদে। বুঝতে পারেন না, এরা কি আসলে গোয়েন্দা, না মিশনারী, এনজিও না বিধর্মী অন্য কেউ, না চাঁদাবাজ বাটপাড়। যেমনটি ঘটেছে ঘাদানিকের তদন্তে।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি হয় একটি সংস্থা বা এনজিও। তারা নিশ্চয় পরিচয় গোপন করে কিংবা মিথ্যা পরিচয়েই এক হাজার মাদরাসায় তদন্ত করেছে অথবা মাদরাসায় যায়ইনি। পথেঘাটে বা রাজধানীর চিপায়-চাপায় ফর্মায়েশি তদন্ত সেরে ফেলেছে। তারা পঞ্চাশজন আলেমের নামে নালিশ করে দুদককে তদন্তে নামিয়েছে। দুদকের কি নিজস্ব চিন্তা, নীতিমালা ও কর্মশক্তি নেই? একবার দুদকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিটিই বলেছিলেন, দুদক এখন দন্তনখরবিহীন বাঘ। তাহলে ঘাদানিক কি বর্তমানে দুদকের দন্তনখর?

একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা এক আলোচনা সভায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘দেশে জেনুইন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সম্মানিত নাগরিককে শায়েস্তা করার জন্য কোনো নেপথ্য শক্তি দুদককে ব্যবহার করে। দুদক যত না দুর্নীতিবাজ খুঁজে পায়, তারচেয়ে বেশি নিরীহ লোককে হয়রানি করে। নেপথ্য শক্তির ইশারায় সুনাগরিকদের হাইকোর্ট দেখায়। জনৈক ভুক্তভোগী বলেছিলেন, ‘দুদক আমার যেসব গোপন সম্পত্তি ও দেশে-বিদেশে বাড়ি-ঘরের মিথ্যা আরোপ লাগিয়েছিল, যার কোনো সত্যতা তারা পায়নি—যদি আইন থাকতো যে, এসব আমাকে দিতে হবে, তাহলে আমি হতাম বাংলাদেশের সেরা ধনী। অথচ, আমি সঠিকভাবে চলার মতো টাকারও মালিক নই।’

আমরা আশা করব, যেসব আলেমের সম্পদ তালাশ শুরু হবে তদন্ত শেষে এসব অভিযোগ মিথ্যা হলে এসব আলেমকে যেন অভিযোগ পরিমাণ সম্পদ দিয়ে দেওয়া হয়। অন্তত সুনাম নষ্টের ক্ষতিপূরণ বাবদ হলেও প্রত্যেককে দশ-বিশ কোটি করে টাকা দিলে ভালো হবে।

মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব সম্পর্কে মুরব্বিদের খুশি করতে গিয়ে তাকে যত সম্পদের মালিক বানানো হয়েছিল, যা কল্পনাও করা যায় না। অথচ আজীবন শিক্ষাবিদ ও ইসলাম প্রচারক এ মানুষটির সামান্য শিক্ষকতার আয় ও মাতুলালয়ে পিতা-নির্মিত সাধারণ একটি বাড়ির একাংশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অথচ, দেশের সংবাদপত্রে কথিত গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ধারী লোকেরাই প্রকাশ করেছিলেন যে, বাবুনগরীর দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ, সউদিতে ব্যবসা, দুবাইয়ে সুপার মার্কেট, কাতারে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা এবং ওমানে প্রায় শখানেক লরি আছে। এসবের মূল্য কত শত কোটি টাকা হয় তা কি নিউজ করার সময় এসব রিপোর্টারের মাথায় ছিল? নাকি তারা কোনো বুদ্ধিবিনাশক দ্রব্য খেয়ে রিপোর্ট লিখেছিলেন। আর কথিত ওই গোয়েন্দা সূত্রগুলো এখন কোথায়? মুরব্বিরা কি এর কোনো জবাব দেবেন? তারা কি বাবুনগরীর পরিবারকে এসব ধনসম্পদ এনে দেবেন? তার যে বদনাম তারা করেছেন, এর ক্ষতিপূরণই-বা তারা কি দেবেন? নাকি এ অপরাধের জন্য তারা জাতির সামনে ক্ষমা চাইবেন?

এ কমিটি নিজেদের কাজ দেখানোর জন্য লম্বা-চওড়া নাম নিয়েছে। মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আরও কী কী শব্দ ব্যবহার করে তারা ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠন করেছে। দুঃখজনক হলেও এমন বাজে কাজ করার জন্য কোনো আত্মসম্মানসম্পন্ন লোক তারা পায় না। বেশিরভাগ বেহায়া, ভাড়াটে দালাল, হুকুমের চাকর বা কেনা গোলাম ধরনের লোকই এসব ক্ষেত্রে নেওয়া হয়। আমরা কারও বদনাম করছি না, কাউকে ছোট করাও উদ্দেশ্য নয়। তবে, ঘটনাচক্রেই এ কাজের পুরোভাগে কিছু লোক এমন এসেছেন, যারা বাংলাদেশে পচা মানুষের শামিল।

একজনকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি স্যাডিস্ট, সরল বাংলায় বিকৃত মনের লোক আখ্যা দেন। এর সঠিক তরজমা আরও খারাপ। যা বয়স্ক লোকটির সম্মানার্থে করা হলো না। যিনি লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মিটিংগুলোতে হাজির হয়ে ফ্লোরে বসার জায়গা পেতেন। বিচারক ছিলেন। বিএনপি করতেন। পরে প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ তিন ডবল আওয়ামী লীগ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামকে দুর্বল করার, মুসলমানদের অপমান করার দায়িত্ব নিয়েছেন। টিপকাণ্ডের সময় তদন্ত বা অভিযোগ প্রমাণের আগেই এ মর্মে বিবৃতি দিয়েছেন, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো বাহিনীতে মৌলবাদী রাখা যাবে না। মৌলবাদী অর্থ ইসলাম ধর্মের প্রতীক বহনকারী ব্যক্তি। মানে দাড়ি, টুপি, নামায, সুন্নতি কালচার কিংবা ইসলামী শিষ্টাচার তার দুই চোখের শত্রু। অথচ, এ বিবৃতি দেওয়ার সময় ও ভাষা একটি বড় চক্রান্তের অংশ বলে পরবর্তীতে ধরা পড়ে। কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সাথে তার বিবৃতিটি সমভাব ব্যক্ত করায় তার উদ্দেশ্য ও পরিচয় স্পষ্ট হয়।

১১৬ জন ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে ২২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দুদকের কাছে জমা দেওয়ার সময় মিডিয়াকে দেওয়া তার বক্তব্যে তার মোটিভ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ৯২ ভাগ মানুষের নেতা, আলেম, ধর্মীয় বক্তাদের মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও অপরাধী আখ্যা দিয়ে বারবার আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন। আর রেফারেন্স টানার সময় একের পর এক সংখ্যালঘুর সূত্র উল্লেখ করেছেন। বোঝা গিয়েছে, রাগ তার ইসলামের প্রতি, আর কথা বলছেন তিনি অন্য কারও হয়ে। মনে হবে যেন, এটাই হুকুম। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে যারা ২২০০ পৃষ্ঠা নষ্ট করতে পারলেন, দেশের হাজারও সমস্যা, অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি নিয়ে তারা ২২টি লাইন লেখতে পারলেন না?

কমিটির আরেক সদস্য, যার নামে অভিযোগ আছে মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনালের সুবাদে ১৫ কোটি টাকা ঘুস খাওয়ার চেষ্টার। এটি সত্য নাও হতে পারে। তিনি বোরকা পরে (যে বোরকাপ্রথাটি তিনি সব সময় ঘৃণা করেন) নিজের সহকারী ফারাবী নামক একজনকে স্বামী পরিচয় দিয়ে বিশিষ্ট এক ব্যক্তির সাথে গোপনে দেখা করতে যান। সেটি দেশপ্রেমিক গোয়েন্দাদের সুবাদে সরকার ও জনগণ জানতে পারে। তার মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়ি-ঘর সম্পত্তি জোর করে দখল করেন। মা এবং ভাইকে জুলুম ও হুমকির মুখে রেখেছেন। ট্রাইবুনালের উকিল হিসেবে নিজের মাকে ডিজিএফআই, এনএসআই ও র‌্যাব-পুলিশের ভয় দেখান। তিনি হয়েছেন, ১১৬ ওয়ায়েজ ও এক হাজার মাদরাসার দুর্নীতি ধরার স্বঘোষিত জিম্মাদার।

বিশেষ কষ্টের কথা এই যে, দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়রা নিজেদের মনের মতো খেলা খেলুক, সীমা অতিক্রম করলে রাষ্ট্র আছে, সরকার আছে, মাথার ওপরে এখনো জাতির জনকের কন্যা আছেন। ইমাম, আলেম, ধর্মীয় বক্তা, মসজিদ-মাদরাসা কোনোটাই সরকারের শাসনের বাইরে নয়। সবার ভালো-মন্দ দেখা সরকারের দায়িত্ব। কওমী মাদরাসাকে দেশীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু নয়, আমাদের এ অঞ্চলে শিক্ষার শুরু এবং উৎস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংসদে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি কওমী শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দাওরায়ে হাদীসকে মাস্টার্সের মান দিয়েছেন।

ঘাদানিকের আলেম-ওলামা ও মাদরাসাবিরোধী কথিত প্রতিবেদন কী করে তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উন্মোচন করেন? তা এদেশের আলেম-ওলামারা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না। কোন খুঁটির জোরে ওলামায়ে কেরামকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দেওয়া কথিত রিপোর্টটি সরকারি সংস্থা দুদকের প্রধান সবক’টি দাঁত কেলিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে গ্রহণ করেন—সেটিও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বোধগম্য নয়। তাহলে কি স্বরাষ্টমন্ত্রী বছরের পর বছর ধরে আলেম-ওলামাদের শ্রদ্ধা-সম্মান দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘাদানিকের সাথেই একমত হলেন? তাহলে কি শেষ পর্যন্ত সুনীতি ও পূতঃপবিত্রতায় ভরা এ বাংলাদেশে একমাত্র ধর্মীয় বক্তা ও আলেম-ওলামারাই দুর্নীতিবাজ?

আমরা মনে করতে চাই, নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও তাদের প্রিয়ভাজন আলেম-ওলামাদের অন্তরে আঘাত হেনে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টে এটি কোনো মহলের চক্রান্ত। ইসলাম প্রচার ও মাদরাসা শিক্ষা বন্ধ করা, আলেম-ওলামাদের অপমান করা, ধর্মপ্রাণ জনগণকে বিরক্ত করা, মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা এ মহলটির লক্ষ্য।

বাংলাদেশে চিরকালের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল রাখা এবং সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, আলেম ও ওয়ায়েজগণ আন্তরিক ভূমিকা রেখে চলেছেন। তারা সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাকে উসকানি দেন, এটি সম্পূর্ণ অপবাদ ও ডাহা মিথ্যা। দুর্নীতির কথা বলতে গেলে বাংলাদেশের সকল অঙ্গনের তুলনায় ইসলাম-ধর্মীয় অঙ্গন সবচেয়ে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও পবিত্র বলে প্রমাণিত। এ বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ঘাদানিকের এমন অবাস্তব, মিথ্যা, বানোয়াট, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক গণতদন্ত এবং ২২০০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ইসলামী দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শীর্ষ আলেমগণ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ অপকর্মের নিন্দা জানাচ্ছেন। ১১৬ জন আলোচক ও এক হাজার মাদরাসা সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কিছু লোকের এ অবিমৃশ্যকারিতা বাংলাদেশের মুসলমানরা কিছুতেই মেনে নেবে না।

সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতি। পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের অবস্থা বড়ই বেহাল। পাশাপাশি কথিত গণতদন্ত কমিশনের দেশবিরোধী, চরম সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এবং ইসলাম-ধর্ম অবমাননাকর ঔদ্ধত্যের পক্ষে-বিপক্ষে টিভি ও অনলাইন টকশোর সয়লাব। মনে হয় ইচ্ছাকৃতভাবেই কেউ বিষয়টিকে প্রোপাগান্ডায় নিয়ে এসেছে। আরেক চ্যানেল বিদেশে বসে তুরিন আফরোজের মায়ের সাক্ষাৎকার ছেড়েছে। এখানে তার মা-মেয়ের মারাত্মক নীতিহীনতার রূপ ও অমানবিকতার বর্ণনা দিয়েছেন।

হিন্দু মহাসভার বড় এক নেতা এই কমিটির কাজকে নিন্দা জানিয়ে লাইভে এসেছেন। তিনি যা বলেছেন, তার সারমর্ম দাঁড়ায়, দেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হলে এরা তদন্ত কমিটি করে না। আলেম ও মাদরাসার বিরুদ্ধেও তদন্ত কমিটি করত না, যদি মোটা অংকের টাকা না পেত। বিশাল ফান্ডের ব্যবহার বৈধ করার জন্য এরা দায়সারা একটি তদন্ত করেছে। যা ভুলে ভরা। দুয়েকজন আলেম বক্তৃতায় কোনো বেআইনি কথা বলে থাকলে, সাথে সাথে মামলা করা যেত। ঢালাওভাবে ১১৬ জন আলেম ও এক হাজার মাদরাসার হাজারও আলেম ও লাখো ভক্তকে ক্ষ্যাপিয়ে তারা দেশে একটি ঝামেলা বাধাতে চায়। আলেমমাত্রই সাম্প্রদায়িক না। তারা হিন্দুদের কোনো ক্ষতি করেন না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ করলে, এর জন্য আইন আছে। সবকিছুর জন্য সরকার আছে। এদেরকে তদন্ত করতে কে বলল। প্রাপ্ত টাকা হালাল করার জন্য এরা এমন বাজে কাজ করেছে। আমরা দেখেছি, অসাম্প্রদায়িক দাবি করা অনেক লোকেরা হিন্দুদের বেশি ক্ষতি করে।

তিনি ঘাদানিকের এক নেতাকে পাকবাহিনীর মুরগি সাপ্লাইকারী, এক নেতাকে মুক্তিযোদ্ধা জাল সনদধারী, দেশে-বিদেশে উৎস অজ্ঞাত সম্পদের মালিক, আরেকজনকে নষ্টা ভ্রষ্টা দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃতা ইত্যাদি বিভিন্ন মানুষের বক্তব্যের রেফারেন্স টেনে বলেছেন, এই কমিটির বহু লোকজনের নামে বাজারে অনেক গল্প চালু আছে। মাদরাসা ও আলেমদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আর কোনো আস্থাভাজন লোক কি পাওয়া গেল না?

এটিএন বাংলায় মানি লন্ডারিং নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না জানা, হেলিকপ্টারে চলাচল, মাদরাসায় দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে মানিক সাহেবকে এক আলেম তুলোধুনো করেন, যা ছিল বড়ই নির্মম। বলা হয়, আলেমদের মানুষ নিজেদের টাকায় ভালোবেসে হেলিকপ্টারে করে নেয়, মানিক সাহেবকে তো রিকশায়ও নেবে না। তা ছাড়া, অনিয়ম দুর্নীতি জাল সনদ নৈতিক অপরাধের তকমা পাওয়া লোকজন কীভাবে ধর্মীয় অঙ্গনে অসাংবিধানিক উপায়ে তদন্তের নামে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর কাজ করতে পারে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়। মনে হয়, এই খেলাটি যারা জুড়েছে তারা এটি নিয়ে পানি আরও ঘোলা করবে। দেশ, জাতি সরকার ও রাষ্ট্রকে এসব অস্বাভাবিক ভূমিকা নেওয়া লোকেদের ক্রিয়াকলাপ থেকে সাবধানে থাকতে হবে।

সোশাল মিডিয়ায় একটি বিষয় মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে। সিলেট ও আশেপাশের এলাকায় পানিবন্দি মানুষের ঘরে আলেম, ইমাম ও মাদরাসার ছাত্ররা সাঁতরে গিয়ে খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। বৃহত্তর সিলেটে মাদরাসাশিক্ষিত, আলেম ও পীরের মুরিদগণ বর্তমানে যারা জনপ্রতিনিধি, তারা নিজে পানি ভেঙে মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

দেশের দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলে মাদরাসাগুলো অসহায় মানুষের জন্য খোলা। কোথাও দিনে একবার ডাল চাল তরকারি একসাথে দিয়ে লাবড়া রান্না হচ্ছে। অনেকে চুলা জ্বালাতে পারেন না, তারা নৌকায় বা পানি ভেঙে মাদরাসায় এসে এসব নিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পীর-মাশায়েখের দরবার, মসজিদ, মাদরাসা ও আলেমগণের মাধ্যমে আমাদের কাছে খবর আসছে যে, দুর্যোগের এ সময় আরও শতগুণ সাহায্যের প্রয়োজন।

দেশের ৪ লাখ মসজিদ যেন দুর্যোগের সময় বিপদগ্রস্ত মানুষের সান্ত্বনার জায়গা হয়। মাদরাসাগুলো যেন হয় দুঃখী মানুষের আশ্রয়স্থল। যদিও ছোট ছোট হাজারও মাদরাসা নিজেই দুঃখী মানুষে ভরা। পিতৃহীন, দুর্বল, দরিদ্র, অসহায় ছাত্ররা এবং নিঃসহায় আলেমরা দুর্যোগের সময় নিজেরাই খেয়ে না খেয়ে থাকেন। সুবিধামতো অন্যের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়ান। এ দেশের চরম দরিদ্র মানুষও যথাসাধ্য দান-সদকা করে। সে সময় সমাজের স্বাভাবিক মানুষ বা বিত্তশালীরা যদি মাদরাসায় লঙ্গরখানা খুলেন তাহলে কর্মশক্তি ফ্রিতে পাবেন। আর মাদরাসাওয়ালারা এসব দানের ব্যবস্থাপনাকালে এলাকার নিঃস্ব অসহায়দের সাথে নিজেদের খাবারগুলোও ভাগ করে খাবে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুজনের খাবার তিনজনের, তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট। তিনি আরও বলেন, দুনিয়াবাসীর ওপর দয়া করো। ওপর থেকে আল্লাহ তোমাকে দয়া করবেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনী-গরিব সবাইকে বলেছেন, তুমি একটি খেজুর বা সামান্য একটু খাদ্য দান করে হলেও নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।

হাজার বছর ধরে সৃষ্টির সেবা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের দ্বারাই ওলামা-মাশায়েখগণ বাংলার মানুষের নয়নের মণি হয়ে আছেন। শত বছরেও দেশি-বিদেশি কুকুরেরা হাজার ঘেউ ঘেউ করেও তাদের এই উজ্জ্বলতাকে ম্লান করতে পারেনি। বাংলাদেশে কমবেশি ৭০০ বছর মুসলিম শাসন ছিল। দেড় হাজার বছর ধরে ইসলামী সমাজ ও সংস্কৃতি রয়েছে। যার মূল শক্তি ছিল আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, রাসূল ও সাহাবীগণের পরম মানবিক শিক্ষা, ওলী-আউলিয়া, ধর্মপ্রচারক, ওয়ায়েজ ও উলামা-মাশায়েখের নজিরবিহীন জনকল্যাণ, জনসংযোগ ও অফুরন্ত মায়া-মমতা।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ ততক্ষণ তার বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ সে তার অপর ভাইয়ের সাহায্যে লেগে থাকে।’ মানুষ ও জিন শয়তানের পেছনে সময় কম দিয়ে ওলামায়ে কেরামের উচিত জনগণের দুঃখের দিনে তাদের আরও কাছাকাছি যাওয়া। আল্লাহর গায়েবি ও কুদরতি মদদ আপনারা লাভ করবেন। বিজয় ইসলামেরই হবে। আপনাদের কার্যক্রম মানুষ দেখুক। জনগণ এটিও দেখুক যে, বিদেশি দালাল, ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী সা¤প্রদায়িক অপশক্তি ও ঘৃণা বিদ্বেষের ব্যাপারীরা বাংলাদেশকে আসলে ভালোবাসে না।

অন্য জায়গার খুদকুঁড়া ও ভিনদেশের এঁটোকাঁটা খাওয়া বাজে চরিত্রের কিছু মানুষ কোনোদিন গণমানুষের কল্যাণ চায় না। তারা স্বাধীন সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ স্বদেশের সর্বনাশ করতে পারে নির্দ্বিধায়। এরা নাস্তিক্যবাদী, ধর্মবিদ্বেষী, বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক অমানুষ। স্বজাতির গাদ্দার। যুগে যুগে দেশে দেশে এরা জন্ম নিয়ে জাতির সওদা করে এবং কাজ শেষে প্রভুরা তাদের ব্যবহৃত টয়লেট পেপারের মতোই ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

পৃথিবীর ইতিহাসে জাতির গাদ্দারদের পরিণতির চ্যাপ্টারগুলো সবারই পড়া উচিত। এ দেশেও দুটি পয়সার জন্য, বিদেশে বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা ও আশ্রয়ের জন্য কিছু লোক লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত জাতীয় পতাকা, জাতীয় পরিচয়, জন্মভূমি সবই বদলাতে রাজি হতে পারে। কারণ, সামান্য স্বার্থে ওরা ওদের ঈমান ও দেশমাতৃকা বিক্রি করতে পারে। ওরা নিজেরা থাকে আপাদমস্তক দুর্নীতি, মিথ্যাচার, গাদ্দারি ও দুইনম্বরীতে নিমজ্জিত। সকলের দুআ করা উচিত, যেন বাংলাদেশে এমন কোনো হতভাগার অস্তিত্ব না থাকে। এমন কেউ যেন জন্মও না নেয়।

আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বিত্তশালীদের বলব, নিজের উপার্জন থেকে বেঁচে থাকতে মানুষের জন্য কিছু করুন। কোরআনে কারীমে বলা হয়েছে, জাহান্নামে যাওয়া মানুষদের যখন জিজ্ঞেস করা হবে, কেন তুমি জাহান্নামে এসেছ? তখন তারা বলবে,

لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّیْنَ ﴿ۙ۴۳﴾  وَ لَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْکِیْنَ ﴿ۙ۴۴﴾

আমরা নামায-বন্দেগী করতাম না। আর অভাবী মানুষকে খাবার খেতে দিতাম না।-সূরা মুদ্দাছছির, ৭৪ : ৪৩-৪৪

সুতরাং দুনিয়াতে আজ যারা দুর্নীতি করে, মজুদদারী করে, কৃত্রিম খাদ্য-সংকট তৈরি করে, সুযোগে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মারাত্মক পাপ ও অন্যায় করছে, আখেরাতে তারা এর কী জবাব দেবে। মৃত্যুর পর মানুষ বলবে, আল্লাহ আমাকে দুনিয়ায় আবার ফেরত পাঠান অথবা মৃত্যুর সময় হলে আযাব দেখামাত্র আল্লাহকে বলবে, আল্লাহ আমাকে আর কিছুটা সময় দিন, আমি জমাকৃত সম্পদ দান-সদকা করে আসি। খারাপ কাজ ছেড়ে ভালো মানুষ হয়ে আসি। কিন্তু তাদের এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়েই প্রত্যেকের মরণ চলে আসবে। এক মুহূর্তও আগপিছ করা হবে না। তওবা করে ও ধন-সম্পদ প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়ে না গেলে জাহান্নাম থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। কারণ, মানুষের হক আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।

 

গণকমিশন প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম


বেদনাতুর মন নিয়ে অন্য প্রসঙ্গে যেতে ইচ্ছা করে না। তবু ব্যাপারটি এত কঠিন-কঠোর, এত গুরুত্বপূর্ণ যে না লিখে পারছি না। কোথাকার কে, কোথাকার কয়েকজন এক গণকমিশনের নাম দিয়ে ১১৬ জন আলেমের বিরুদ্ধে দুদকে নালিশ করেছেন। নালিশ করা সোজা, কোনো নালিশ প্রমাণ করা সোজা নয়, বড় কঠিন। নাকি এটা সরকারকে বিপদে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্র? আলেমসমাজকে উসকে দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার এটা কোনো মহাপ্রয়াস নয় তো? বঙ্গবন্ধুর ভক্ত বাংলাদেশের প্রতি অনুরাগী আলেম দেশে খুব একটা কম নেই। এমনকি অনেক জামায়াতির মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর ভক্ত-অনুরক্ত দেখেছি। জামায়াতি দুষ্ট নেতারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর অনেক লোককেও বাংলাদেশের প্রতি নিবেদিত দেখেছি। তাই কোথাকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, যে নাকি মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় তার তো অপ্রয়োজনীয় বস্তুর সমান মর্যাদাও থাকার কথা নয়। মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়ে যে মায়ের দুধের ঋণ পরিশোধ করে না, বরং তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে সে তো মানুষের পর্যায়েই পড়ে না। শুনেছি, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরকারি উকিল হিসেবে ঘুষ খেয়েছেন। গণকমিশন করার তিনি কে?

আরেকজন মানিক চৌধুরী, দৈত নাগরিক। সংসদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, মাননীয় স্পিকারকে অসম্মান করেছেন এসব কারণে তাঁর জেলে থাকার কথা। কিন্তু তিনি সরকারি গানম্যান নিয়ে ঘুরে বেড়ান। গুলশানে বিশাল সরকারি বাড়িতে বিনা পয়সায় থাকেন। কদিন আগে ভদ্রলোক নাকি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন? ইংল্যান্ডে? হ্যাঁ, প্রবাসীরাও কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেতে পারেন। কিন্তু শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক পেলে আরও অনেক চৌধুরীর কী হবে? সমজ খান, আতোয়ার রহমান, জোয়ার্দার, আবদুল মতিন এ ধরনের আরও অনেকে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেয়েছেন কি? সুলতান শরিফ, তাঁর স্ত্রী নোরা ভাবী, তাদের কি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে? তাহলে এই কম বুদ্ধিসম্পন্ন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মুক্তিযোদ্ধা হলেন কোন হিসেবে? সেদিন এক সেমিনারে তাঁর সঙ্গে দেখা। তাঁর মধ্যে বড়-ছোটর কোনো বোধশক্তিও নেই। সরকারি গানম্যান পেয়ে আরও কিছুটা উজ্জ্বল কালো হয়ে গেছেন মনে হলো। সিনা ফুলে গেছে বিঘতখানি। সেমিনারে বলছিলেন, রাজাকার দালালদের ছেলেমেয়েরা এ দেশের নাগরিক না। তারা লেখাপড়া করতে পারবে না, সরকারি চাকরি পাবে না। আমি বলেছিলাম, এ দেশে জন্ম যার, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ১০-১২ বছর আগেও জন্মেছে তারা রাজাকার দালাল এমনকি গোলাম আযম-নিজামীর সন্তান হলেও বাংলাদেশকে মানলে বাংলাদেশের নাগরিক হবেন এবং শিক্ষাদীক্ষা অর্জন করলে যে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের মতো রাজাকার আলবদরের সন্তানরাও চাকরি-বাকরি এবং অন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আমার কথা তার বোধগম্য হয়নি। ঘোঁতঘোঁত করে চলে গেছেন।

আরেকজন ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির নেতা, কোনো মানুষের লজ্জাশরম না থাকলে সে যা খুশি তা-ই করতে পারে। জনাব শাহরিয়ার কবির তেমন একজন। তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল করবেন কি বরং যুদ্ধের সময় ক্যান্টনমেন্টে মুরগি সাপ্লাই করে ঘাতকদের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। শুধু মুরগি নয়, অন্যান্য শাকসবজি, তরিতরকারি-মাংস জিনিসপত্র নিয়মিত সরবরাহ করেছেন। ক্যান্টনমেন্টের কাগজপত্র দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরা সরকারের বন্ধু সেজে চরম অনিষ্টের চেষ্টা করছেন। সরকারকে আবারও বলছি, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, বর্তমানে এসব হঠকারী হিতৈষী থেকে সাবধান হোন। তুরিন আফরোজ এবং শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেফতার করে বিচার করুন। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

-বাংলাদেশ প্রতিদিন, উপসম্পাদকীয়, ২৪ মে ২০২২

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন