প্রতিষ্ঠাতা: মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-এর মুখপত্র

প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৩৭ ঈসায়ী

হাকীমুল উম্মতের দরবারে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী

হাকীমুল উম্মতের দরবারে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী

মাওলানা যায়েদ মাজাহেরী


হাকীমুল উম্মত থানভী রহ. ও সায়্যিদ সুলাইমান নদভীর মাঝে পত্রযোগাযোগের সূচনা এবং জাগতিক কিছু কারণ ও অনুঘটক

কোনো একসময় আসাফিয়া রাজ্যের সর্বোচ্চ পরিষদ ও শরীয়া বিভাগ থেকে ‘আলইসতিফতা’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। যাতে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল যে রিবা (সুদ) কেবল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। (যেমন : সোনা বা রুপার বিনিময়ে অতিরিক্ত সোনা বা রুপা ক্রয় করা হলো।) ঋণের ক্ষেত্রে সুদ হয় না। (যেমন : কেউ একশ রুপি ঋণ দিয়ে সোয়াশ বা এর কম-বেশি পরিমাণ আদায় করল।) অতএব ঋণ দিয়ে লাভ নেওয়া জায়েয। এটা সুদ নয়।

যেহেতু এ পুস্তিকার কারণে কেবল সাধারণ মানুষেরই নয়; কিছু আহলে ইলম ব্যক্তিরও পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই হাকীমুল উম্মত রহ. এ পুস্তিকার জবাব ও মূল বিষয়ের সঠিক বিশ্লেষণ পেশ করে তাঁর ভাগিনা মাওলানা যফর আহমদ উসমানীকে দিয়ে একটি জবাবি পুস্তিকা রচনা করান। নাম রাখা হয় : كشف الدجى عن وجه الربا। পুস্তিকাটি প্রথমে আরবী ভাষায় রচিত হয়। (পরে উর্দু অনুবাদ করা হয়।) আননূর, রবিউস সানী ১৩৪৮ হিজরী (১৯২৯ ঈসায়ী) সংখ্যায় প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয়। পরে তা স্বতন্ত্র পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়।

হাকীমুল উম্মত রহ. মাওলানা যফর আহমদ উসমানীকে সমকালীন উলামায়ে কেরামের সত্যায়ন সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলেন। যেন উলামায়ে কেরামের সমর্থনের মাধ্যমে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং উপকারিতা ব্যাপক হয়।

মাওলানা যফর আহমদ উসমানী এ পুস্তিকার একটি কপি পাঠালেন আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদভীর কাছে। পুস্তিকাটি হযরত মাওলানা থানভী রহ.-এর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সায়্যিদ সাহেব জবাবি পত্র মাওলানা যফর আহমদ উসমানীর পরিবর্তে সরাসরি হযরত থানভী রহ.-এর বরকতময় খেদমতে প্রেরণ করলেন। এভাবেই চিঠি-পত্রের সূচনা হয়। এ চিঠি-পত্র আদান-প্রদানেই কথাপ্রসঙ্গে আত্মশুদ্ধির আলোচনাও এসে যায়।

জরুরি এ ভ‚মিকার পর হযরতওয়ালার চিঠি দেখুন।-তাযকিরায়ে সুলাইমান : ৮৪

 

হাকীমুল উম্মত থানভী রহ. বরাবর আল্লামা সুলাইমান নদভীর প্রথম চিঠি

حضرة العلامة المفضال متع الله المسلمين بطول بقائكم

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

আননূর-এর ‘কাশফুদদুজা’ শিরোনামের নিবন্ধ সংবলিত সংখ্যাটি আপনার নির্দেশনাসহ পেয়ে ধন্য হয়েছি। এটাকে আমার সৌভাগ্যের আলামত মনে করি যে, আপনি এ পাপী-তাপী ও মহামূর্খকে অভিমত লিখতে অনুরোধ করেছেন। আল্লাহ সাক্ষী, আপনার কোনো লেখার ব্যাপারে অভিমত পেশ করার মতো যোগ্য আমি কখনই নই। আর এতেও সন্দিহান যে হযরতের পবিত্র রুচিবোধ আমার উপস্থাপনা ও দলীল পেশ করার পদ্ধতি পছন্দ করবে কি না। তবুও الأمر فوق الأدب তথা নির্দেশ পালন আদব রক্ষার চেয়ে ঊর্ধ্বে বিধায় নির্দেশ পালন করব, যদি আমার এ উযর গ্রহণ করা না হয়…। সঙ্গে ভাষার ব্যাপারে হযরতের সিদ্ধান্ত জানালে ভালো হয় যে আরবীতে লিখব, না উর্দুতে। জবাবের জন্য খাম ও টিকেটের প্রয়োজন নেই।

মুসতাফতী আমার উস্তাদ ও মুরব্বী। দক্ষিণ হায়দ্রাবাদে তিনি স্বয়ং পুস্তিকাটি আমাকে দেখতে দিয়েছিলেন। আমি মনোযোগসহ পড়ার জন্য সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। পড়ার পর এ কথাগুলো লিখে পুস্তিকা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম যে, আপনি যেটাকে মাকরুহ মনে করছেন আমি তাকে সুস্পষ্ট সুদ বলি। আমার কাছে তো বিভিন্ন মতামত ও বর্ণনার চেয়েও মজবুত দলীল হলো সালাফের আমল। বিষয়টি এতটা পরিষ্কার ও এতটা প্রয়োজনীয় হওয়া সত্ত্বেও কেউ একে জায়েয বলেননি। আর না এর ওপর কখনো আমল হয়েছে। بيع, دين ও قرض এর পরিভাষার চেয়ে শাব্দিক অর্থের গুরুত্ব বেশি। কাশুফুদদুজা পড়ে উপকৃত হয়েছি। বাক্যের গঠন এবং উপস্থাপনার সাবলীলতা ও মোহনীয়তা এককথায় সোনায় সোহাগা।

সময়ের ফিতনা-ফাসাদে যখন আমার হৃদয় শঙ্কিত হয় এবং বেএখতিয়ার কোনো স্বস্তি ও প্রশান্তির অনুসন্ধানী হয়, তখন বার বার খানকায়ে ইমদাদিয়ার কথাই মনে পড়ে। কিন্তু ভয় হয়, দূরত্ব ও পরিচয়হীনতার কারণে আমার ব্যাপারে না জানি কী কী খবর পৌঁছেছে। তা ছাড়া আপনি আমাকে আলাপ-আলোচনার উপযুক্ত মনে করেন কি না তা-ও জানা নেই। আমি তো ‘আলইসতিফতা’ নামক এ পুস্তিকার প্রতি বড়ই কৃতজ্ঞ যে, দূরত্ব ও পরিচয়হীনতার জায়গায় সম্পর্ক ও নৈকট্যের পথ করে দিয়েছে। আমি এখন সে দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে আছি যাতে জাহেরি ইলম প্রশান্তি বয়ে আনতে পারে না।

দুআ ও হিম্মতের ভিখারি

ওয়াসসালাম

সুলাইমান নদভী

-তাযকিরায়ে সুলাইমান : ৮৫

 

হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ.-এর জবাব

মুহতারাম মাওলানা (দামাত ফুয়ুযুহুম)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, প্রসন্ন হওয়ার উদ্দেশ্য না আমার ছিল আর না জনাবের। উভয় দিক থেকে আমাদের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এর ব্যবস্থা হয়ে গেছে। সে ঘটনা তো জনাব লিখেই দিয়েছেন। এদিকে হলো কি, আমি নির্দিষ্ট করে কোনো বুযুর্গের কাছে চিঠি পাঠাতে বারণ করেছিলাম। এর কারণ দুটি : প্রথমত বুযুর্গগণের তালিকার ব্যাপারে আমার জানা-শোনা অসম্পূর্ণ। দ্বিতীয়ত কাউকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার হিম্মত হয় না। বিশেষ করে আমার নিজের কথা হলে তো সীমাহীন সংকোচ বোধ হয়।

চিঠিটি লিখেছে আমার ভাগিনা। যদিও আমার বলার কারণেই লিখেছে। যেহেতু অন্যান্য প্রকাশনার তুলনায় এ ইসতিফতার ক্ষতি ব্যাপক হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল আর তা প্রতিহত করার সবচেয়ে উপকারী উপায় হলো উলামায়ে কেরামের সমর্থন, তাই মাথায় এলো, জনসাধারণের মাঝে এর বেশ প্রভাব পড়বে। তাই আমি প্রিয় ভাগিনাকে খরচ দিয়ে বলেছি, যেখানে যেখানে মুনাসিব মনে হয় পাঠিয়ে দাও। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ, সে জনাবকে কষ্ট দিয়ে এ সুযোগ করে দিয়েছে যে, আমি জনাবের সম্বোধন লাভ করেছি। এ হলো এদিকের ঘটনা।

যাই হোক, সংকোচ দূর হওয়ার পর এখন মহব্বতনামার জবাব নিবেদন করছি। জনাবের বিনয় অবশ্য আমাকে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে জনাবের ভক্তে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে ও জোরদার হবে বলে প্রবল আশাবাদী।

রইল উপস্থাপনা ও দলীল পেশ করার পদ্ধতি পছন্দ হওয়া না হওয়ার প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গে হৃদয়ের শ্রদ্ধা থেকে একটি উদাহরণ পেশ করছি। যারা সাদা কাপড় পরিধান করে তাদের জন্য কখনই এ অধিকার নেই যে, তারা রঙিন কাপড় পরিধানকারীদের অপছন্দ করবে। শর্ত হলো শরীয়ত সমর্থিত পন্থায় সতর ঢাকতে হবে। আর (রইল) ভাষার ব্যাপার। উভয় ক্ষেত্রেই আমার একটি করে উযর প্রতিবন্ধক রয়েছে। উর্দুতে লেখা তো আপনার শান নয়। আর আরবী ভাষার সুউচ্চ শান থেকে আমার অবস্থা অনেক নিচের। কারণ, আমি আরবী ভাষায় খুব পারদর্শী নই। অতএব কোন ভাষায় লিখবেন তা জনাবের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।

মাসআলার ব্যাপারে যে শিরোনামে আপনার মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেছেন তার চেয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় শিরোনাম খুব কমই নজরে পড়ে। আল্লাহ আপনার ইলমে বরকত দান করুন।

পুস্তিকার ভাষার ব্যাপারে আপনি যা বলেছেন তাতে আমি লেখকের লেখার প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়েছি। কারণ, তা বিজ্ঞজনের সাক্ষ্য। বাকি আরবী ভাষায় আমার অপরিক্বতা তো ওপরে নিবেদন করেছিই। অতএব লেখকের ব্যাপারে আমার শ্রদ্ধাবোধকে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির সাক্ষ্য হওয়ার দরুন অসম্পূর্ণ সাক্ষ্য মনে করি।

শেষে খানকার প্রতি আপনার আকর্ষণ এবং সম্ভাব্য কিছু প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ করেছেন। খানকায় যদি হযরত শায়েখ (হাজী সাহেব রহ.) নিজেই সশরীরে উপস্থিত থেকে আলোকিত করতেন তাহলে সকল বিষয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলানো সম্ভব হতো। কিন্তু এখন কেবল সুধারণার সঙ্গেই মেলানো সম্ভব। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। অবশ্য বেশি লৌকিকতা পূর্বের সে সংকোচ ফিরে আসার এবং বর্তমানের প্রসন্নতা দূর হওয়ার কারণ মনে করে ভালো মনে করছি না। তাই কোনো রাখ-ঢাক ছাড়াই প্রকৃত বিষয় নিবেদন করছি, জনাবের এ সুধারণা যদি কারও বিবরণের কারণে হয়ে থাকে তাহলে সে বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। আর যদি নিজ উপলব্ধি ও রুচিবোধের আলোকে হয়ে থাকে তাহলে আমি বন্ধুত্বের জন্য প্রস্তুত আছি। তবে শর্ত হলো আমাকে যেন ইলমী বিষয়ে সম্বোধন করা না হয়, যা থেকে আমি রিক্তহস্ত হওয়ার কথা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। সত্য মুক্তি দেয়।

-ওয়াসসালাম

একটি নিবেদন : জনাবের পত্রখানা রেখে দিয়েছি। অনুমতি হলে মাসআলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশ অভিমতের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। এটা এ লেখকের আবেদন। যা গ্রহণ করা না করার ব্যাপারে জনাব সম্পূর্ণ স্বাধীন। কল্যাণকর ও আপনার স্বভাবের সামান্য পরিপন্থি মনে হওয়ার দরুণ অনুমতি প্রদান না করলেও সে আনন্দই লাভ হবে যা অনুমতি প্রদান করলে হতো। আজ এ পর্যন্তই…

نا کارہ، آوارہ ننگ انام اشرف برائے نام

অধম আওয়ারা নামকাওয়াস্তে নাম হলো আশরাফ-ভদ্রতম

অথচ বাস্তবে মানুষ নামের কলঙ্ক

থানাভবন থেকে

২৮ ডিসেম্বর ১৯২৯ ঈ.

-তাযকিরায়ে সুলাইমান : ৯৮

 

আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদভীর দ্বিতীয় চিঠি

নিজের চিন্তা-ভাবনার বিবরণ ও আত্মশুদ্ধি প্রসঙ্গে হযরত থানভী রহ.-এর খেদমতে নিবেদন

হযরত হাদীয়ে তরীকত (আল্লাহ তাআলা আপনার দীর্ঘ হায়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের উপকৃত করুন।)

¯স্নেহ ও করুণার দানে পূর্ণ (আপনার) চিঠি এসে পৌঁছেছে। এতে পেরেশান ও বিক্ষিপ্ত হৃদয় প্রশান্তি লাভ করেছে।

মাওলানা, আমি আপনার দুআ ও দাওয়াতের সবচেয়ে উপযুক্ত। ইলমী কোনো জটিলতার সমাধানের ভিখারি নই। বরং আত্মিক পেরেশানি থেকে মুক্তির জন্য আপনার দুআ ও হিম্মতের ভিখারি।

আমি মুতাযিলা দর্শন থেকে নিয়ে সালাফী চিন্তা-ভাবনা পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে উঠে এসেছি। আকীদার ক্ষেত্রে ইমাম মালেক রহ.-এর এ মূলনীতি মেনে চলি :

الاستواء معلوم والكيفية مجهول والإيمان به واجب والسوال عنه بدعة.

সীরাতে নববীর সংকলন করতে গিয়ে যদিও আমার ভুল হয়ে গেছে কিন্তু তা আমার ভেতর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মহব্বতের একটি বন্ধন তৈরি করে দিয়েছে। আল্লাহর শোকর, ফিকহের ক্ষেত্রে আমি পরবর্তীদের অনুসারী নই। আবার প্রচলিত অর্থে আহলে হাদীসও নই। ইমামগণকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি। কোনো বিষয়ে তাঁদের সকলের মতের বাইরে চলে যাওয়াকে সঠিক মনে করি না।

বিহারে আমাদের পরিবারে যুগপৎ ইলমে জাহের ও ইলমে বাতেনের চর্চা চলে আসছে। আব্বাজান আবুল আলায়ী তরীকার অনুসারী ছিলেন। ভাইজান মুজাদ্দেদী তরীকার ছিলেন। উভয়ই হাল ও নিবসতওয়ালা ছিলেন। আমার ছোটবেলা কেটেছে এ বুযুর্গদের কোলে। যিকির ও মুরাকাবা ওই ছোট বয়স থেকে শুরু করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধ্বংস হোক ওই সকল বাতিল ইলমের, যা আমাকে বহু কাল থেকে সে পথ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আল্লাহ মালুম, না জানি কোথায় কোথায় ঠোকর খেয়েছি। এখন যখন চল্লিশের কোঠা পার করছি তখন ওই সকল বুযুর্গের ছায়া আমার মাথা থেকে সরে গেছে। বিষয়গুলো এ জন্য তুলে ধরলাম, যেন হযরত আমার ভবিষ্যতের সংশোধনের ক্ষেত্রে অতীতের ব্যাপারেও সম্যক অবগত থাকেন।

আমার জন্য এমন কোনো তদবীর নির্ধারণ করুন, যা আমার মাঝে দৃঢ়তা, অবিচলতা ও ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে। ফরযের প্রতি আমি যত্নশীল। বিদআতকে অপছন্দ করি। কখনো কখনো সিজদার স্বাদও অনুভব করি। ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী ও শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. ও তাঁদের সিলসিলার প্রতি পূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা লালন করি। কুসংস্কার ও সুফীদের গপ্পবাজি মন থেকে অপছন্দ করি। নেককার নই, তবে আমার অবস্থার সংশোধন হোক দিল থেকেই চাই। ইউরোপের ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণের মোকাবিলায় ইসলামের খেদমত করার উদ্দীপনা লালন করি। এ পর্যন্ত জীবনের ২৫ বছর এ ব্যস্ততায়ই কেটেছে। এখন আপনার কাছে দুআপ্রার্থী। হিম্মতের ভিখারি। ইখলাস অর্জন ও আত্মার সংশোধনের কোনো উপায় বাতলে দেবেন বলে আশা করি।

কাশফুদ দুজা প্রসঙ্গে কলমে যা এসেছে তা মাওলানা যফর আহমদ সাহেবের খেদমতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

-সুলাইমান নদভী

২১ শাবান ১৩৪৮ হি.

জ্ঞাতব্য : সহজ হওয়ার জন্য আমি এ নিয়ম পালন করে আসছি যে, জবাবের সঙ্গে মূল চিঠিও রেখে দিই। আর তা চেয়ে নিয়ে নেওয়াও পছন্দ করি। যেন মিলিয়ে দেখতে সহজ হয়। বাহ্যিকভাবে তা অভদ্রতা মনে হয়। তাই অন্য চিঠির সঙ্গে এ নিয়ম পালন করা হয়নি। কিন্তু এখন কিছুটা অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হওয়ায় বাহ্যিক (অভদ্রতার) অবস্থার ওপর মৌলিক (প্রয়োজনের) অবস্থাকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

-আশরাফ আলী

-তাযকিরায়ে সুলাইমান : ১০০

 

হযরত হাকীমুল উম্মতের জবাব

অধম আশরাফ আলীর (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) পক্ষ থেকে

শ্রদ্ধেয় হযরতের খেদমতে (আল্লাহ তার ফয়েয দীর্ঘ করুন)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

অভিমতসহ আপনার মূল্যবান চিঠি পেয়ে আনন্দিত হয়েছি। আপনার অভিমত আমার ইলম নাফে বৃদ্ধি করেছে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বদা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে আনন্দে রাখুন।

প্রথমে সে সম্ভাষণ পরিবর্তনের অনুরোধ করছি যে সম্ভাষণে আপনি আমাকে সম্বোধন করেছেন। অর্থাৎ ‘হাদিয়ে তরীকত’ (তরীকতের পথপ্রদর্শক)। এ সম্বোধন নজরে পড়তেই মাথায় এ পঙ্ক্তি উদয় হলো,

او  خویشتن گم است کرا رہبری کند

صلاح کار کجا ومن خراب کجا

নিজেই পথহারা তাই কী করে করি রাহবরী

কোথায় পুণ্যবানরা আর কোথায় এ পাপী পথহারা।

এ পঙ্ক্তিটিও এসেছে,

بیا جامی رہا کن شرمساری

زصاف ودور پیش آر آنچہ داری

জামি এসো এ লজ্জা থেকে ত্বরিত উদ্ধার করো।

সঙ্গে সঙ্গে মাথায় বিষয়টি না এলেও আশ্চর্যের কিছু ছিল না। সম্বোধনের এ শিরোনাম চরম লজ্জায় ফেলে দেওয়ার কারণে জবাব পেশ করতে বাধ-বাধ ঠেকছে। কিন্তু এখন কেবল এ নিবেদনই করছি, যে শব্দ আমি আপনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছি তার সীমা যেন অতিক্রম করা না হয়। যদিও আমি সে সম্বোধনেরও উপযুক্ত নই। তবে আবেদন ও নিবদনের বেলায় বেশি যোগ্যতা শর্ত নয়।

এরপর আপনার চিঠির জবাব নিবেদন করছি, তবে পাশাপাশি শর্ত কিংবা নিবেদন করছি যে, আমার জবাবকে চূড়ান্ত বক্তব্য যেন মনে করা না হয়। বরং خذ ما صفا ودع ما كدر (যা ভালো তা গ্রহণ করো আর যা মন্দ তা বর্জন করো) এর ওপর যেন আমল করা হয়। এভাবে ভালো-মন্দ যাচাইয়ের বিষয়টি আমাকে জানানোরও প্রয়োজন নেই।… এখন নিঃসঙ্কোচে জবাব নিবেদন করছি।

আমি এতে বিশেষ আনন্দ অনুভব করেছি যে আমার চিঠি আপনার জন্য, যে পর্যায়েরই হোক, প্রশান্তির কারণ হয়েছে। অবশ্যই এ প্রভাব আমার চিঠির নয়, জনাবের সুধারণার। সাধারণভাবে আল্লাহ পাক এ বিধানই জারি রেখেছেন যে, সুধারণার স্থল থেকেই দান ও প্রতিদান বণ্টন করেন। এ সুধারণার ফলে ইনশাআল্লাহ আমার ফায়দা আশা করা যায়। فصدق الله رجاءنا جميعا আর এ সুধারণার ফায়দার আশাই আপনার সঙ্গে পত্র আদান-প্রদানের দুঃসাহস করার মূল কারণ। অন্যথায় কবির ভাষায় বলতে হয়,

صلاح کار کجا ومن خراب کجا

কোথায় পুণ্যবানরা আর কোথায় এ পাপী পথহারা।

আমি আপনার জন্য দিল থেকে দুআ করার খেদমত আঞ্জাম দেওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করি। আর নিজেও দুআর প্রার্থী।

জনাব নিজ চিন্তা-ভাবনার বিষয়টি যেভাবে নিঃসঙ্কোচে ব্যক্ত করেছেন তাতে আমার শ্রদ্ধা-ভক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে দুই কারণে :

এক. এটা সততা ও নিষ্ঠার প্রমাণ বহন করে।

দুই. এ চিন্তাধারা পরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে আহলে হক সকলের চিন্তা-ভাবনা এমনই।

শাখাগত কোনো বিষয়ের ভিন্নতার কারণে হাকীকত ও মূল বদলে যায় না, কেবল রঙের পরিবর্তন ঘটে। স্বয়ং এ অধমের দুই ক্ষেত্রে রঙ ভিন্ন :

এক. হাদীস ও ফিকহের ইলমের স্বল্পতার কারণে আমি পরবর্তী ফকীহগণেরও অনুসারী।

দুই. সুফিয়ায়ে কেরামের বিভিন্ন অবস্থা ও বক্তব্যকে ব্যাখ্যাযোগ্য মনে করি। তবে যাদের বাতিল হওয়ার বিষয়টি একেবারে সুস্পষ্ট তাদের কথা ভিন্ন।

আপনার বংশগত মর্যাদা ও বরকতের কারণে হাকীকতের হাকীকত পর্যন্ত দ্রুত পৌঁছতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ জাগ্রত হওয়ায় বিশেষ প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করেছি। হে আল্লাহ, তুমি তাই করো। ইতিমধ্যে তাই করে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

এর ফাঁকে আমিও আমার প্রকৃত অবস্থা নিবেদন করেছি। যেন خذ ما صفا ودع ما كدر এর ওপর আমল করা সহজ হয়। তা ছাড়া স্বভাবগতভাবেই আমি এটা চাই যে, আমার কোনো বিষয় প্রিয়জনদের কাছে গোপন না থাকুক। আমার মতে এর দ্বারা সম্পর্কের উন্নতি হয়। আর দুই মুসলমানের মাঝে নিষ্ঠাপূর্ণ বিশেষ সম্পর্ক বজায় থাকা আল্লাহ পাকের বিশেষ নেয়ামত। এ কল্যাণ বিবেচনায় আজই একটি পুস্তিকা আপনার খেদমতে পাঠাচ্ছি। পুস্তিকাটি আমার রচিত পুস্তিকারই তাসহীল (তথা সরল সংস্করণ)। মূল পুস্তিকা পাঠাতে পারিনি। এ মুহূর্তে এ তাসহীল সংস্করণই ছিল। এ পুস্তিকায় তরীকতের ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন পরিমাণ বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

এরপর জনাব এমন উপায় বাতলে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন যা বিশেষ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে। এর সঠিক ওযর তো আমি শুরুতে নিবেদন করেছি,

او  خویشتن گم است کرا رہبری کند

صلاح کار کجا ومن خراب کجا

নিজেই পথহারা, তাই কী করে করি রাহবরী

কোথায় পুণ্যবানরা আর কোথায় এ পাপী পথহারা।

তা সত্ত্বেও জনাবের হুকুম, জামী রহ.-এর নির্দেশ, ‘লজ্জা থেকে উদ্ধার করো’ এবং আমার নিজের নিবেদন (যা ভালো তা গ্রহণ করুন আর যা মন্দ তা বর্জন করুন)—এ সব মিলে লজ্জা-শরমকে পরাভূত করে কয়েক লাইন নিবেদন করার দুঃসাহস জুগিয়েছে। এ কয়েক লাইন মূলনীতির মতো। আপনার মনে ধরলে সামনে কিছু নিবেদন করতে নিশ্চিন্ত মনে করতে পারব। কারণ, সামনের নিবেদনের অধিকাংশই এ মূলনীতিগুলোর শাখা-প্রশাখা। আর এ মূলনীতিগুলোর সারাংশ একটি মূলনীতি। তা হলো :

 

নিখাদ ইলমী পরিভাষায় তাসাওউফের সারকথা

তাসাওউফের এ পথে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের পালনীয় যা কিছু আছে তার সবই হলো أفعال বা স্বতঃস্ফূর্তকর্ম। انفعالات তথা নিজ থেকে উৎসারিত প্রতিক্রিয়া নয়। উদাহরণত এস্তেকামত, অবিচলতা, নেক আমলের প্রতি আগ্রহ, বিদআতের প্রতি ঘৃণা, ইবাদতের স্বাদ ও মজা, ইখলাস, আত্মার পরিশুদ্ধি ইত্যাদি যত বিষয় আছে, তার মধ্যে যেগুলো বা যে অংশবিশেষ বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে পালন করা হয়, তা-ই হলো مأمور به তথা পালনীয়। কারণ, এটাই হলো বান্দার এখতিয়ার ও ইচ্ছাধীন বিষয়। এর মধ্যে যেগুলো انفعالات তা مأمور به বা পালনীয় নয়। কারণ তা এখতিয়ারাধীন নয়। অবশ্য এ انفعالات বা প্রতিক্রিয়াগুলোর কিছু সর্বদাই আর কিছু ক্ষেত্রবিশেষে প্রশংসনীয়। এ পর্যায়ে তা কাম্যও বটে। তবে এসবই ওই أفعال বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পালন করা কর্মেরই ফল। এগুলোই সে প্রতিক্রিয়াগুলোর সবব বা অনুঘটক এ অর্থে যে, কখনো বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ কর্মগুলো সে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে। তবে ইল্লত নয় যে কর্মগুলো সে প্রতিক্রিয়াবিহীন হতে পারে না। সে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করলেও ক্ষতির কিছু নেই। কারণ, মূল উদ্দেশ্য তথা আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তা শর্ত নয়।

এ পর্যন্তই…

ওয়াসসালাম

-তাযকিরায়ে সুলাইমান : ১০৪

 

এ মূল্যবান চিঠির প্রায় দুই মাস পর সায়্যিদ সাহেব পুনরায় একটি চিঠি লিখলেন। হাকীমুল উম্মত তাঁর জবাব লিখেছেন। চিঠি দুটি বুঝতে সহজ হওয়ার জন্য নিবেদন ও জবাব শিরোনামে লিপিবদ্ধ করা হলো। (নিবেদন শিরোনামে সায়্যিদ সাহেবের কথা আর জবাব শিরোনামে হযরত থানভী রহ.-এর কথা।)

ইসলাহী চিঠি-পত্রের সূচনা

আজমগড়

মহামান্য হযরত (আল্লাহ আপনার দান ও অবদান স্থায়ী করুন)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

নিবেদন : অনেক বিলম্বে উপস্থিত হচ্ছি তাই লজ্জিত। রমযানুল মুবারকের কিছুদিন পূর্বে তাসহীলে কসদুস সাবীলসহ আপনার মূল্যবান পত্র পৌঁছে আমাকে ধন্য করেছিল। কিতাবটি তো একদিনে পড়ে ফেলেছি। কিতাবের আলোচ্য বিষয়ও বুঝতে পেরেছি। রমযানের বরকতময় সময়ে আপনাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছি। মাওলানা যফর আহমদ সাহেবকে অবগতিপত্র ও পুস্তিকার রসিদ পাঠিয়ে দিয়েছি। শাওয়াল মাসে পত্র লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শাওয়ালের শুরু থেকে কিছুদিন আগ পর্যন্ত সফরেই কেটেছে। সুযোগ পাইনি।

জবাব :

আশরাফ আলীর পক্ষ থেকে

মাওলানার খেদমতে (আল্লাহ তার মর্যাদা স্থায়ী করুন)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

বিলম্বের দরুন লজ্জিত হওয়ার কারণ সম্ভবত আমার অপেক্ষায় থাকার কষ্ট করার আশঙ্কা। রমযানুল মুবারকে পত্র লিখতে বিরত থাকার কারণও ওই আমার কষ্টের আশঙ্কা। আর আপনার এ আশঙ্কার কারণ কেবলই আমার প্রতি মহব্বত। এ মহব্বতের হক আদায় করা নিজের জিম্মাদারি মনে করছি। তাই আপনাকে এ বিষয়ে অবগত করে দুশ্চিন্তামুক্ত করতে চাই যে, অনুভূতিশূন্য হওয়ার কারণে আমি এমন অপেক্ষায় থাকি না। আর যিকির-আযকার কম করি বিধায় রমযানে পত্র যোগাযোগে আমার কোনো কষ্ট হয় না।

নিবেদন : তাসহীলে কসদুস সাবীল পাঠ করে প্রথমে অন্তরে যে প্রভাব পড়েছে তা হলো, পথ খুব কঠিন মনে হলো। দ্বিতীয় যে বিষয়টি বুঝে এলো তা হলো, এ পুস্তিকায় ফিকহের যে মাসায়েল আলোচিত হয়েছে তা আমার কাছে তাহকীকের দাবি রাখে। আমি বিষয়টি সুস্পষ্টই উল্লেখ করলাম। সত্যের বেলায় আল্লাহ লজ্জা বোধ করেন না।

জবাব : তাসহীলে কসদুস সাবীল পড়ে পথ কঠিন মনে হওয়া এবং ফিকহী মাসায়েলগুলোতে তাহকীকের প্রয়োজন মনে করার বিষয়টি আমাকে অবগত করার দ্বারা উদ্দেশ্য যদি চিঠি-পত্রের পর্ব সমাপ্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে

صلاح ماہمہ آنست كاں تراست صلاح

আমার ভালো তাতেই যা আপনি ভালো মনে করেন।

আর যদি উদ্দেশ্য হয় চিঠির বিষয় অবগত করা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করা, তাহলে কিছুটা বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। অর্থাৎ এ পথে কোন বিষয়টি কঠিন মনে হয়েছে এবং কোন মাসআলা দূরত্বের কারণ হয়েছে তা সুস্পষ্ট হওয়া জরুরি। যেন জবাব প্রদানের নির্দেশ পালন করতে পারি।

নিবেদন : রমযানুল মোবারকের শেষ দশকে সেহরী ও ফযরের নামাযের পর কিছু সময় ঘুমাতাম। এ সময়ের ঘুমে দুটি স্বপ্ন দেখেছি। একবার দেখলাম, আমি মাদ্রাজে আছি। হযরতওয়ালাও সাথি-সঙ্গীসহ মাদ্রাজে অবস্থান করছেন। আপনার হাতে অনেক বড় একটি তসবীহ। আপনার সঙ্গী মাওলানা যফর আহমদ সাহেব আলাদা এক জায়গায় বসা ছিলেন। বেশ-ভূষা ও দাড়ির ছাট ছিল পাঞ্জাবিদের মতো। তিনি আমার সঙ্গে উর্দু সাহিত্য প্রসঙ্গে কিছু কথাবার্তা বললেন। আপনার অপর এক সাথি, যাকে বয়সে দুর্বল মনে হলো, তিনি মুসল্লা বিছিয়ে অত্যন্ত বিনয়াবনত অবস্থায় নামাযে মগ্ন ছিলেন। জানতে পারলাম, তিনি হযরতওয়ালার খাস খাদেম।

এর দুদিন পর ২৩ রমযান ঠিক ওই সময়েই স্বপ্ন দেখলাম, আমি রেলে কোথাও যাচ্ছি। এক জায়গায় এসে রেল থামল। জানতে পারলাম, এটা থানাভবন। তখন নেমে যেতে মন চাইল। নেমে গেলাম। সামানপত্র নিয়ে আপনার খেদমতে হাজির হলাম। আপনি বললেন, এখানে তো থাকতে পারবেন না, জায়গা নেই।

আমি নিবেদন করলাম, আমার থাকার ব্যাপারে চিন্তা করবেন না। পথে একটি মসজিদ দেখেছি। ওখানে থাকতে পারব।

জবাব : উভয় স্বপ্নই রুচিবোধের দৃষ্টিতে সুসংবাদ বহন করছে। তবে ইলমের কমতির কারণে নিয়মমাফিক ব্যাখ্যা করতে অপারগ।

নিবেদন : আমি এক অবস্থায় অবিচল থাকতে পারি না। এ নিয়ে আমার খুবই দুশ্চিন্তা হয়। আমার অবস্থা হলো :

گہے برطارم اعلیٰ نشینم

گہے برپشت پائے خود نہ بینم

কভু সপ্তাকাশের ঊর্ধ্বে বিচরণ

আর কভু পদতলের ব্যাপারেও বে-খবর।

এর জন্য দুআ করবেন।

জবাব : এস্তেকামত ও অবিচলতার বিষয়ে যা লিখেছেন, তার মতো সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেই পূর্বের চিঠিতে নিবেদন করেছি যে, পালনীয় বা মূল উদ্দেশ্য হলো افعال বা কর্ম। انفعالات বা নিজ থেকে উদয় হওয়া প্রতিক্রিয়া নয়।… এ প্রসঙ্গে যা নিবেদন করেছি তা সংক্ষিপ্ত মনে হলে বিস্তারিত নিবেদন করতে পারি। আর ভাইদের জন্য দুআ করা তো নিজের সৌভাগ্য মনে করি।

নিবেদন : আমার জন্য মুনাসিব কোনো দুআ বা ওযীফা বাতলে দেবেন।

জবাব : আমার দৃষ্টিতে তরবিয়তের ক্ষেত্রে ওযীফা নির্বাচনের প্রসঙ্গটি যে বিষয়ে এখন আলোচনা চলছে তার পরের স্তরে আসে। সামনে যে নির্দেশ করবেন আমি তা পালনে প্রস্তুত আছি।

নিবেদন : মৌলভী আব্দুল হাই সাহারানপুরী সাহেব রহ. জীবনের শেষ মুহূর্তে আপনার একটি পুস্তিকা পাঠিয়েছেন। নাম আয়নায়ে তরবিয়ত। এর দু-তিনদিন পর তার ইন্তেকালের সংবাদ পেয়েছি। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

ওয়াসসালাম

জবাব : আয়নায়ে তরবিয়ত মাওলানার স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু এটা সংক্ষিপ্ত সূচিমাত্র। বিস্তারিত বিষয় অধ্যয়নের পর স্মরণে রাখার জন্য এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে মাত্র। বিস্তারিত বিবরণ এসেছে তারবিয়াতুস সালিক-এ। বিষয়টি অবগতির জন্য নিবেদন করলাম।

ওয়াসসালাম

থানাভবন থেকে

২৯ শাওয়াল ১৩৪৮ হি.

Avatar

zobayer

একটি কমেন্ট করুন