প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

সময়ের দিনলিপি

সময়ের দিনলিপি

সিলেটে বন্যার্তদের জন্য রাজশাহীতে কনসার্ট

প্রথম আলো, ২৪ জুন ২০২২

রাজশাহী নগরের লালন শাহ মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এ কনসার্ট। ব্যানারে এ কনসার্টের নাম দেওয়া হয় ‘সিলেটের জন্য গণগান’। বন্যার্তদের সহযোগিতা ও ত্রাণ দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ। বরং ধর্মীয় ও মানবিক বিবেচনায় এটি অত্যন্ত জরুরি কাজ। কিন্তু এর জন্য নাচ—গানের কনসার্ট আয়োজন করার তেমন কোনো প্রয়োজন ও যৌক্তিকতা নেই। ত্রাণ ও বন্যার্তদের প্রতি সহযোগিতা হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও নিঃস্বার্থ। আলহামদুলিল্লাহ মানুষ তা করছেও। লাখ লাখ নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি বানভাসিদের দুয়ারে পেঁৗছে দিচ্ছেন বহু মানুষ। এর জন্য এ নাচ—গানের কোনো প্রয়োজন পড়ছে না। একটি নেক কাজের জন্য এমন হারাম নাচ—গানের আয়োজন শুধু অযৌক্তিক নয় বরং বিরাট অন্যায়। লক্ষ করা উচিত, এভাবে আমরা আল্লাহর গজবই টেনে আনছি না তো? আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

 

কাল থেকে রাত আটটার পর দোকান—মার্কেট বন্ধ

কালের কণ্ঠ, ১৯ জুন ২০২২

রাশিয়া—ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য রাত আটটার পর সারা দেশের দোকান, শপিংমল মার্কেট বিপণিবিতান কাাঁচাবাজার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতাল, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, বিমানবন্দর, হোটেল, নাপিত ও ঔষধের দোকান, সিনেমা, থিয়েটার, মিষ্টি ও ফুলের দোকান, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিস এবং ক্লাবগুলো এই নিয়মের বাইরে থাকবে। পরবর্তীতে নিয়মের বাইরে থাকার তালিকা আরও দীর্ঘ হয় এবং বলতে গেলে শপিংমল, কাপড় ও জুতার দোকান ছাড়া আর তেমন কিছু বাকি থাকেনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং এর অপচয় রোধ অবশ্যই জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের যে—কোনো ভালো সিদ্ধান্তকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই। রাত আটটার পর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি যতক্ষণ খোলা থাকবে তখনও যেন অপচয় না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখা প্রয়োজন। আমাদেরকে ব্যক্তিগতভাবেও এর অপচয় থেকে বেঁচে থাকতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। কারণ, অপচয় একটি গোনাহর কাজ। অপচয়কারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। কিন্তু এ নিয়মের বাইরে        থাকবে কোন কোন প্রতিষ্ঠান সে তালিকায় কিছু এমন প্রতিষ্ঠান অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে যার কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। সিনেমা থিয়েটার নাইটক্লাবের মতো পাপ ও অপরাধের আড্ডাখানা তো এমনিতেই বন্ধ রাখা উচিত ছিল। এর ওপর বিশেষভাবে এ আইনের বাইরে রাখা হচ্ছে!

 

বন্যার্তদের জন্য জনপ্রতি দেড় টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার : রিজভী

কালের কণ্ঠ, ১৯ জুন ২০২২

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘পদ্মাসেতু উদ্বোধনের নামে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। অথচ সিলেট সুনামগঞ্জ নেত্রকোণা অঞ্চলসহ দেশে বন্যা উপদ্রƒত এলাকায় পানিবন্দী প্রায় কোটি মানুষের সাহায্যের জন্য বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। এ পর্যন্ত তারা বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে ৬০ লাখ টাকা। তার মানে জনপ্রতি দেড় টাকা!’ সরকারদলীয় লোকজন হয়তো বলবেন পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা সহ্য করতে না পেরে বিএনপি এ কথা বলছে। কিন্তু আমরা এর আগেও এমন দেখেছি। সাঁতার শেখাতে ২৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, সুন্দরবনের বাঘ গণনা করতে ৬৬ কোটি টাকা, খিচুড়ি রান্না শিখতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিদেশ যাবেন ১০০০ কর্মকর্তা… এ ছাড়াও এমন ব্যয়ের ভুরি ভুরি ঘটনা রয়েছে আমাদের দেশে। প্রয়াত এক সাবেক অর্থমন্ত্রী তো বলেছিলেন হাজার কোটি টাকাও তেমন কিছু না। সে দেশে কয়েকটি জেলাজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের ‘আশ্বাস’ দেওয়া তাদের সাথে রীতিমতো ঠাট্টার নামান্তর।

 

ভারত : উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি—ঘর ভেঙে বিক্ষোভে অংশ নেয়া মুসলিমদেরকেই কি টার্গেট করা হচ্ছে?

বিবিসি বাংলা, ১২ জুন ২০২২

ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজ্য প্রয়াগরাজ, সাহারানপুর ও কানপুরে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে এগুলো অবৈধভাবে নির্মিত কিন্তু স্থানীয় লোকজন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মুসলিমদের টার্গেট করেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রয়াগরাজে, যার পূর্ব নাম ছিল এলাহাবাদ, বিক্ষোভের প্রধান পরিকল্পনাকারী অভিযোগে ওয়েলফেয়ার পার্টির এক নেতা জাভেদ মুহাম্মদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে ক্ষমতাসীন বিজেপির এক নেত্রী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মা আয়িশা রা.—কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ করা হয়।

সেক্যুলারিজমের এ এক নয়া রূপ, বুলডোজারিজম। যেখানে নিজেদের নবীর সম্মান রক্ষার্থে রাস্তায় নামলে বাড়িঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয় বুলডোজার দিয়ে। সেক্যুলারিজমের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা উগ্র হিন্দুত্ববাদ এখন প্রকটভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর আগেও গুজরাটের কসাই খ্যাত মোদির সরকার মুসলমানদের দমনে নানা রকম আইন—কানুন তৈরি করে। এখন তো বিভিন্ন হিন্দু জনসভায় প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানদেরকে জবাই করে মেরে ফেলার। কিন্তু সেই বক্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, উল্টা তাদেরকে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছে বিজেপি সরকার। ভারতে এখন যে উগ্র হিন্দুত্ববাদের চাষ হচ্ছে তা শুধু সে দেশের মুসলমানের জন্যই নয়, আমাদের দেশের মুসলমানদের জন্যও ভয়ংকর। এর প্রভাব আমরা এ দেশেও লক্ষ করতে পারছি। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এখনি প্রস্তুতি নিতে হবে।

এতটা স্পষ্ট হওয়ার পরও বিবিসি এমন জিজ্ঞাসামূলক শিরোনাম কেন করছে, এটাও লক্ষ করার মতো বিষয়।

 

বন্যায় আ. লীগ ছাড়া অন্য দলের কেউ পাশে নেই : তথ্যমন্ত্রী

প্রথম আলো, ১৮ জুন ২০২২

যখন আপনার লজ্জা থাকে না, আপনি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারেন—এর সবচাইতে বড় বাস্তব নমুনা আমরা দেখি রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে। আমাদের তথ্যমন্ত্রীর চোখে যে চশমা, তাতে তিনি তার দল আ. লীগ ছাড়া আর কারও কোনো ভালো কাজ দেখতে পান না। সিলেটসহ দেশের যে কয়টি এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, সেখানে আমরা সবাইকে দলমত ভুলে কাজ করতে দেখেছি। বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম ও ইসলামিক দলগুলো সরকার কর্তৃক বরাদ্দের চাইতেও কয়েকগুণ বেশি ত্রাণ বিতরণ করেছে। উপরন্তু প্রশাসনের আগে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে সাধারণ জনতাকেই। দলগতভাবে আ. লীগ কোথাও কিছু করেছে বলে চোখে পড়েনি। বরং আমরা এর বিপরীত সংবাদ দেখেছি, ত্রাণ চুরি করে আ. লীগ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার হতে দেখেছি। তথ্যমন্ত্রীর মিথ্যা তথ্য আহত করেছে স্বতঃস্ফূর্ত সকল ত্রাণকর্মীকে।

 

‘মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু পদ্মাসেতুর উদ্বোধন দেখেছি’ : শাওন

প্রথম আলো, ২৫ জুন ২০২২

অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে তার এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার মানুষের জন্য পদ্মাসেতুর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা অনস্বীকার্য। ফেরী পারাপারে তারা যে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতেন, এখন তা থেকে মুক্তি পাবেন তারা। সুতরাং পদ্মাসেতু নির্মাণ আমাদের সবার জন্যে আনন্দের এবং আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এর জন্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যয় বিলকুল চেপে যাওয়া এবং এ সেতু নিয়ে অতি মাতামাতি সেতুর প্রতি মানুষকে বিষিয়েই তুলবে। একটা সেতু নির্মাণকে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করা যেতে পারে?! নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য তাদের সরাসরি অপমান করা হলো এর মাধ্যমে। কিছু একটা হলেই তাকে মুক্তিযুদ্ধ বানিয়ে দেওয়ার এ প্রবণতা আমরা আগেও লক্ষ করেছি। শাহবাগ মোড়ে যখন রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে কিছু লোক একত্র হলো, এটাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বানিয়ে দেওয়া হলো। সেখানকার ইসলামবিদ্বেষী এক ব্লগার খুন হলে তাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ আখ্যা দেওয়া হয়। এসব থেকে প্রমাণিত হয়, মূলত  মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এদের হৃদয়ে কোনো সম্মান নেই। মুক্তিযুদ্ধকে কেবল নিজেদের মত, পথ ও সুবিধার পক্ষে ব্যবহার করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য।

—ইবনে আব্দুল্লাহ

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন