প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

হাকীমুল উম্মতের দরবারে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী

হাকীমুল উম্মতের দরবারে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী

মাওলানা যায়েদ মাজাহেরী নদভী

অনুবাদ : আব্দুল মুমিন


(পূর্বপ্রকাশের পর)

খেলাফত লাভে ধন্য হলেন

১৯৩৮ সালের আগস্টে আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদভী সুলুকের পথে কদম রাখেন। এখন তিনি ১৯৪২ ঈ. অক্টোবরে এসে পৌঁছলেন। পথিক এ সময়ে ইশক ও মারেফাতের এত মনযিল অতিক্রম করেছেন যে, হাকীমুল উম্মতের দৃষ্টিতে তিনি পথের সকল চরাই—উৎড়াই ও প্যাঁচঘুচ সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল। যারা জানে না তাদের পথপ্রদর্শনের পূর্ণ উপযুক্ত।

হযরত হাকীমুল উম্মত নিজের এ ধারণার ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চিন্ত হওয়ার লক্ষ্যে এস্তেখারা করলেন। এস্তেখারার মাধ্যমে সমর্থন ও শক্তি লাভ করলেন। এরপর সায়্যিদ সাহেব বরারব চিঠি লিখলেন। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল, এস্তেখারার পর পরামর্শ চাচ্ছি, আমার মন চায় আপনাকে খেলাফত প্রদান করি। এ ব্যাপারে এস্তেখারাও করেছি। এখন আপনার পরামর্শ কী?

হযরত সায়্যিদ সাহেব বলেন, যেহেতু দু—তিন দিনের মধ্যেই থানাভবন হাজির হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাই হযরতের চিঠির কোনো জবাব লিখিনি। হাজির হওয়ার পরও চুপ রইলাম। একদিন হযরতের পক্ষ থেকে একটি চিরকুট এলো,

‘আমি যে পরামর্শ চেয়েছি তার তো কোনো জবাব দেননি।’

হযরতের বারবার জিজ্ঞাসার পর আমি নিবেদন করলাম :

‘হযরতওয়ালার চিঠি পেয়ে পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। আমি কোথায় আর এ জিম্মাদারী কোথায়।’

হযরত থানভী রহ. মুরীদদের প্রতিটি পদে পরীক্ষা করতেন। যাচাই বাছাই করতেন। আমার এ জবাব শুনে হযরত হাকীমুল উম্মত সীমাহীন আনন্দিত হলেন। উপস্থিতদের লক্ষ্য করে বললেন : ওই জবাবই এসেছে যা আমার আশা ছিল।

এরপর ২২ অক্টোবর ১৯৪২ ঈ. হযরত সায়্যিদ সাহেবকে চার সিলসিলায় আধ্যাত্মিক খেলাফত প্রদান করলেন। হাফেয মুহাম্মদ সাহেব বর্ণনা করেন, সায়্যিদ সাহেবকে খেলাফত প্রদান করে হযরত হাকীমুল উম্মত এতটাই আনন্দিত ও আশ্বস্ত ছিলেন যে বহুবার বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার এখন আর কোনো চিন্তা নেই। আমার পর এমন এমন ব্যক্তি আছেন।—বাযমে আশরাফ কে চেরাগ : ৮০

লখনৌর কমিশনার জনাব সায়্যিদ হুসাইন সাহেব লিখেন :

ডিসেম্বর ১ বা ২ তারিখ হযরত থানভী রহ. এর পত্র এলো। আসরের নামাযের পর নিয়মমাফিক কামরায় চা এলো। প্রিয়জনেরা একত্র হলো। চা পর্ব শেষে সকলেই উঠে গেল। আমি তখনো বসে ছিলাম। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর হযরত সায়্যিদ সাহেব বললেন :

হযরতওয়ালার (থানভী রহ.) মোবারক চিঠি এসেছে। লিখেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে এ ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছে, আমি আপনাকে কাদেরিয়া, নকশেবন্দীয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া ও চিশতিয়া তরীকায় বাইআতের ইজাযত দিয়ে দেব। এ গায়বী ইশারামতে আপনাকে এ গুরুদায়িত্বের উপযুক্ত দেখেই বাইআতের ইজাযত দিচ্ছি। আর আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন বরকত ও সবর দান করেন এবং আপনার ফয়েজ দীর্ঘদিন জারি রাখেন। আপনি বিষয়টি আপনার বন্ধু ও পরিচিতদের জানিয়ে দিন। যেন মানুষ জানতে পারে এবং উপকৃত হতে পারে।

এ সংবাদ শোনানোর পর নিজস্ব ভঙ্গিতে বললেন : ভাই, আমি তো একেবারে অজ্ঞ ও আনাড়ি। কিন্তু হযরতের নির্দেশ পালনের জন্য আপনাদের এ খবর শুনাচ্ছি।—মাআরিফ, সুলাইমান সংখ্যা : ৩২৯ (১৯৫৫ ঈ.)

 

ইজাযত ও খেলাফত লাভের পর রচিত কিছু কবিতা

মজলিসে খেলাফতের সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে এলাহাবাদের পথে, ২২ অক্টোবর ১৯৪২ ঈসায়ী

ابھی تو مشق فغاں کنج  میں ہز ار کرے

اثر کے واسطے  کچھ اور انتظار کرے

এখন অবধি যদি নির্জনে হাজারো ফরিয়াদ ও আহাজারি করে থাকো তবু / প্রতিক্রিয়ার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করো

جو آج لذت درد نہاں کا جویا ہے

وہ پہلے سوز سے دل کو  تو داغدار کرے

যিনি আজ দরদে দিলের লয্যতের প্রত্যাশী, তিনি আগে হৃদয় জ¦ালিয়ে দগ্ধ করুন।

 انہیں کے د ینے سے ملتا ہے جس کو ملتا ہے

وہی نہ چاہیں تو کوشش کوئی ہزار کرے

যিনি লাভ করেন তাঁর দানের সুবাদেই লাভ করে থাকেন, তিনি না চাইলে হাজার চেষ্টাও বৃথা

ادب سے دیکھ لیں مشتاق دور سے ان کو

     مجال ہے جو کوئی ان کو ہمکنار کرے

ব্যাকুলজন আদবের সঙ্গে দেখে নিক তাকে দূর থেকে

কার সাধ্য আছে যে তাকে পৌঁছে দিবে তীরে।

سنا تو دے انہیں افسانۂغم ہجراں

وہ اعتبار کرے یا نہ اعتبار کرے

তিনি গ্রহণ করুন বা না করুন বিরহ—বেদনার উপাখ্যান শুনিয়ে দেওয়া হোক তাঁকে।

وہ اپنے کان سے سنتے ہیں میرے نالوں کو

وہ طر ز نالہ نوجوان کو بیقرار کرے

নওজোয়ানকে ব্যাকুল করে তোলে মতো মোর বিলাপ শোনেন তিনি স্বকর্ণে

 تری نظر میں ہے تاثیر مستی صہبا

  تری نگاہ جسے چاہے بادہ خوار کرے

তোমার চাহনীতে লাল সূরার মস্তি ও সম্মোহনী।

তোমার (মাওলা প্রেমের) নেশা ভরা চাহনী যাকে ইচ্ছা করে তোলে নেশা—বিভোর।

تری نگاہ میں دونوں خواص رکھے ہیں

وہ چاہے مست کرے چاہے ہوشیارکرے

তোমার চাহনীতে দুটো বৈশিষ্ট্যই সমান বিদ্যমান

যাকে ইচ্ছা দেওয়ানা করো, যাকে ইচ্ছা চৌকস করে তোলো।

—তাযকিরায়ে সুলাইমান : ১৫৫

 

থানাভবন থেকে লখনৌ ফিরে নদওয়াতুল উলামায় ইসলাহী মজলিস

লখনৌর কমিশনার জনাব সায়্যিদ হুসাইন সাহেব লিখেন :

১০/১২ দিন থানাভবন অবস্থানের পর লখনৌ ফিরে এলে আমিও তাঁর প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারি। আমি তখন ছুটিতেই ছিলাম। ব্যক্তিগত এক কাজে লখনৌ যাই। ফজরের পর নদওয়াতুল উলামার মেহমানখানায় উপস্থিত হলাম। সেখানে হযরত সায়্যিদ সাহেবকে পেলাম। হযরতের হাল ও কাইফিয়াত এ অধমের পক্ষে কি বোঝা সম্ভব? তবে এতটুকু অবশ্যই অনুমান করতে পেরেছি যে হযরত অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রসন্ন ছিলেন। দারুল উলূমের আসতিযা, তলাবা ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ হযরতকে ঘিরে বসে ছিলেন। হযরত তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন। চা এলো, আমিও শরীক হলাম। চা—পর্বের পর বিশেষ ব্যক্তিবর্গই রয়ে গেলেন। এদের অধিকাংশই ছিলেন নদওয়ার উস্তাদ ও তালিবে ইলম। মজলিসে তিনি ২ নভেম্বর লেখা নিজের গজল শোনালেন, যা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। মজলিস শেষ হলো মোটামুটি ১১ টার দিকে। এরপর খাওয়া—দাওয়া হলো। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার মসজিদে জোহরের জামাত হলো। জোহরের পর পুনরায় মেহমানখানায় মজলিস হলো। এ মজলিসেও কিছু গজল শুনিয়েছেন। উপস্থিত কয়েকজনকে আমি নিজেদের মাঝে বলতে শুনেছি, সায়্যিদ সাহেবের মাঝে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। এসব বিষয় তাঁর মাঝে না কখনো দেখেছি, আর না কখনো শুনেছি। তারা বলতে চাচ্ছিলেন, তাঁকে কখনো এভাবে কবিতা আবৃত্তি করতে শোনেননি। তাই তারা খুবই বিস্মিত। দু—তিন দিন দারুল উলূমে ছিলেন। এ সময় এ ধরনের মজলিস চলছিলই। এরপর লখনৌ থেকে আমিও হযরতের সফরসঙ্গী হলাম। রেলগাড়িতে এ কবিতা রচনা করেছেন :

ہر بات میں جس کی ہے کیفیت مستانہ

آباد رہے یا رب تا حشر وہ میخانہ

যাঁর প্রতিটি বিন্দুতে মাওলা প্রেমের নেশাধরা সম্মোহনী কায়ফিয়তে ভরা / চিরকাল জমজমাট থাকুক সেই (প্রেমের) পানশালা

چھائی ہے یہاں مستی ہر ایک نمازی پر

حیرت ہے یہ گھر اے دل مسجد ہے کہ میخانہ

আচ্ছন্ন করে আছে প্রতিটি নামাযীকে (মাওলা প্রেমের) নেশা ও সম্মোহন / হতবাক হয়ে বলি, হে মন, এ কি মসজিদ না পানশালা।

زاہد نے کہاں پائی زاہد نے کہاں پی لی

 گفتار ہے رندانہ رفتار ہے مستانہ

সাধক (এ সূরা) কোথায় পেল কীভাবে পান করে নিল

তার কথাবার্তা চলাফেরা সবই যেন নেশাভরা।

دستار فضیلت ہو یا دلق مرقع ہو

ہونا ہے اسے اک دن نذرمے ومیخانہ

মহাসম্মানসূচক পাগড়িধারী হোক কিংবা তালিওয়ালা কোর্তাধারী

তাকে অবশ্যই আত্মবিভোর হয়ে হারিয়ে যেতে হবে (প্রেমের) সূরা ও পানশালায়।

ہر قطرہ ندامت کا جو دیدۂ تر میں ہے

ہے دامن خالی کا وہ گوہر شاہانہ

রিক্ত ও নিঃস্বের অশ্রম্নসজল নয়নের তপ্ত আঁসুতে আছে সেই অমূল্য রত্ন

وہ چشم محبت تو جو یائے محبت ہے

 دیکھے تو ذرا کر کے اس سے کوئی یارانہ

প্রেম—ব্যাকুল চাহনি প্রেমের ভিখারী / প্রেমের সওদা করে দেখুক কেউ অন্তত একটি বারের মতো।

معشوق یگانہ ہے عاشق بھی یگانہ ہو

 یعنی کہ جوان کا ہو وہ سب سے ہوبے گا نہ

প্রিয়তম অদ্বিতীয় ও অনন্য, প্রেমিকও অনন্য / অর্থাৎ যিনি তাঁর হয়ে গেলেন তিনি সবার থেকে আলাদা ও অনন্য।

—মাআরিফ, সুলাইমান সংখ্যা : ৩২৬

 

সায়্যিদ সাহেবের মাধ্যমে হযরত থানভী রহ. এর ফয়েজ

এক আলেম বাইআতের নিবেদন করলে হযরত সায়্যিদ সাহেব লিখেন :

বাইআতের উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক তা’লীমের অঙ্গীকার। তা’লীম তো চলছেই। নিজের দৃঢ়তা বুঝে সময়মতো সে বরকত অর্জনের আগ্রহ প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ, এতে কোনো কার্পণ্য করব না। আর আমার কাছে তো হযরতওয়ালার নিসবত ছাড়া আর কিছুই নেই। এ নিসবতই ইনশাআল্লাহ পেশ করব।

আপনি তা’লীমুদ্দীন ও তাবলীগে দীন পুস্তিকা—দুটি এ নিয়তে মুতালাআ করে যান যে, এ দর্পনে আপনি নিজেকে আবিষ্কার করবেন। নিজের মধ্যে ভালো দিক ও সঠিক আমল পরিলক্ষিত হলে শোকর আদায় করবেন। আর যে ত্রুটি ও কমতি অনুভূত হবে তা পূরণের ও আমল করার চেষ্টা করবেন। তাবলীগে দীন গ্রন্থে কোথাও কোথাও সময়ের পরিবর্তনে কিছুটা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। এমন কিছু আপনি জানতে চাইলে হযরতওয়ালার নির্দেশনা মুতাবেক সে সংশয় দূর করা হবে।—বায়্যিনাত, করাচি, মুহাররম ৮৪ হি.

এক খাস মুরীদের উদ্দেশ্যে লিখেন :

আমার ব্যাপারে আপনি যা কিছু প্রকাশ করেন তার সবই আপনার সুধারণা।… আমার মাঝে এছাড়া আর কিছুই নেই যে, আমি হযরতওয়ালার হাত ধরেছি। আল্লাহর অনুগ্রহে এর উপরই ভরসা করছি। আপনি আমার জন্য দুআ করুন। আমিও আপনার জন্য দুআ করি।—সুলুকে সুলাইমানী : ৪৩৯

 

হযরত থানভী রহ. এর সঙ্গে সায়্যিদ সাহেবের শেষ সাক্ষাৎ

ও হযরত থানভী রহ. এর একটি ওসিয়ত

হযরত সায়্যিদ সাহেব ইয়াদে রফতেগাঁ গ্রন্থে ‘মওতুল আলিমি মওতুল আলাম’ শিরোনামের নিবন্ধে ‘আমার শেষ উপস্থিতি’ উপ—শিরোনামে লিখেন :

অধম জুনের শেষ দিকে থানাভবন হয়ে ভুপাল সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হই।…. ৬ জুলাই লখনৌ থেকে রওনা হই। ৭ জুলাই দুপুরে প্রচণ্ড বৃষ্টির ভেতর স্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে ভিজতে ভিজতে খানকায় গিয়ে পৌঁছি।—ইয়াদে রফতেগাঁ : ২৫৭

এ শেষ সফরের বিবরণ তুলে ধরে মাসউদ আলম নদভী সাহেবের নামে এক পত্রে লিখেন,

হযরত থানভী রহ. এর দরবার থেকে ১১ জুলাই বিদায় নিয়ে ভুপাল পৌঁছি। বিদায়ের সময় বললেন, ‘যাও আল্লাহর সোপর্দ করলাম।’ এ কথা আর কখনো বলেননি। খুবই স্নেহ করেছেন। সাধারণ নিয়ম ভেঙে আলাদা ব্যবস্থা করতে দিলেন না। নিজের মেহমান করে রাখলেন। আসা—যাওয়ার উন্মুক্ত অনুমতি দিয়ে রাখলেন। বললেন, ‘আমার কিতাবাদির নির্বাচিত অংশ পুস্তিকা ও গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করুন।’ এতে যেন আমার ভবিষ্যতের পূর্ণতার পথনির্দেশন প্রদান করা হয়েছে।

হয়তো এসব কথা আপনার রুচিবোধের সঙ্গে যায় না। কিন্তু কলমে এসে গেল। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিজস্ব রুচি—অভিরুচির কিছু কথাও বলতে মন চায়।

—সায়্যিদ সুলাইমান

৮ আগস্ট ১৯৪৩

—মাকাতীবে সায়্যিদ সুলাইমান : ১৪৬

 

সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. থানাভবনের এ শেষ উপস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেন :

এখান থেকে উঠে খানকায় গিয়ে পৌঁছলে আসরের নামাযের পর মাওলানা জামীল সাহেবের মাধ্যমে হযরতের শেষ রচনা বাওয়াদিরুন নাওয়াদের হাদিয়া পাঠালেন। মাওলানা জামীল সাহেব হযরতের এ নির্দেশও শুনালেন যে, হযরত বলেছেন, ‘আমার রচনা ও বয়ান থেকে বিষয়ভিত্তিক নির্বাচিত অংশের সংকলন প্রস্তুত করে প্রচার করুন।’ এ নির্দেশকে আমার হেদায়াত ও পথনির্দেশের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে আনন্দ প্রকাশ করলাম। দ্বিতীয় দিন হযরতের খেদমতে উপস্থিত হলে হযরত নিজে এ বিষয়টি বলতে চাইলে কথা বলতে কষ্ট হবে ভেবে আমি বললাম, মাওলানা জামীল সাহেবের মাধ্যমে এ নির্দেশ আমার কাছে পৌঁছেছে। মজলিসে থেকে উঠার পর মাওলানা জামীল সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, হযরতের উদ্দেশ্য মূলত কী? বাওয়াদিরনম্ন নাওয়াদের কিতাব থেকে নির্বাচিত অংশের সংকলন প্রস্তুত করা, নাকি সকল রচনা থেকে?

তিনি বললেন, বিষয়টি আমি নিজেও ভালোভাবে বুঝতে পারিনি।

পরের মজলিসে হযরতের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বললেন, না, সব রচনা থেকেই যে বিষয় উপকারী মনে হয় তাকে একত্র করুন।

 [চলবে, ইনশাআল্লাহ]

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন